০৪:০৮ পি.এম
মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ ইউরোপজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে মহাদেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি হয়ে গেছে।
একই সময়ে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ১৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এই সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা ইউরোপের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আনাদোলু এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের প্রায় ২০টি দেশ এবং ২৩৪টি অঞ্চলে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে ইতালি সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে, যেখানে ৭৮০ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ
গ্রিস আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ৪৬৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া, ফ্রান্সে ১৮০ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ পাওয়া গেছে।
নেদারল্যান্ডসে, চলতি বছরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউট (আরআইভিএম) জানিয়েছে, সেখানে ৭৭ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মূলত সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। বিশেষ করে কিউলেক্স প্রজাতির মশা এ ভাইরাসের প্রধান বাহক। মানুষের জন্য এ ভাইরাসের কোনো টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশের শরীরে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে প্রায় ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে জ্বর, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: এক সপ্তাহে তৃতীয়বার ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলোতে বোমা হামলার হুমকি
সাধারণত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বেড়ে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে। ভাইরাসটির উৎপত্তি আফ্রিকায়, পরে এটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন