প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে মন্তব্য করেছেন যে, শুধু পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর নয়, বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দরও ‘পুনরুদ্ধার’ করা উচিত। তার দাবি, দেশভাগের সময় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নীতির কারণে এসব অঞ্চল পাকিস্তানের হাতে চলে যায়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঝাড়খন্ডের গোড্ডা আসনের এই লোকসভা সদস্য এসব বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
নিশিকান্ত দুবে বলেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর একসময় ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। তিনি দাবি করেন, দেশভাগের সময় তৎকালীন রাজা বীর বিক্রম সিংয়ের আপত্তি উপেক্ষা করে নেহরু এসব অঞ্চল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা নেহরুকে প্রশ্ন করেছিলেন, কোন অধিকারে তিনি তার রাজ্যের ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রাজা বলেছিলেন, ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, পাকিস্তানে যাওয়া কিংবা স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন।
বিজেপির এই নেতা বলেন, ‘নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর তিনটিই ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ। নেহরুকে রাজা প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে তিনি নোয়াখালী পাকিস্তানকে দিতে পারেন কিংবা সিলেট ও চট্টগ্রামে গণভোট করাতে পারেন? তিনি বলেছিলেন, এটা আমার রাজ্য। আমিই ঠিক করব ভারতের সঙ্গে থাকব, পাকিস্তানে যাব নাকি স্বাধীন থাকব।’
নিশিকান্ত আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে সরদার বল্লভভাই প্যাটেল সেনা পাঠানোর পর ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন মহারানি কাঞ্চনপ্রভা দেবী ভারত অন্তর্ভুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেন, ওই সময় নেহরু নোয়াখালীর পরিস্থিতির দিকে যথাযথ নজর না দিয়ে মুসলিম লীগকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। তার দাবি, ১৫ অক্টোবর এক দিনেই নোয়াখালীতে ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও নেহরু সেখানে যাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পেছনেও চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ না থাকাকে দায়ী করেন নিশিকান্ত। তার মতে, বন্দরটি ভারতের হাতে থাকলে ওই অঞ্চলের খনিজ ও গ্যাসসম্পদ ব্যবহারের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থারও উন্নয়ন সম্ভব হতো।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল যে পিছিয়ে রয়েছে, সেখানকার খনিজ সম্পদ এবং মজুত গ্যাসের সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ওই তল্লাটে এখনো যদি বিচ্ছিন্নতাবোধ টিকে থাকে, তাহলে তার একমাত্র কারণ হলো চট্টগ্রাম বন্দর হাতে না থাকা। তাই সময় এসেছে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধার করার।’
সিলেটের গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামকে নিয়েও অভিযোগ করেন বিজেপির এই সংসদ সদস্য। তার দাবি, বাহারুল ইসলাম মুসলিম লীগ রেড আর্মির সদস্য ছিলেন এবং নোয়াখালীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে রাজ্যসভার সদস্য এবং হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বানিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিশিকান্ত দুবের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের বংশধর ও তিপ্রা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দেশভাগের সময় তার দাদিকে অন্ধকারে রেখে ত্রিপুরার একটি বিশাল অংশ পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল ঐতিহাসিক ভুল।
প্রদ্যোৎ আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকলে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে ভারতকে এতটা দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো না।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন নিশিকান্ত দুবে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের কাটিহার ও কিষানগঞ্জ নিয়ে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি জানিয়েও বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। এ ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগের ক্ষেত্রেও অভিযোগকারী হিসেবে তাঁর নাম সামনে এসেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন