বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫২ পি.এম
বগুড়ার শেরপুরে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা ট্রমা সেন্টারটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু সাত বছর পার হয়ে গেলেও ট্রমা রোগীর ভর্তি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সেখানে শুরু হয়নি। দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই ভবনটি বর্তমানে প্রশাসনিক কাজ ও বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া রিজিয়নের মহাসড়কটি সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা প্রবন। শাজাহানপুরের বনানী বাইপাস থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়ক অংশে চলতি বছর ৬৬টি গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। আহতদের অনেককেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মৃত্যুর ঝুঁকিতে ছিলেন। শেরপুরে পূর্ণাঙ্গ ট্রমা চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় গুরুতর আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরের শজিমেকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত অস্ত্রোপচার, রক্তের ব্যবস্থা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে ট্রমা সেন্টার স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।
প্রকল্প অনুযায়ী, ২০ শয্যার এই ট্রমা সেন্টারের জন্য সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও দুজন রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসারসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক এবং ১০ জন নার্স থাকার কথা ছিল। এছাড়া ফার্মাসিস্ট, রেডিওলজি ও ল্যাব টেকনিশিয়ান, চালক, অফিস সহকারী, ওয়ার্ডবয় ও আয়ার মতো বিভিন্ন পদে সহ মোট ৬০ জন জনবল থাকার কথা ছিল। এজন্য ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ না করার কারণে ট্রমা সেন্টারটি এখনও চালু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, যে ভবনটি দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটিতে বর্তমানে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজও করা হচ্ছে। শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, "ট্রমা ইউনিট চালু না হওয়ায় ভবনটি বিকল্পভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।" সেখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৮০০ থেকে ১,২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে ভবন নির্মাণের পর এসব পদে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ট্রমা সেন্টারটি কার্যকর করা যায়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে তৈরি অবকাঠামোটি তার মূল উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ট্রমা সেন্টার চালু না হওয়া বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক জানে আলম খোকা বলেন, "এখানে শ্রমিকদের পাশাপাশি দুর্ঘটনা কবলিত মানুষ উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অনেকে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু বরণ করছেন, আবার অনেকে পঙ্গুত্বও বরন করছেন। এত টাকা ব্যয়ে সরকারের এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা উচিৎ নয়। এ বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যকে অবগত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।"
বগুড়া জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফারজানুল ইসলাম বলেন, "শেরপুরের ওই অঞ্চলটি দুর্ঘটনাপ্রবন। মহাসড়কে দুর্ঘটনা কবলিত রোগীকে বগুড়ায় পাঠালে সময় ক্ষেপনের কারণে মৃত্যুর ঝুকি বাড়ে। তাই শেরপুরের ট্রমা সেন্টারটি চালু করার জন্য আমাদের দপ্তর থেকে অধিদপ্তরে চাহিদা পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।" এর প্রেক্ষিতে গত বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু জাফর পরিদর্শন করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জ-৪(মাধবপুর-হবিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এস.এম. ফয়সল মন্তব্য করেছেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশকে সুন্দর করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা একটি এলাকার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করানো নয়, বরং তাদেরকে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বুধবার সকালে মাধবপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদি হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সোহেল রানা, প্রধান শিক্ষক সামসুর রহমান, ইস্কান্দর মির্জা ফারুক, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য ও সহকারী শিক্ষক সেলিনা আক্তার, সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান রনি প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন এবং শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মাধবপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা ও শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া, তিনি মাধবপুর উপজেলার কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্ত করার কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুর্যোগ সুরক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিঠাগঞ্জ ও লালুয়া ইউপির ১৮০ জন যুব স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে এই উপকরণ বিতরণ করা হয়। বুধবার দুপুর ১২ টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের মাঠ প্রাঙ্গনে জাগোনারী বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম এবং সিপিপির সহকারী পরিচালক আছাদ উজ জ্জামান। এছাড়া জাগোনারী’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. জাফর আলম, কেয়ার বাংলাদেশ’র কর্মসূচী ব্যবস্থাপক বায়েজিদ বোস্তামী, টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর শাবা শবনম, লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস, মিঠাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন খান দুলাল উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে রেইনকোট, ভেস্ট, হেলমেট, হেডল্যাম্প, ফিতাসহ বাঁশি, লাইফবয়া ও মেগাফোন বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, "দুর্যোগ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সচেতনতা কার্যক্রম ও উদ্ধার কার্যক্রমে এতে স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ সহজ হবে এবং দুর্যোগে ঝুঁকি কমে আসবে।" তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের এসব উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনসিসি ক্যাডেটদের ভূমিকা অনন্য। এই দেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস এবং অন্যান্য যে কোনো দুর্যোগে তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে। শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নয়, স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ বিতরণ এবং সচেতনতা কার্যক্রমসহ যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্যাডেটদের প্রশংসনীয় সক্ষমতা রয়েছে’।
গদকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। কর্ণফুলী রেজিমেন্টের অধীনে ১১ বিএনসিসি ব্যাটালিয়ানের তত্ত্বাবধানে হাটহাজারী সরকারি কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের আয়োজনের মাধ্যমে উক্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোর্স-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ১১ বিএনসিসি ব্যাটালিয়ানের কোম্পানি কমান্ডার ও হাটহাজারী সরকারি কলেজ বাংলা বিভাগের প্রভাষক ২/লে. মো. আবু তালেব।
ক্যাডেট ল্যা. কর্পোরাল সৈয়দ মো. আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী প্রেস ক্লাব সভাপতি কেশব কুমার বড়ুয়া, নাজিরহাট কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার ড. দোলন কান্তি ভট্টাচার্য, হাটহাজারী সরকারি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মনজুর আলী তালুকদার, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবু মুছা মো. মামুন, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দীন চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জয়নুল আবেদীন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবদুল্লাহ আল আহসান চৌধুরী এবং অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মায়মুন আলী।
এ সময় হাটহাজারী সরকারি কলেজ প্লাটুনের সামরিক প্রশিক্ষক কর্পোরাল মো. আতিকুর রহমান, সদ্য বিদায়ী সিইউও ইমতিয়াজুল হক, ক্যাডেট সার্জেন্ট ফাতেমা আক্তার মিম এবং শ্রাবন্তি বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোর্সে বিশেষ ক্লাস পরিচালনা করেন হাটহাজারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, হাটহাজারী সরকারি কলেজ, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ, নাজিরহাট কলেজ এবং ফতেয়াবাদ আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক ক্যাডেট স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আমেনা খাতুন (২৮) দীর্ঘ নয় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে মৃত্যুবরণ করেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহত আমেনার পরিবার, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের শতাধিক নারী-পুরুষ প্রধান আসামির গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত আমেনার মা জাহানারা বেগম, নানা লোকমান হাকিম, ভাই জাকির হোসেন, এলাকাবাসী মহুবার রহমান, আওয়াল ইমন, স্বপ্না রানী রায়, লালমনিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি স্বপ্না আক্তার এবং সাধারণ সম্পাদক নাসিমা ইয়াসমিন প্রমুখ।
বক্তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আদিতমারী উপজেলার খাতাপাড়া এলাকার মৃত আমিনুর ইসলামের মেয়ে আমেনা খাতুনকে বিয়ের পর থেকেই শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে দেওয়া হয়। এসিডের কারণে ওই স্থানে পরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২১ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। বক্তারা বলেন, আমেনার ওপর চালানো এই অমানবিক নির্যাতন কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। বক্তারা দ্রুত প্রধান আসামি আফজাল হোসেন আপনসহ সব আসামিকে গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবি জানান। নিহতের ভাই জাকির হোসেন জানান, নয় বছর আগে আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার আফজাল হোসেন আপনের সঙ্গে আমেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে আমেনার শয়নকক্ষে তাঁর গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে দেয় স্বামী আফজাল। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও দীর্ঘ নয় বছরেও বিচার শেষ হয়নি। মামলার প্রধান আসামির মা আছিয়া বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
গত ২১ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর বিচার চেয়ে নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। নিহতের মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার মেয়েকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। এসিডের কারণে গোপন অঙ্গে ঘা হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সে কষ্ট পেয়েছে।" অবস্থার অবনতি হলে গত ১২ আগস্ট তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই আমার মেয়ে মারা যায়। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার প্রধান আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ