০৪:০৪ পি.এম
ফুটবল জগতের তিনটি মহাতারকা। তিনটি ভিন্ন দেশ, তিন ধরনের ফুটবলশৈলী। তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোলের গল্পে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল দেখা যাচ্ছে। তিনজনই জাতীয় দলের হয়ে তাদের শেষ গোলটি করেছেন পেনাল্টি থেকে।
যারা একসময় ফুটবলবিশ্বকে তাদের পায়ের জাদু দিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় তাদের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ে বিদায়ের সুরও বেজে উঠেছে। পাঁচ মাসের ব্যবধানে তাদের জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত যেন একটি স্বর্ণালি ফুটবল যুগের সমাপ্তির বার্তা দিচ্ছে।
এই তিন তারকার বিদায়ের গল্পে প্রথমেই উঠে আসে নেইমারের নাম। ব্রাজিলের জার্সিতে দীর্ঘকাল আলো ছড়ানো এই ফরোয়ার্ডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি ছিল পেনাল্টি থেকে। বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সেই গোলটি করলেও তিনি শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। এরপর ২৮ জুলাই জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
আরও পড়ুন: খাজা বল টেম্পারিংয়ে পুরো অস্ট্রেলিয়া দল জড়িত ছিল বলে দাবি করেছেন
এরপর আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি বিদায়ের ঘোষণা দেন। ৩১ আগস্ট জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানান আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার। দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে অ্যাসিস্টের পাশাপাশি পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। ফলে জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ গোলটিও আসে স্পটকিক থেকে।
সবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৫ নভেম্বর পর্তুগালের জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানান এই তারকা। পর্তুগালের হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোলটিও এসেছে পেনাল্টি থেকে, নেশন্স লিগে।
তিনজনের ফুটবলীয় দর্শন ছিল ভিন্ন। নেইমার পরিচিত ছিলেন তার নান্দনিক ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতার জন্য। মেসি বল পায়ে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস ও গোল করার দক্ষতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে। অন্যদিকে রোনালদো তার পরিশ্রম, গোলক্ষুধা, শারীরিক সক্ষমতা ও অদম্য মানসিকতা দিয়ে গড়েছেন অনন্য এক ক্যারিয়ার।
একসময় এই তিন তারকাকে ঘিরেই ফুটবলবিশ্বের বড় বড় আলোচনা চলত। কে সেরা, কার গোল বেশি, কার শিরোপা বেশি কিংবা কার পায়ের জাদু সবচেয়ে আকর্ষণীয়—এসব বিতর্কে বিভক্ত থাকতেন সমর্থকেরা। এখন সেই বিতর্কের জায়গা নিচ্ছে তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতি ও অর্জনের আলোচনা।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ‘ফাইনাল কাণ্ডে’ আর্জেন্টাইন তারকা মলিনার শাস্তি কমল
তাদের জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর মাধ্যমে ফুটবলে একটি বিশেষ সময়ের অবসান ঘটছে। নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা হয়তো ভবিষ্যতে তাদের রেকর্ড ভাঙবেন, নতুন ইতিহাসও গড়বেন। তবে একই সময়ে মেসি, রোনালদো ও নেইমারের মতো তিন তারকার আধিপত্য, জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের পুনরাবৃত্তি সহজ হবে না।
ফুটবল চলবে, নতুন তারকার জন্ম হবে, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তৈরি হবে। কিন্তু মেসির বাঁ পায়ের জাদু, রোনালদোর গোল উদ্যাপন এবং নেইমারের নান্দনিক ড্রিবলিং এই তিন তারকার সম্মিলিত উপস্থিতির স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে থেকে যাবে দীর্ঘদিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন