ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

আজ ৬ ঘণ্টা টোলমুক্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে


আজ ৬ ঘণ্টা টোলমুক্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলমুক্ত থাকবে ছয় ঘণ্টার জন্য। অনুমোদিত সব যানবাহন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টোল ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। এরপর পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী টোল আদায় শুরু হবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনের কাছ থেকে কোনো টোল নেওয়া হবে না।

বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়ের টোল যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে কার, ট্যাক্সি, এসইউভি, ১৬ আসনের কম মাইক্রোবাস ও তিন টনের কম ওজনের হালকা ট্রাকের জন্য টোল ৮০ টাকা। ১৬ আসন বা তার বেশি আসনের বাসের জন্য ১৬০ টাকা, ছয় চাকার মাঝারি ট্রাকের জন্য ৩২০ টাকা এবং ছয় চাকার বেশি ভারী ট্রাকের জন্য ৪০০ টাকা টোল দিতে হয়।

আরও পড়ুন: আলা হযরতের দর্শন সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতিতে জরুরি: কনফারেন্সে বক্তাদের মতামত

তবে, রিকশা, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ দুই ও তিন চাকার যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ে চলাচলের জন্য নিষিদ্ধ। টোলমুক্ত সুবিধার সময়েও এসব যানবাহনের জন্য নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরসংলগ্ন কাওলা থেকে ফার্মগেটের তেজগাঁও পর্যন্ত অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই অংশে যানবাহন চলাচল করছে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাওলা থেকে তেজগাঁও, মগবাজার ও কমলাপুর হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কথা রয়েছে। তবে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি।

আরও পড়ুন: প্রকাশ্যে জাতীয় সংগীত অবমাননা করলেন পরীমণি, শাস্তি কী হবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের দাবি বিজেপি এমপি নিশিকান্তের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের দাবি বিজেপি এমপি নিশিকান্তের

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে মন্তব্য করেছেন যে, শুধু পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর নয়, বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দরও ‘পুনরুদ্ধার’ করা উচিত। তার দাবি, দেশভাগের সময় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নীতির কারণে এসব অঞ্চল পাকিস্তানের হাতে চলে যায়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঝাড়খন্ডের গোড্ডা আসনের এই লোকসভা সদস্য এসব বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

নিশিকান্ত দুবে বলেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর একসময় ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। তিনি দাবি করেন, দেশভাগের সময় তৎকালীন রাজা বীর বিক্রম সিংয়ের আপত্তি উপেক্ষা করে নেহরু এসব অঞ্চল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা নেহরুকে প্রশ্ন করেছিলেন, কোন অধিকারে তিনি তার রাজ্যের ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রাজা বলেছিলেন, ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, পাকিস্তানে যাওয়া কিংবা স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন।

বিজেপির এই নেতা বলেন, ‘নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর তিনটিই ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ। নেহরুকে রাজা প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে তিনি নোয়াখালী পাকিস্তানকে দিতে পারেন কিংবা সিলেট ও চট্টগ্রামে গণভোট করাতে পারেন? তিনি বলেছিলেন, এটা আমার রাজ্য। আমিই ঠিক করব ভারতের সঙ্গে থাকব, পাকিস্তানে যাব নাকি স্বাধীন থাকব।’

নিশিকান্ত আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে সরদার বল্লভভাই প্যাটেল সেনা পাঠানোর পর ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন মহারানি কাঞ্চনপ্রভা দেবী ভারত অন্তর্ভুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেন, ওই সময় নেহরু নোয়াখালীর পরিস্থিতির দিকে যথাযথ নজর না দিয়ে মুসলিম লীগকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। তার দাবি, ১৫ অক্টোবর এক দিনেই নোয়াখালীতে ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও নেহরু সেখানে যাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পেছনেও চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ না থাকাকে দায়ী করেন নিশিকান্ত। তার মতে, বন্দরটি ভারতের হাতে থাকলে ওই অঞ্চলের খনিজ ও গ্যাসসম্পদ ব্যবহারের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থারও উন্নয়ন সম্ভব হতো।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল যে পিছিয়ে রয়েছে, সেখানকার খনিজ সম্পদ এবং মজুত গ্যাসের সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ওই তল্লাটে এখনো যদি বিচ্ছিন্নতাবোধ টিকে থাকে, তাহলে তার একমাত্র কারণ হলো চট্টগ্রাম বন্দর হাতে না থাকা। তাই সময় এসেছে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধার করার।’

সিলেটের গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামকে নিয়েও অভিযোগ করেন বিজেপির এই সংসদ সদস্য। তার দাবি, বাহারুল ইসলাম মুসলিম লীগ রেড আর্মির সদস্য ছিলেন এবং নোয়াখালীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে রাজ্যসভার সদস্য এবং হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বানিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিশিকান্ত দুবের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের বংশধর ও তিপ্রা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দেশভাগের সময় তার দাদিকে অন্ধকারে রেখে ত্রিপুরার একটি বিশাল অংশ পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল ঐতিহাসিক ভুল।

প্রদ্যোৎ আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকলে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে ভারতকে এতটা দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো না।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন নিশিকান্ত দুবে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের কাটিহার ও কিষানগঞ্জ নিয়ে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি জানিয়েও বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। এ ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগের ক্ষেত্রেও অভিযোগকারী হিসেবে তাঁর নাম সামনে এসেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনের জোনাব বাহিনীর প্রধান জোনাব আলী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


সুন্দরবনের জোনাব বাহিনীর প্রধান জোনাব আলী আটক

এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কম্পানির একটি আভিযানিক দল সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব’ বাহিনীর প্রধান জোনাব আলীকে আটক করেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ১১টার সময় খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটক হওয়া জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর পুত্র।

এসআরবি-৬-এর সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিয়মিত মামলার আসামি, বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে এসআরবি-৬ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান করেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান করেন প্রধানমন্ত্রী

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হয়েছেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত রয়েছেন।

এর আগে সকালে ৮টার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি তার বাবা ও মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানানো শেষে দলীয় প্রধান হিসেবে অন্য নেতাদের নিয়ে তিনি আবারও শ্রদ্ধা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুলতানি আমলের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


সুলতানি আমলের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে

সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম আমলের সাক্ষী হিসেবে বেশ কিছু রাজকীয় স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। অনেক ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে যে, স্থানীয় জনশূন্যতার কাল শেষ হওয়ার পর মানুষ জঙ্গল কেটে কিংবা মাটি খুঁড়ে এসব রাজকীয় স্থাপনা উদ্ধার করেছে। নির্মাতা, নির্মাণকাল এবং নির্মাণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকায় মানুষ এসব স্থাপনাকে ‘গায়েবি’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের কৌতূহল নিবৃত্ত করেছে। পুকুর বা দিঘির ক্ষেত্রেও মানুষ এই ‘গায়েবি’ শব্দ ব্যবহার করেছে। সিলেট অঞ্চলে আজও এসব স্থাপনা বা জলাশয় ‘গায়েবি’ নামেই পরিচিত।

এ কথাটি অমূলক নয়। জনশূন্যতার কারণে গায়েবি স্থাপনা বা জলাশয়গুলো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল এবং ক্রমশ জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে উঠেছিল। স্থাপনাগুলোতে আবর্জনা ও মাটির স্তরও জমেছিল। আক্ষরিক অর্থেই মানুষ জঙ্গল কেটে কিংবা মাটি সরিয়ে এগুলোকে বের করে এনেছিল। প্রকাশ্যে আসার পর এগুলোর উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু গায়েবি পরিচয়টি আর কখনোই মুছে যায়নি।

সিলেটের এমন গায়েবি স্থাপনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হচ্ছে ওসমানীনগর উপজেলার উছমানপুর গ্রামে অবস্থিত গায়েবি মসজিদ। এই মসজিদটি দেখতে এতটাই রাজকীয় যে, কোনো নবাব-সুলতান বা দেওয়ান-ফৌজদার ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এটি নির্মাণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মসজিদটি এক গম্বুজের। গম্বুজটির আকৃতি বিশাল। এটি মসজিদের ছাদজুড়ে বিস্তৃত। গম্বুজের চূড়া ভূমি থেকে বেশ উঁচুতে। এত বড় ও উঁচু গম্বুজ নির্মাণের মূল কারণ বোধ হয় এটাই যে, মসজিদের নির্মাতা ভেতরে কোনো আর্চ বা খিলান নির্মাণে ইচ্ছুক ছিলেন না। ভেতরে একটি খিলান থাকলে ছাদের উপর দুটি এবং দুটি খিলান থাকলে ছাদে তিনটি গম্বুজ বসানো যেত। খিলান বাদ দেওয়ায় একটি বড় গম্বুজ নির্মাণ করেই মসজিদটির ছাদ পূর্ণ করতে হয়েছে। মসজিদের চার কোনায় নির্মিত চারটি মিনার এর সৌন্দর্য অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মসজিদের ভেতরের কারুকাজ অসাধারণ। যদিও সাম্প্রতিক সংস্কারকাজের ফলে আগের আমলের কারুকাজের অনেকটাই হারিয়ে গেছে, তবু যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তা থেকে নির্মাতার উন্নত রুচি ও শৈল্পিক মনের পরিচয় স্পষ্টভাবেই ফুটে ওঠে। ভেতরের দেয়ালের পাশাপাশি বাইরের দেয়ালেও কিছু কারুকাজ রয়েছে, যা মসজিদটির বাইরের চেহারাকে অনেক আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দেয়ালটির পুরুত্ব রীতিমতো বিস্ময়কর। প্রবেশদ্বার ও আলোকদ্বারগুলো থেকে এর পুরুত্বের ধারণা পাওয়া যায়। পূর্ব পাশের প্রবেশদ্বার বা দেয়ালের ভেতরে দাঁড়িয়ে একজন লোকের পক্ষে অনায়াসে নামাজ আদায় করা সম্ভব। উত্তর ও দক্ষিণ পাশের দেয়ালও একই রকম পুরু।

মসজিদটির কোনো শিলালিপি উদ্ধার না হওয়ায় এটি কবে নির্মিত হয়েছে, তা কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। তবে কাছাকাছি কিছু সূত্র থেকে এর নির্মাণকাল সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এই মসজিদ থেকে সাত-আট কিলোমিটার দূরে পশ্চিম তিলাপাড়া মসজিদে একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে। পশ্চিম তিলাপাড়ায় সুলতানি আমলের শেষ দিকে একটি রাজকীয় মসজিদ নির্মিত হয়েছিল এবং শিলালিপিটি সেই মসজিদেরই প্রতিষ্ঠাফলক। মসজিদটি এখন আর নেই। এর স্থলে নতুন মসজিদ নির্মিত হয়েছে। শিলালিপিটি এই নতুন মসজিদেই সংরক্ষিত আছে। এতে উল্লিখিত সাল ১৪৭৯। তখন বাংলার সুলতান ছিলেন শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ। তার আমলে পশ্চিম তিলাপাড়ায় রাজকীয় মসজিদ নির্মাণের ঘটনা থেকে ধারণা করা যায়, নিকটবর্তী উছমানপুর গ্রামের গায়েবি মসজিদটিও সুলতানি আমলেই নির্মিত হয়েছিল।

যেহেতু সিলেটের মুসলিম আমলের ইতিহাস প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেহেতু সেই ইতিহাস থেকে এই মসজিদের বৃত্তান্ত জানার কোনো সুযোগ নেই। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং সার্বিক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই মসজিদ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান তথ্য উদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভূক্ত না হওয়ায় মসজিদটি নিয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও পর্যালোচনা হচ্ছে না।

কিন্তু এর আগেই মসজিদটির বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর একটি বড় মসজিদ প্রয়োজন। তারা আধুনিক ও বড় মসজিদ নির্মাণ করতে চান। প্রাচীন মসজিদটিকে মাঝখানে রেখে তিন পাশ দিয়ে এই নতুন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে প্রাচীন মসজিদটি তিন দিক থেকে—পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ—নতুন মসজিদের আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এভাবে নতুন মসজিদের সঙ্গে প্রাচীন মসজিদকে যুক্ত করতে গেলে কিছু প্রাচীন নমুনা বিনষ্ট হতে পারে। এমনকি নির্মাণকাজের কারণে প্রাচীন মসজিদের মূল কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের একটি অংশ চান, প্রাচীন মসজিদ থেকে দূরে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হোক। তাদের মতে, প্রাচীন মসজিদকে মাঝখানে রেখে নতুন মসজিদ নির্মিত হলে প্রাচীন মসজিদের স্বকীয়তা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি এর ভেতরের ও বাইরের কাঠামোরও অনেক ক্ষতি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে অপর পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মসজিদের পূর্বপাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মক্তবের জন্য নির্ধারিত। তাই তারা সেখানে মসজিদ নির্মাণে অনিচ্ছুক। মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি, মক্তবের জায়গা ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় পুরোনো মসজিদের পূর্বপাশের কিছু জায়গা এবং উত্তর ও দক্ষিণ পাশের খালি জায়গা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মসজিদের দুই পাশে (উত্তর ও দক্ষিণ) নতুন কমপ্লেক্স নির্মিত হলে প্রাচীন মসজিদটি যাতে পুরোপুরি আড়ালে পড়ে না যায়, সে জন্য উত্তর পাশের কমপ্লেক্সে কাচের দেয়াল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতেও শঙ্কা কাটছে না। মসজিদ কমিটির দাবি, কাচের দেয়াল নির্মিত হলে এর ভেতর দিয়ে রাস্তা (তাজপুর-বালাগঞ্জ সড়ক) থেকে প্রাচীন মসজিদটি দেখা যাবে। কিন্তু এতেও প্রাচীন মসজিদটি আড়ালে পড়ে যাওয়ার এবং এর সৌন্দর্যহানি ঘটার আশঙ্কা কাটছে না। এ নিয়ে স্থানীয়রা অনেকটাই দ্বিধাবিভক্ত।

সম্প্রতি সিলেট শহরের একটি নাগরিক প্রতিনিধিদল উছমানপুর গ্রাম সফর করেছে এবং গ্রামবাসীকে অনুরোধ করেছে, নতুন মসজিদ নির্মাণের সময় এই মূল্যবান প্রত্নসম্পদটির যেন কোনো ক্ষতি না হয়। নাগরিক প্রতিনিধিদলের এই সফরে ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, ভাষাসৈনিক মতিন উদদীন আহমদ জাদুঘরের পরিচালক মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ ট্রাস্টের সেক্রেটারি আব্দুল করিম চৌধুরী কিম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দীপন, ইতিহাস গবেষক আসিফ আযহার, দৈনিক যুগভেরীর সাংবাদিক আব্দুর রহমান হীরা এবং আরো কয়েকজন সাংবাদিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%