০১:৫১ এম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের পেছনে সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নীতিহীন জোট গঠন এবং শীর্ষ পর্যায়ে পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদী সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন।
শুক্রবার তিনি এক সাক্ষাৎকারে এনসিপির আদর্শিক বিচ্যুতি এবং পদত্যাগের পেছনের কারণগুলো খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেন।
সামান্তা শারমিন জানান, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আবেগ বা অভিমান থেকে নেওয়া হয়নি; বরং এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পর্যালোচনার ফল। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে মানুষের চরম আত্মত্যাগ ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল। শুরুতে দলে মুক্ত আলোচনা ও দীর্ঘ বিতর্ক হলেও ধীরে ধীরে তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। দলটিতে গণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধ হয়ে এটি একটি ‘মনোলিথিক’ বা এককেন্দ্রিক কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর দিকে হাঁটতে শুরু করে।’
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটে যাওয়ার বিষয়টিকে দলের মূল আদর্শিক বিচ্যুতির বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, সংস্কার, নির্বাচন ও নিরাপত্তা—এই তিন অজুহাতে জামায়াতের সঙ্গে জোট করা হলেও জামায়াত কখনোই সংস্কারের অর্গানিক শক্তি নয়; বরং তারা অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানুষের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে ক্যাপচার করতে সংস্কারের মুখোশ পরেছে। এনসিপির নিজস্ব স্বকীয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান বিসর্জন দিয়ে কেবল ক্ষমতার সমীকরণে সংসদে যাওয়ার মোহে এই সমঝোতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় চরম অস্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি কিংবা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত তথ্য তাদের জানানো হতো না। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি এসব বৈঠকের খবর পেতেন। তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ যে সভায় জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিন ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ঢাকার বাইরে সাংগঠনিক দায়িত্বে পাঠিয়ে আকস্মিকভাবে সভা ডাকা হয়েছিল।
দলের নীতি নির্ধারণে নারীদের প্রান্তিকীকরণ ও পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পর্ষদের মাত্র তিনজন নারী সদস্য—তিনি নিজে, ডা. তাসনিম জারা এবং নাহিদা সারোয়ার নিভা এই নীতিহীন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। বিপরীতে সাতজন পুরুষ সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা চাপিয়ে দেন। ভিন্নমত প্রকাশ বা খোলামেলা আলোচনার কোনো সুযোগ সেখানে রাখা হয়নি।
সামান্তা শারমিন আরো বলেন, দেশে মৌলিক সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—আইন-আদালত, স্বাস্থ্য বা জীবনযাত্রার মতো ক্ষেত্রগুলোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নেতাদের সাধারণ জামাকাপড় পরা বা ১০০ টাকার খাবার খাওয়ার লোকদেখানো বিষয়গুলোকে সংস্কার বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন না; বরং অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও জনগণের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নিতে অচিরেই সমমনাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন