১২:৫৮ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় আলোচনায় এসেছেন ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও তেলের রাজনীতির কারণে। তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেলের চুক্তিকে ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতে পারে বলে ইঙ্গিত করেছেন। এই সম্ভাবনার কথা তিনি টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে জানান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে জ্বালানি চুক্তির প্রশংসা করেন।
সমাবেশে তিনি উপকূলে নোঙর করা একটি তেলবাহী জাহাজ দেখিয়ে দাবি করেন, সেখানে ভেনেজুেলা থেকে আনা ১০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের এক ডলারও খরচ করতে হয়নি এবং বিষয়টিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলবিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত
ট্রাম্প আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা সামনে একটি সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবে। এমনকি শিগগিরই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তিনি জানান, এমন সম্ভাবনাকে সরাসরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে। এরপর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে এই তেল চুক্তি সম্পন্ন করে ওয়াশিংটন।
তবে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা কিংবা স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির তেল সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতেই বেশি আগ্রহী।
এটি প্রথমবার নয়, ট্রাম্প অন্য দেশের অঞ্চল বা ভূখণ্ড নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। এর আগে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড এবং পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে স্পষ্ট বার্তা দিল ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছেন। এই চাপ সামাল দিতে তিনি ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তিকে নিজের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে প্রচার করছেন এবং এর ফলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশ্বাস দিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন