০৪:৩১ এম
বরগুনার তালতলী উপজেলার সংরক্ষিত ফাতরার বনে সরকারীভাবে নির্মিত ‘সোনাকাটা ইকোপার্কটি’ বর্তমানে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কারের অভাবে ইকোপার্কের ভেতরে ভাঙা রাস্তা ও সেতুর পাটা ভেঙে যাওয়ার কারণে চলাফেরায় ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সখিনা বিটে ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে ২ কোটি ৬৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬৩৪ একর জমির উপর একটি ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই সময়ে বনের ভেতরে পর্যটকদের জন্য বনভোজনের স্থান, চলাচলের জন্য ১৬টি কাঠের সেতু, ৪টি গভীর নলকূপ, ৪টি শৌচাগার, ৪টি বিশ্রামাগারসহ সাড়ে ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ইটের সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পরেও কোন দৃশ্যমান সংস্কার করা হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেংরাগিরি ইকোপার্কে প্রবেশের আগে সকিনা খালে নির্মাণাধীন ব্রীজটির উচ্চতা কম এবং এ্যাপ্রোচ সড়কের এলজিইডি’র ডিজাইন সঠিক না হওয়ায় প্রায় আড়াই বছর ধরে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ঘুরতে আসা পর্যটকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কিছু পর্যটক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় ইকোপার্কে প্রবেশ করলেও অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। পার্কের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মিত সেতুগুলোর পাটা উঠে যাওয়ায় সেতু এবং সড়কের ইট উঠে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইকোপার্কের ভিতরে গভীর নলকূপ অকেজো অবস্থায় রয়েছে, শৌচাগারের দরজা-জানালা ও বেসিন ভেঙে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বন্যপ্রাণীদের থাকার স্থানের চারপাশে নির্মিত লোহার গ্রিলে মরিচা ধরে ভেঙে গেছে এবং দেয়ালের পলেস্তারাও খসে পড়েছে। ইকোপার্কের ভেতরে কুমির প্রজনন কেন্দ্রের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও বনের ভেতরে চিতা বাঘ, হরিণ, শুকর, অজগর ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, কুমির, কাঠবিড়ালী, বানরসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে হুমকিতে।
আরও পড়ুন: বুকব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
ফেনী থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক নাহিদ হোসেন মন্তব্য করেন, "এই ইকোপার্কে ঢুকতে হলে বড় একটি খাল ডিঙি নৌকায় পার হতে হয়। এতে সাঁতার না জানা পর্যটকের জন্য জীবনের ঝুঁকি রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "ইকোপার্কে প্রবেশের নির্মাণাধীন ব্রীজটির কাজ সম্পন্ন হলে ভ্রমণে আরও আনন্দ পাবে পর্যটকরা।"
টাঙ্গাইল থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক আশ্রাফ আলী জানান, "পার্কের ভেতরের পরিবেশ খুবই নাজুক। হাঁটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে পর্যটকদের। খাবার পানির ব্যবস্থা নেই, শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী।"
পরিবেশকর্মী আরিফ রহমান বলেন, "ইকোপার্কটিতে একসময় বিপুল সংখ্যক পর্যটক ঘুরতে আসত। কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে পর্যটনকেন্দ্রটি পর্যটকদের আগ্রহ হারাচ্ছে। এতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তাই বর্তমান সরকারের এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।"
এ বিষয়ে বন বিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান জানান, "ইকোপার্ক সংস্কারের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কার করা হবে।"
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, ৪ গ্রেফতার
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "প্রদত্ত ডিজাইন পরিবর্তনের অভিযোগে এতদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কয়েকদফা তদন্ত শেষে পূর্বের ডিজাইন সঠিক বলে মত দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই পূর্বের ডিজাইনে ব্রীজের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, "আমি ইকোপার্কটি পরিদর্শন করেছি। এটিকে পর্যটন বান্ধব করার জন্য শীঘ্রই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন