১০:৩৪ এম
রাজধানী ঢাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে রুট দুটির বিস্তারিত নকশা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান মন্তব্য করেন, প্রস্তাবিত মনোরেল ব্যবস্থা রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের চলাচলকে সহজতর করবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় যাত্রীদের চাহিদা বেশি, সেসব এলাকার চলাচল আরো সহজ হবে।
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত মনোরেল রুটগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান এবং পরিকল্পনায় থাকা মেট্রো রেল ও অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে মেট্রো রেলের যাত্রীদের গন্তব্যের শেষ অংশে যাতায়াত সহজ করতে এসব সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: ববি হাজ্জাজ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শকেরা ইতোমধ্যে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এখন বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কারিগরি, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত দুটি রুট নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা, সম্ভাব্য সুফল এবং আর্থিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ডিটিসিএ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলের মডেল ভিত্তিক সমীক্ষা পরিচালনা করে যাত্রী চাহিদা নিরূপণ করেছে। পরে বিশ্লেষণের জন্য এসব তথ্য বুয়েটের পরামর্শকদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর অঞ্চলে গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেল রুটের সমন্বয় এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ডিটিসিএ ‘কনসালট্যান্সি সার্ভিস ফর প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি অব মনোরেল অ্যালাইনমেন্ট ইন্টিগ্রেশন উইথ মাস ট্রানজিট নেটওয়ার্কস ইন ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিয়ন’ শীর্ষক পরামর্শক চুক্তি করেছে।
আরও পড়ুন: বিএনপির শোভাযাত্রা উপলক্ষে নয়াপল্টনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিস্তারিত নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রস্তাবিত দুটি মনোরেল রুটের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নে সরকার রাজস্ব বাজেট থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
এ সমীক্ষার লক্ষ্য হলো ঢাকায় মনোরেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা এবং বিদ্যমান ও পরিকল্পনায় থাকা মেট্রো রেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে এর কার্যকর সংযোগের উপায় নির্ধারণ করা।
হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (আরএসটিপি) প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল রুটের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রুট তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন এবং পুরো সমীক্ষা ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাশেদ খান: ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব
গণপরিবহন ব্যবস্থার এমআরটি লাইনগুলোতে ফিডার সার্ভিস হিসেবে বাস চলাচলের সুযোগ সীমিত—এমন এলাকাগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত রুটগুলো হলো পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার)।
এছাড়া প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত ৯টি স্টেশনসহ মনোরেল-৮, আলুব্দী থেকে পশ্চিম আগারগাঁও অথবা শ্যামলী পর্যন্ত ১০টি স্টেশনসহ মনোরেল-১০ এবং পল্টন থেকে সদরঘাট অথবা ঝিলমিল পর্যন্ত ৬ বা ১১টি স্টেশনসহ মনোরেল-১৩ এর কথা উল্লেখ রয়েছে।
বুয়েটের এক পরামর্শক জানান, মহানগর এলাকার জন্য প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে তারা বিভিন্ন এলাকার জনসংখ্যা, স্টেশনগুলোর সম্ভাব্য যাত্রী-আকর্ষণ এলাকা, গণপরিবহন সেবার অপ্রাপ্যতা, যানজটপূর্ণ এলাকা, ডিপো নির্মাণের জন্য জমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ পর্যালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের দুবলার চরে পর্যটক রিয়াজ আহমেদ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান চলছে
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত মনোরেল ব্যবস্থা রাজধানীতে সমন্বিত, দক্ষ এবং টেকসই গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এ সমীক্ষায় রুটের অবস্থান, সম্ভাব্য স্টেশন ও ডিপোর স্থান, যাত্রীচাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।
মনোরেল হলো সেই পরিবহন ব্যবস্থা, যা উড়াল কাঠামোর ওপর দিয়ে চলাচল করে। তাই ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে, যেখানে সড়কের জায়গা সীমিত এবং অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রচলিত গণপরিবহন অবকাঠামো নির্মাণ কঠিন হতে পারে, সেখানে এ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা যাচাই করছে ডিটিসিএ।
সমীক্ষায় নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক যৌক্তিকতাও মূল্যায়ন করা হবে। এ কাজে দেশীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবে করবেন
রাজধানীর যানজট কমানো এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ঢাকায় মনোরেল চালুর এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন