আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০৩:১২ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের মোটের বাজার এলাকার ঋষিপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ওই নারীর নাম কিরু রানী ঋষি (৪৬)। তিনি মোটের বাজার ঋষিপাড়া এলাকার মৃত মিলন ঋষির স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার এসআই কামরুল। এ সময় এএসআই পিন্টু তালুকদার, এএসআই মোস্তাইনসহ নারী পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা মোটের বাজারের ঋষিপাড়া থেকে কিরু রানী ঋষিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলায় আদালত দুই বছরের সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর শনিবার (৭ নভেম্বর) তাকে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস নেওয়া হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে কলেজের সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ এম.এম. মুজিবুর রহমান মুজিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ এম.এম. মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনের ঐতিহাসিক পটভূমি, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বাধীনতার চেতনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশের অগ্রযাত্রায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ কবিরুল আলম, সহকারী অধ্যাপক লাকিবুর রহমান মিয়া ও প্রভাষক মো. শাকিল হোসেন। বক্তারা দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করা এবং জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রভাষক মো. বাবুল শিকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তা, মনন ও লেখনীর মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে। আলোচনা সভা শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডির বাইরে ইতিহাসচর্চায় আগ্রহী করা, সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ এবং দেশপ্রেম ও জাতীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সুধীজনেরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আহসান কবীর, সাধারণ সম্পাদক এইচএম দীন মোহাম্মদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাফিউল আজম দুলাল,সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুজ্জামান মিয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণকান্ত নাথ, সহকারী অধ্যাপক মোঃ আখতারুজ্জামান এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউএনও রেহেনা আক্তার বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ঐতিহাসিক এ দিনের চেতনা ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় কাউখালীতে সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম আহসান কবীর ও সাধারণ সম্পাদক এইচএম দীন মোহাম্মদ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ৭ নভেম্বর বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐক্যের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে চরম সংকট থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করার যে শিক্ষা এ দিন আমাদের দেয়, তা ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের উপলক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে তাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এই সময় রাষ্ট্রপতি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে, সকালে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধি জিয়ারত করেন। পরে তারা ফাতিহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল জগতের তিনটি মহাতারকা। তিনটি ভিন্ন দেশ, তিন ধরনের ফুটবলশৈলী। তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোলের গল্পে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল দেখা যাচ্ছে। তিনজনই জাতীয় দলের হয়ে তাদের শেষ গোলটি করেছেন পেনাল্টি থেকে।
যারা একসময় ফুটবলবিশ্বকে তাদের পায়ের জাদু দিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় তাদের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ে বিদায়ের সুরও বেজে উঠেছে। পাঁচ মাসের ব্যবধানে তাদের জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত যেন একটি স্বর্ণালি ফুটবল যুগের সমাপ্তির বার্তা দিচ্ছে।
এই তিন তারকার বিদায়ের গল্পে প্রথমেই উঠে আসে নেইমারের নাম। ব্রাজিলের জার্সিতে দীর্ঘকাল আলো ছড়ানো এই ফরোয়ার্ডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি ছিল পেনাল্টি থেকে। বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সেই গোলটি করলেও তিনি শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। এরপর ২৮ জুলাই জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
এরপর আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি বিদায়ের ঘোষণা দেন। ৩১ আগস্ট জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানান আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার। দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে অ্যাসিস্টের পাশাপাশি পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। ফলে জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ গোলটিও আসে স্পটকিক থেকে।
সবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৫ নভেম্বর পর্তুগালের জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানান এই তারকা। পর্তুগালের হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোলটিও এসেছে পেনাল্টি থেকে, নেশন্স লিগে।
তিনজনের ফুটবলীয় দর্শন ছিল ভিন্ন। নেইমার পরিচিত ছিলেন তার নান্দনিক ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতার জন্য। মেসি বল পায়ে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস ও গোল করার দক্ষতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে। অন্যদিকে রোনালদো তার পরিশ্রম, গোলক্ষুধা, শারীরিক সক্ষমতা ও অদম্য মানসিকতা দিয়ে গড়েছেন অনন্য এক ক্যারিয়ার।
একসময় এই তিন তারকাকে ঘিরেই ফুটবলবিশ্বের বড় বড় আলোচনা চলত। কে সেরা, কার গোল বেশি, কার শিরোপা বেশি কিংবা কার পায়ের জাদু সবচেয়ে আকর্ষণীয়—এসব বিতর্কে বিভক্ত থাকতেন সমর্থকেরা। এখন সেই বিতর্কের জায়গা নিচ্ছে তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতি ও অর্জনের আলোচনা।
তাদের জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর মাধ্যমে ফুটবলে একটি বিশেষ সময়ের অবসান ঘটছে। নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা হয়তো ভবিষ্যতে তাদের রেকর্ড ভাঙবেন, নতুন ইতিহাসও গড়বেন। তবে একই সময়ে মেসি, রোনালদো ও নেইমারের মতো তিন তারকার আধিপত্য, জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের পুনরাবৃত্তি সহজ হবে না।
ফুটবল চলবে, নতুন তারকার জন্ম হবে, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তৈরি হবে। কিন্তু মেসির বাঁ পায়ের জাদু, রোনালদোর গোল উদ্যাপন এবং নেইমারের নান্দনিক ড্রিবলিং এই তিন তারকার সম্মিলিত উপস্থিতির স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে থেকে যাবে দীর্ঘদিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ