ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

৭ নভেম্বর: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদলীয় শাসন থেকে মুক্তির দিন


৭ নভেম্বর: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদলীয় শাসন থেকে মুক্তির দিন

৭ নভেম্বর নিয়ে দেড় যুগ ধরে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। এমনকি সাধারণ ছুটির সরকারি তালিকা থেকেও ৭ নভেম্বরকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে এ দিনটি নিয়ে কোনো আলোচনা বা কথাবার্তা না হয়।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন এ দিনটির প্রতি এত বিরাগ? ৭ নভেম্বর কি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি সংখ্যা? আসলেই কি এটি সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব? ৭ নভেম্বর কি অনিবার্য ছিল? এই বিপ্লবের নির্মোহ বিশ্লেষণ কতটুকু হয়েছে এতদিন?

একটু পেছন থেকে শুরু করা যাক। ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন। যেকোনো হত্যাকাণ্ডই মর্মান্তিক, এটি বলাই বাহুল্য। কিন্তু দেশের জনগণ, এমনকি তার দলও সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়নি। পরদিনের পত্রিকাগুলোর শিরোনামেও অবিসংবাদিত নেতৃত্বের গুণগান তো দূরের কথা, সাদামাটা শোকগাথাও প্রকাশিত হয়নি। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সরকারনিয়ন্ত্রিত দুটি বাংলা ও দুটি ইংরেজি পত্রিকার সংখ্যা ছিল চারটি। সেদিন ইত্তেফাকের শিরোনাম ছিল ‘খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর শাসন ক্ষমতা গ্রহণ’। পত্রিকাটির প্রথম পাতার প্রথম কলামে প্রকাশিত সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল ‘ঐতিহাসিক নবযাত্রা’। দৈনিক বাংলার শিরোনাম ছিল ‘খন্দকার মোশতাক নয়া রাষ্ট্রপতি’ এবং সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’। আগের দিন ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদ কিংবা খবর নেই; বরং ইতিবাচক পরিবর্তনের গুণগান। সে সময় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ, যিনি পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: ববি হাজ্জাজ

১৫ আগস্ট থেকে কার্যকর করে ২০ আগস্ট ১৯৭৫ খন্দকার মোশতাক সামরিক শাসন জারি করেন। আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ তখনো বহাল ছিল। সংবিধান নিয়ে কোনো কথা নেই। সব বাহিনীর প্রধান মোশতাক সরকারের প্রতি আনুগত্য ও সহযোগিতার প্রত্যয় গণমাধ্যমে ঘোষণা করেন।

আগস্ট ১৯৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র নিয়ে বঙ্গভবনে অবস্থান নেন। বলা যায়, তারা সেনা কমান্ডের বাইরে রাষ্ট্রপতি মোশতাকের একান্ত সান্নিধ্যে ছিলেন। দেশে তখন চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। ১৯৭৩-৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রভাব তখনো পুরোপুরি কাটেনি। রাস্তায় কঙ্কালসার, অনাহারপীড়িত মৃতদেহ পড়ে থাকত। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল।

এর মধ্যে ২৫ আগস্ট ১৯৭৫ উপপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে রাষ্ট্রদূত করা হয়। চতুর খন্দকার মোশতাক জেনারেল জিয়াকে সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করলেও তার প্রতি অন্ধ আনুগত্যের আস্থা রাখতে পারেননি। ফলে সম্পূর্ণ অভূতপূর্ব এক উদাহরণ সৃষ্টি করে সেনাবাহিনীতে জেনারেল জিয়ার কমান্ড প্রতিষ্ঠার অন্তরায় সৃষ্টি করতে তার ওপরে বসিয়ে দেওয়া হলো আরো দুজনকে।

জেনারেল খলিলুর রহমানকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হলো। আরো নিশ্ছিদ্র প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে জেনারেল ওসমানীকে দেওয়া হলো প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার পদ। এ দুজনই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জেনারেল জিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে নানা অজুহাতে অসহযোগিতা করতেন। একই সময়ে সিজিএস জেনারেল খালেদ মোশাররফ ও ৪৬ ব্রিগেডের প্রধান শাফায়াত জামিল সেনাবাহিনীতে কমান্ড ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সেনাপ্রধানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেনাবাহিনীতে ভিন্ন ধারা প্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পনার পক্ষে জোরেশোরে মাঠে নামেন।

আরও পড়ুন: রাশেদ খান: ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব

২ নভেম্বর রাতে ৪৬ ব্রিগেডের সহায়তায় ঢাকা সেনানিবাসে বিদ্রোহের সূচনা হয়। বন্দি হন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়া খালেদ মোশাররফ দিনভর চেষ্টা চালিয়ে খন্দকার মোশতাকের কাছে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগের জন্য আবেদন জানিয়ে সফল হন ৩ নভেম্বর রাতে।

৪ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের ভাই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রাশেদ মোশাররফ ও তাদের মা খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের সমর্থনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি মিছিল নিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। ৩ নভেম্বর রাতে সংঘটিত হয় জেলহত্যা। একই রাতে খালেদ মোশাররফদের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে ফারুক, রশিদ, ডালিম, হুদা, নূর, পাশা, মোসলেহ উদ্দিনরা বাংলাদেশ বিমানের ফকার এফ২৭ ফ্রেন্ডশিপ বিমানে সপরিবারে, ব্যক্তিগত মালামালসহ নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংককের উদ্দেশে উড়ে যান। এমনকি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে ফকার বিমানটির জ্বালানি পর্যাপ্ত না হওয়ায় চট্টগ্রামে একবার জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা করা হয় পরিকল্পনামাফিক।

সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরানোর নামে ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ড সাধারণ সৈনিকরা মোটেও পছন্দ করেননি। তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। অন্যদিকে, খালেদ মোশাররফের তথাকথিত অভ্যুত্থান ও এর সমর্থনে উল্লসিত আওয়ামী লীগের মিছিল স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত বাংলাদেশে শান্তির নিঃশ্বাস নেওয়া দেশবাসীকে বাকশালী নির্যাতনের পুনরাবির্ভাবের আশঙ্কায় শঙ্কিত করে তোলে। তারাও এই অপশক্তির হাত থেকে পরিত্রাণের অপেক্ষায় ছিলেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ১২ দফা দাবির প্রচারণা। দেশের মানুষের তখন প্রত্যাশা ছিল, এমন একজন নেতার, যিনি এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে দেশকে পরিত্রাণ দিতে শক্ত হাতে হাল ধরবেন। আর সেনাবাহিনীর প্রত্যাশা ছিল তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক সেনাপ্রধানের নেতৃত্ব। খালেদ মোশাররফের হাতে জেনারেল জিয়ার বন্দিত্ব তারা সহজে মেনে নেয়নি।

ফলে সিপাহি ও জনতা—উভয়ের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন একজনই, তিনি জিয়াউর রহমান। দেশপ্রেমিক সৈনিকরা ৭ নভেম্বর প্রথম প্রহরে বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করেন তাদের উপযুক্ত প্রধান জেনারেল জিয়াকে। আর স্বতঃস্ফূর্ত জনতা ও দেশবাসী ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের মতো আবার আশ্বস্ত হন যে দেশের ক্রান্তিকালে পরীক্ষিত ও অসমসাহসী দেশপ্রেমিক সেদিনের মেজর জিয়া ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে আবার এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ঠিক সময়ে দেশের হাল ধরেছেন।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনের দুবলার চরে পর্যটক রিয়াজ আহমেদ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান চলছে

জাসদ-সমর্থিত সৈনিকদের একটি দল কর্নেল তাহের ও হাসানুল হক ইনুদের প্ররোচনায় ১২ দফা দাবির পাশাপাশি অদ্ভুত কিছু স্লোগান দিয়ে ঢাকা সেনানিবাসকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে—‘সৈনিক সৈনিক ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই’। এই রক্তহোলিতে নারী চিকিৎসকসহ ১৩ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।

৭ নভেম্বরের পর বিশৃঙ্খল ও দিশাহীন বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন জিয়াউর রহমান। পূর্বঘোষিত সামরিক শাসনামলের প্রধান ছিলেন বিচারপতি আবু সায়েম। জিয়া ও অন্যান্য বাহিনীর প্রধানরা ছিলেন উপপ্রধান। এ ক্ষেত্রে একটি তাত্ত্বিক প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আমাদের সামনে এখনো রয়েছে।

৭ নভেম্বর না এলে বাংলাদেশের কী হতো? আমাদের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা সেদিন অবশ্যই ছিল। সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে না আসার আশঙ্কাও ছিল।

একদলীয় বাকশালের নিষ্পেষণে আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ও প্রত্যাশা হয়তো আজন্ম অধরাই থেকে যেত। এসব আশঙ্কা সত্যি হয়নি, সেটি হয়তো আমাদের অদেখা স্বস্তি। কিন্তু ৭ নভেম্বর থেকে আমাদের প্রাপ্তির তালিকা অনেক দীর্ঘ।

আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবে করবেন

• ৭ নভেম্বর আমাদের মুক্তি দিয়েছে একদলীয় বাকশালের দুঃশাসন থেকে।

• দিয়েছে চারটি সংবাদপত্রের নিয়ন্ত্রিত প্রকাশনার পরিবর্তে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।

• দিয়েছে অভিন্ন জাতীয়তার পরিচয়—ধর্ম-বর্ণ, গোত্র-গোষ্ঠী, ভাষা-সংস্কৃতি, পাহাড়-সমতল নির্বিশেষে সম-অধিকারের জাতীয়তা ‘বাংলাদেশি’।

• সমাজতন্ত্রের সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ধারণার বিপরীতে দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য ও অবাধ বাজার অর্থনীতির সুযোগ।

আরও পড়ুন: হাসনাত আব্দুল্লাহ: সরকারের এক বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতা স্পষ্ট হবে

• আমাদের বেকার যুবশক্তির জন্য উন্মুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার।

• নারীদের জন্য সৃষ্টি করেছে স্বাধীন ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ।

• সাহায্যনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি।

• দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশ হয়েছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

আরও পড়ুন: গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা বাড়ালো সরকার

• আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা অর্জন করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে।

• মুসলিম বিশ্বে পেয়েছে সম্মানের আসন। ওআইসির গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে পেয়েছে দায়িত্বপূর্ণ পদ।

আর সবকিছু ছাপিয়ে নিশ্চিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। যুগে যুগে এভাবেই ইতিহাস বীরত্বগাথা রচনা করে, আর একটি জাতি ক্রান্তিলগ্নে খুঁজে পায় তার যোগ্য সন্তানকে। ৭ নভেম্বর আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের মতোই আরেকটি অমর বীরত্বগাথা। সিপাহি-জনতার ঐক্য ও সংহতি প্রকাশের এক অনন্য ইতিহাস। ঐক্যের এই স্রোতোধারা অব্যাহত থাকলে নিরাপদ থাকবে বাংলাদেশ, নিরাপদ থাকবে আমাদের ভূখণ্ড ও সীমান্ত, নিরাপদ থাকবে আমাদের আগামী প্রজন্ম।

লেখক: আহ্বায়ক, বিএনপি মিডিয়া সেল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের কেশম দ্বীপে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ এম


যুক্তরাষ্ট্রের কেশম দ্বীপে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার ফলে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে।

সংস্থাটি জানায়, প্রাথমিক প্রতিবেদনে দ্বীপটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে তাসনিম।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী কেশম দ্বীপের সুজা এলাকায় দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দ্বীপের সুজা এলাকায় দুটি বস্তু আঘাত হানতে দেখেছেন। তারা আরও জানান, এর আগে দ্বীপের আকাশে বিমানের শব্দ শোনা গিয়েছিল।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা হয়নি, এমন খবরকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতারের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কার্যালয়।

শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কাতারের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, দুপক্ষ এখনও একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। আলোচনায় সহায়তা করতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর, শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, দ্বীপটির আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এর আগে শুক্রবার, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংস করার খবর প্রকাশ করে ইরানের গণমাধ্যম। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

সূত্র : রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের খেলা: বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিলেটে, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ এম


আজকের খেলা: বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিলেটে, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে মাঠে নামবে। বাংলাদেশ অ–১৯ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

ক্রিকেট

সিলেট টেস্ট: ৩য় দিন

বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সরাসরি, সকাল ৯–৩০ মি.,

টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাড

সিলেট–রাজশাহী

ময়মনসিংহ–বরিশাল

ঢাকা–খুলনা

রংপুর–চট্টগ্রাম

সরাসরি, সকাল ৯–৩০ মি.,

বিসিবি ইউটিউব

অ–১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেট

বাংলাদেশ–শ্রীলঙ্কা

সরাসরি, বেলা ১১টা,

সনি স্পোর্টস ২

২য় ওয়ানডে

নিউজিল্যান্ড–ভারত

সরাসরি, সকাল ৮টা,

সনি স্পোর্টস ১ ও ২

জিম্বাবুয়ে–আফগানিস্তান

সরাসরি, দুপুর ১২টা,

ট্যাপম্যাড

ফুটবল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

লিডস–টটেনহাম

সরাসরি, সন্ধ্যা ৬–৩০ মি.,

আর্সেনাল–হাল সিটি

সরাসরি, রাত ৯টা,

নটিংহাম–ম্যানচেস্টার সিটি

সরাসরি, রাত ১১–৩০ মি.,

স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

লা লিগা

মালাগা–রেসিং

সরাসরি, সন্ধ্যা ৭টা,

এস্পানিওল–দেপোর্তিভো

সরাসরি, রাত ৯–১৫ মি.,

ওসাসুনা–বিলবাও

সরাসরি, রাত ১১–৩০ মি.,

ভ্যালেন্সিয়া–রিয়াল মাদ্রিদ

সরাসরি, রাত ২টা,

টি স্পোর্টস

ফ্রেঞ্চ লিগ আঁ

পিএসজি–ত্রয়া

সরাসরি, রাত ২–০৫ মি.,

স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বর, ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৬ ঘণ্টা টোল মুক্ত যাতায়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


৭ নভেম্বর, ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৬ ঘণ্টা টোল মুক্ত যাতায়াত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ ৭ নভেম্বর (শনিবার) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ছয় ঘণ্টা টোল ছাড়াই যান চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এদিন নির্ধারিত সময়ে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সব ধরনের অনুমোদিত যানবাহন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চলাচল করতে পারবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনের জন্য কোনো টোল দিতে হবে না। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে যথারীতি নিয়মিত হারে টোল আদায় কার্যক্রম শুরু হবে।

বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে শ্রেণিভেদে টোল আদায় করা হয়। এর মধ্যে কার, ট্যাক্সি, এসইউভি, ১৬ আসনের কম মাইক্রোবাস ও ৩ টনের কম হালকা ট্রাকের জন্য ৮০ টাকা; ১৬ আসন বা তদূর্ধ্ব বাসের জন্য ১৬০ টাকা; ৬ চাকা পর্যন্ত মাঝারি ট্রাকের জন্য ৩২০ টাকা এবং ৬ চাকার বেশি ভারী ট্রাকের জন্য ৪০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে রিকশা, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো দুই ও তিন চাকার যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ে চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে এফডিসি পর্যন্ত অংশটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

বর্তমানে এ অংশেই নিয়মিত যান চলাচল করছে। নকশা অনুযায়ী কাওলা থেকে তেজগাঁও, মগবাজার ও কমলাপুর হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েটি সম্প্রসারিত হওয়ার কথা থাকলেও পুরো অংশের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে জানাল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে জানাল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। এ সময় উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটেনি।

শুক্রবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এতে আরও জানানো হয়েছে, শনিবার ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে বিকাল ৫টা ১৬ মিনিটে। রোববার (৮ নভেম্বর) সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৯ মিনিটে।

এদিকে, আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্কবার্তা নেই। এই সময়ে নদীবন্দরগুলোকে কোনো সংকেত দেখানোর প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%