ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

হবিগঞ্জের মাধবপুরে গরু চুরির অভিযোগে চার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ


হবিগঞ্জের মাধবপুরে গরু চুরির অভিযোগে চার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চারটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার, দিনের বেলায় উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের পিয়াইম গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিয়াইম গ্রামের কৃষ্ণপদ সরকারের একটি গরু চুরির ঘটনায় গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য আবিদ মিয়াসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে সেখানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ঘরের আসবাবপত্র বাইরে এনে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিয়াইম গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৮), মৃত উসমান মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০), মৃত সক্কদর মিয়ার ছেলে সামছু মিয়া (২৬) এবং মৃত লাল মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (৩০) দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। শুধু পিয়াইম গ্রাম নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রামেও তারা চুরি-ডাকাতি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া চুরি-ডাকাতির সময় বিভিন্ন বাড়ির নারীদের ধর্ষণের অভিযোগও তুলেছেন গ্রামবাসী। তবে সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।

পিয়াইম গ্রামের মুতি মিয়া ও জামাল মিয়া জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতিসহ চুরি-ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন এবং রাতে চুরি-ডাকাতিতে জড়িত থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ধুনটে পাঁচ কোটি টাকার সড়ক কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

এ বিষয়ে ছাতিয়াইন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস দে জানিয়েছেন, সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে একটি এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চুরি-ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। যদি কেউ অভিযোগ করেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ৭২ বোতল ভারতীয় মদসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ এম


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ৭২ বোতল ভারতীয় মদসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি দক্ষ দল সঁাড়াশি অভিযান চালিয়ে ৭২ বোতল ভারতীয় মদ ও ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকারসহ মো. আতিকুর রহমান আতিক (৩৩) নামক এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার সময় জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার মংলারগঁাও এলাকায় দিলীপ দাসের বসতভিটার পূর্ব পার্শ্বে দোয়ারাবাজার-ছাতকগামী পাকা রাস্তার ওপর এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সুনামগঞ্জের উপপরিদর্শক (এসআই) মুকুল খানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ধৃত আসামির দেহ ও সংশ্লিষ্ট প্রাইভেটকারের তল্লাশি করে ৫৫ বোতল ‘অঈ ইষধপশ’ এবং ১৭ বোতল ‘ওঈঊ ঠড়ফশধ’ (মোট ২৭ হাজার মিলিলিটার বা ৭২ বোতল) অবৈধ ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদকদ্রব্য চোরাচালান ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ‘ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-৪২৩১’ নম্বরের প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের প্রাক্কলিত বাজারমূল্য ১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং জব্দকৃত প্রাইভেটকারটির আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা। মোট ২১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দোয়ারাবাজার থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক কামরান হত্যাচেষ্টা মামলায় বিএনপির ৭০ নেতাকর্মী খালাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ এম


সাবেক কামরান হত্যাচেষ্টা মামলায় বিএনপির ৭০ নেতাকর্মী খালাস

সিলেটের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি মরহুম বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর বোমা হামলার অভিযোগে দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ৭০ নেতা-কর্মীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এর ফলে দীর্ঘ ১১ বছরের পর এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলো।

রোববার (১ নভেম্বর) সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩৬/১৫ নম্বর মামলায় এই রায় ঘোষণা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মির্জা মো. ইয়াকুত হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে সিলেট মহানগরের পাঠানটুলা এলাকায় মিছিল বের করেন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ওই মিছিল থেকে সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর বোমা হামলার অভিযোগে পুলিশ মামলা দায়ের করে। জালালাবাদ থানা-পুলিশের করা মামলাটির অভিযোগপত্র দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথকভাবে দাখিল করা হয়।

এর আগে একই ঘটনায় দায়ের করা দণ্ডবিধির মামলায় ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর সব আসামিকে খালাস দেন সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আবদুল মোমেন। সর্বশেষ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায়ও সব আসামি খালাস পাওয়ায় এ ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলাতেই আসামিরা অব্যাহতি পেলেন।

খালাস পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগর যুবদলের সভাপতি মির্জা মো. সম্রাট হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লোকমান, সাবেক সহসভাপতি চৌধুরী মো. সুহেল, বিমানবন্দর থানা বিএনপির সদস্যসচিব সৈয়দ সরওয়ার রেজা, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি শিহাব খান ও আব্দুল হাফিজ রানা। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৪ জুন দিবাগত রাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড়লেখায় জিন্নী হুজুরের নামে প্রতারণা, ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, ৪ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ এম


বড়লেখায় জিন্নী হুজুরের নামে প্রতারণা, ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, ৪ জন গ্রেফতার

মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকায় একটি প্রতারক চক্র অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে। বড়লেখা থানা পুলিশ এই ঘটনায় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাৎকৃত সব স্বর্ণালংকার।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫), জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) এবং হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)। গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী থানার পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট।

থানা সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক নারী বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করে জানান, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত জিন্নী হুজুর সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এর জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

রোকেয়া বেগম ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করে বসতঘরের পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর ফিরে গিয়ে দেখেন, সেগুলো নেই। পরে ফোন করলে তাঁকে জানানো হয়, জিন্নী মুমিন স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়া হবে।

এরপর ১৬ অক্টোবর একই নারী আবার ফোন করে একই স্থানে আরও স্বর্ণালংকার রাখতে বলেন। এবার স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন ভুক্তভোগী। কিন্তু এবারও ফিরে গিয়ে সেগুলো পাননি। এভাবে দুই দফায় মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।

পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস, এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। প্রথমে বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চারজনকে ২ নভেম্বর বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাওরপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার অনন্য চিত্র জলজসম্পদের সাথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ এম


হাওরপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার অনন্য চিত্র জলজসম্পদের সাথে

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের প্রতীক পদ্মফুল। জলাশয়ের বুকে সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা গোলাপি পদ্মের সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। শ্রীমঙ্গলের চৌমোহনায় মনা মিয়া পদ্মফুলের কুঁড়ি নিয়ে বসেছেন। তিনি সাজিয়ে রেখেছেন গোলাপি, হালকা সবুজ ও হলদেটে আভাযুক্ত পদ্মের কুঁড়ি। পথচারীদের কেউ কৌতূহল নিয়ে দেখছেন, কেউ কিনছেন পছন্দের ফুল। মনা মিয়া জানান, তিনি নিজে হাওর থেকে পদ্মফুল সংগ্রহ করেন না। শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর থেকে যারা পদ্মফুল তুলে আনেন, তাঁদের কাছ থেকে কিনে এনে চৌমোহনায় বিক্রি করেন। একজন ক্রেতা জানালেন, তিনি দুই পিস পদ্মফুলের কুঁড়ি কিনেছেন ৮০ টাকায়। তাঁর ভাষ্য, লক্ষ্মীপূজায় পদ্মফুল প্রয়োজন হয়।

মনা মিয়ার এই ছোট্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাইল হাওরের প্রকৃতি, জলজসম্পদ এবং হাওরপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার গল্প। হাওর থেকে সংগ্রহ করা পদ্মফুল স্থানীয় বাজারে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতার একটি চিত্র ফুটে ওঠে।

কুঁড়ি থেকে ফুল, প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি। পদ্ম একটি বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঘবষঁসনড় হঁপরভবৎধ এধবৎঃহ। এটি ঘবষঁসনড়হধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। বাংলাদেশের বিভিন্ন হাওর, বিল, পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে পদ্ম জন্মে।

পদ্মের পাতা বড়, গোলাকার ও সবুজ। লম্বা ডাঁটার ওপর ফুটে থাকে আকর্ষণীয় গোলাপি বা সাদা ফুল। অসংখ্য কোমল পাপড়ির সমন্বয়ে তৈরি হয় পদ্মফুল। কুঁড়ি ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হয়ে পাপড়ি মেলে ধরে। ফুলের মাঝখানে থাকে বীজধারী অংশ। পাপড়ি ঝরে যাওয়ার পর সেটি ধীরে ধীরে ফলে পরিণত হয়।

পদ্মের ভূগর্ভস্থ কাণ্ড কাদামাটির মধ্যে বিস্তৃত থাকে। সেখান থেকে নতুন গাছ জন্মায়। বর্ষা ও শরৎকালে জলাশয়ে পদ্মফুলের সৌন্দর্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

পদ্ম শুধু ফুল নয়, ফল ও খাদ্যও। পদ্মের ফল স্থানীয়ভাবে পদ্মটুনা নামে পরিচিত। এর ভেতরে থাকে বীজ। হাওরপাড়ের মানুষ পদ্মটুনা থেকে বীজ বের করে খেয়ে থাকেন। পদ্মের বীজ বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া কিছু অঞ্চলে পদ্মের কচি ডাঁটা ও ভূগর্ভস্থ কাণ্ড বা রাইজোমও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়।

হাওরের জলজসম্পদ, মানুষের খাদ্য ও জীবিকা। হাইল হাওর শুধু মাছের ভান্ডার নয়, নানা ধরনের জলজ উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ। পদ্মফুল, পদ্মটুনা, শাপলা, শালুক, কলমিশাক ও সিংড়াসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ ও ফল হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদের অংশ।

হাওরপাড়ের মানুষ এসব জলজসম্পদ পরিবারের খাবারের জন্য সংগ্রহ করেন। আবার কেউ কেউ বাজারে বিক্রি করে সংসার চালান। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি অংশের খাদ্য ও আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদ সরাসরি জড়িত। শাপলা, শালুক, কলমিশাক কিংবা সিংড়াÑএসব অনেক পরিবারের কাছে শুধু খাবার নয়, জীবিকারও অবলম্বন।

হাইল হাওরের চারপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন ও অসংখ্য গ্রাম মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস। তাঁদের পেশা ও জীবিকার ধরন ভিন্ন। তবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। হাওর থেকে জলজ উদ্ভিদ ও শাকসবজি সংগ্রহ করে বিক্রির মাধ্যমে তাঁরা আয় করেন। আবার এসবের অনেক কিছু নিজেরাও খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন।

তাহলে হাইল হাওরের জলজসম্পদ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উপাদান নয়, বহু মানুষের জীবনধারণেরও অবলম্বন।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজন সংরক্ষণ

হাওরে পদ্মফুল, শাপলা, শালুকসহ নানা জলজ উদ্ভিদের উপস্থিতি সেখানকার প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে। এসব উদ্ভিদ জলজ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ টিকে থাকলে হাওরের জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ থাকে।

হাইল হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জলজ পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকাও বিবেচনায় রাখা জরুরি। প্রাকৃতিক সম্পদ কমে গেলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে দরিদ্র হাওরনির্ভর পরিবারগুলোর ওপর।

প্রকৃতি ও মানুষের মেলবন্ধন

শ্রীমঙ্গলের চৌমোহনায় মনা মিয়ার পদ্মফুল বিক্রির দৃশ্যটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে হাইল হাওরের বিস্তৃত প্রকৃতি, পদ্ম সংগ্রহকারী মানুষের শ্রম, স্থানীয় বাজারের চাহিদা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের গল্প। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম অত্যন্ত পবিত্র ফুল। শারদীয় দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে পদ্মফুলের ব্যবহার রয়েছে। দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে পদ্মের সম্পর্কও সুপরিচিত। অন্যদিকে পদ্মের ফল ও বীজ হাওরপাড়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের অংশ।

একটি পদ্মফুল তাই একই সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, খাদ্য ও মানুষের জীবিকার প্রতিনিধিত্ব করছে। হাইল হাওরের বুক থেকে সংগ্রহ করা সেই পদ্মের কুঁড়ি যখন শ্রীমঙ্গলের চৌমোহনায় বিক্রি হয়, তখন প্রকৃতি ও মানুষের নিবিড় সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

হাইল হাওরের পদ্মফুল শুধু জলাশয়ের সৌন্দর্য বাড়ায় না; এটি মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির প্রতিটি সম্পদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে মানুষের বেঁচে থাকার গল্প। সেই গল্প ও সম্পদ রক্ষা করা তাই আমাদের সবার দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%