ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মক্কায় হামলা চালায়নি হুথিরা, মুসলিম বিশ্বের সহানুভূতি পেতে সউদীর মিথ্যাচার!


মক্কায় হামলা চালায়নি হুথিরা, মুসলিম বিশ্বের সহানুভূতি পেতে সউদীর মিথ্যাচার!

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন ও জটিল সমীকরণ উন্মোচিত হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও সামরিক তৎপরতা মোকাবিলায় সউদী আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই গোপন আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হুথিদের বিরুদ্ধে যৌথ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা।

আঞ্চলিক কূটনীতিক ও সংবাদসূত্রের বরাতে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেম পোস্ট ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি মূলধারার সংবাদমাধ্যম এই গোপন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দাবি করা হয়েছে, হুথিদের সামরিক অবস্থান, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং চলাচলের সুনির্দিষ্ট তথ্য রিয়াদকে সরবরাহ করছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে হরমোজ প্রণালী ও লোহিত সাগর এলাকায় ইরানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের উন্নত ড্রোন ও প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এখন সউদী আরবকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেলজিয়ান ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক এলাইজা ম্যাগনেইর মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেন বা এই অঞ্চলে সরাসরি বড় কোনো যুদ্ধে না জড়িয়ে, ইসরায়েলের মাধ্যমে পক্সি পদ্ধতিতে সউদী আরবকে সুরক্ষা ও কৌশলগত অস্ত্র দিতে চায়। সউদী আরব নিজেরাই সরাসরি মার্কিন অস্ত্র নেওয়ার বদলে ইসরায়েলি কাঠামোর সাহায্য চাইছে, যাতে এসব অস্ত্র ইরান এবং হুথিদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।

সম্প্রতি সউদী আরবের বেশ কয়েকটি তেল পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনে হুথিরা সফল ড্রোন হামলা চালায়। এ ছাড়া ইয়েমেন সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক অবস্থানও লক্ষ্যবস্তু হয়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সউদী সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হুথিরা ড্রোন ছুড়ে পবিত্র নগরী মক্কায় হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। তবে, সউদী কর্তৃপক্ষ এই গুরুতর দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ তুলে ধরেনি।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে স্পষ্ট বার্তা দিল ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য হিজাম আল আসাদ ও মোহাম্মদ আল বুখাইতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্পষ্ট করে বলেন, "কাবার প্রতিটি ধূলিকণা ইয়েমেনিদের কাছে পরম পবিত্র এবং ইয়েমেনিরাই যুগে যুগে বায়তুল্লাহর প্রকৃত রক্ষক। ইয়েমেনি বাহিনীর লড়াই কেবল সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি, তেল পরিকাঠামো ও অবৈধ অবরোধের বিরুদ্ধে; মক্কা বা কোনো পবিত্র স্থান তাদের লক্ষ্যবস্তু নয়।"

সানার প্রধান বিমানবন্দর ধ্বংস ও মানবিক অবরুদ্ধতার জবাব দিতেই কেবল রিয়াদ ও সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সুনির্দিষ্ট নিশানায় হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুথিরা।

বিখ্যাত মার্কিন ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মেয়ারশাইমার তার বিশ্লেষণে জানান, সউদী আরব একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ বা 'গল্প' তৈরি করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিম বিশ্বের সহানুভূতি অর্জন করা এবং সাধারণ মুসলিম দেশগুলোকে ইরান ও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে একজোট করা।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক মারান্ডির মতে, মক্কায় হামলার এই প্রচারণা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। সম্ভবত ইসরায়েলি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বিশেষজ্ঞরাই রিয়াদকে এ ধরনের ভুয়া গল্প প্রচারের পরামর্শ দিয়েছে, যাতে হুথিদের আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা যায়।

আরও পড়ুন: রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

হুথি নেতৃবৃন্দ মনে করিয়ে দেন যে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আমলেও ইয়েমেনি জাতি কাবার সুরক্ষায় অগ্রগামী ছিল। ইসলামিক ইতিহাসের সূত্রে ইয়েমেনিদের বিশেষ মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়: সহীহ বুখারীর ৪৩৯০ নম্বর হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন- "তোমাদের কাছে ইয়েমেনের লোক এসেছে, তারা নরম দিল ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী। ঈমান হলো ইয়েমেনি এবং প্রজ্ঞা হলো ইয়েমেনি।"

রাসূল (সা.)-এর বিশেষ দোয়া: সহীহ বুখারীর ৭০৯৪ নম্বর হাদিসে উল্লেখ আছে, মহানবী (সা.) কাবার আঙিনায় দাঁড়িয়ে দোয়া করেছিলেন- "হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দিন, আমাদের ইয়েমেনে বরকত দিন।"

পবিত্র কুরআনের সূরা সাবা (আয়াত ১৫) এবং সূরা বুরুজে (আয়াত ৪-৭) ইয়েমেনের সাবা জনপদ ও নাজরানের অটল ঈমানদার অধিবাসীদের ঐতিহাসিক ঈমানী দৃঢ়তার প্রশংসা করা হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেল ও সামরিক স্থাপনায় ইয়েমেনি মিসাইল ও ড্রোনের চরম চাপের মুখে পড়েই মূলত মক্কায় হামলার এই রাজনৈতিক গল্প সামনে আনা হয়েছে। একদিকে সৌদি রাজতন্ত্র ধর্মীয় আবেগকে কৌশলগত ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীরা ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংযোগ তুলে ধরে প্রমাণ করছে যে, এটি তাদের সংঘাত থেকে বিশ্বজনমতের দৃষ্টি সরানোর একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক ও সামরিক ফন্দি মাত্র।

আরও পড়ুন: নেসেটের স্পিকারকে অপসারণের জন্য আলোচনা শুরু করেছে আরব দলগুলো

বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের প্রাথমিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়েছে। অনেক মধ্যবর্তী অস্ত্রাগার ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যবহৃত হওয়ায় আমেরিকা এখন বাধ্য হয়ে ইসরায়েলের মাধ্যমে নতুন অস্ত্র বিন্যাস করছে এবং রিয়াদকে সামরিক তথ্য দিয়ে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


মানিকগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি

ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া সহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধের লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি আয়োজন করেছে জেলা যুবদল।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এই কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয় পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে। কর্মসূচির আওতায় সড়ক ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এ কর্মসূচিতে জেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করেন।

এ সময় যুবদলের নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেন, "ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধুমাত্র মশক নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।" বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা এবং নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারা।

তারা আরও উল্লেখ করেন, মশাবাহিত রোগের প্রকোপ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

কর্মসূচিতে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক

রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় শিরিনা আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝু/লন্ত মরা/দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিরিনা আক্তার ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

এ ঘটনায় তার স্বামী ওহিদুর রহমান অন্তরকে (৩১) আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকার ৫৫০ নম্বর বাড়ির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে শিরিনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরা/দেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম/র্গে পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানায়, শিরিনাকে কক্ষের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝু/লতে দেখা যায়। ওই সময় তার স্বামী অন্তরও বাসায় ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরা/দেহ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তরকে আটক করে।
পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসেন বলেন, ‘রুমের দরজা ভেঙে ঝু/লন্ত অবস্থায় শিরিনার মরা/দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের জন্য মরা/দেহ ম/র্গে পাঠানো হয়েছে।’

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিরিনার গলায় ইউ আকৃতির দাগ পাওয়া গেছে। তবে দৃশ্যমানভাবে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আগের রাতেই ঝগড়া, পরদিন মরা/দেহ
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার আগের রাতেও শিরিনা ও তার স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এরপর রাতেও তিনি স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন। পরদিন দুপুরে বাসার কক্ষ থেকে তার ঝু/লন্ত মরা/দেহ উদ্ধার করা হয়।

শিরিনার ভাই আরাফাত আহমেদ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বোনের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরোধ চলছিল। তার দাবি, বিয়ের সময় শিরিনাকে দেওয়া স্বর্ণালঙ্কারও অন্তরের মামা-মামি রেখে দিয়েছিলেন।
আরাফাতের আরও অ/ভিযোগ, কয়েক দিন আগে শিরিনার গ্রামের বাড়িতে অন্তরের পরিবারের লোকজন হা/মলা চালায়। এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার বোন বাড়িতেও শান্তিতে থাকতে পারেনি। তাকে বিরক্ত করা হতো। ঢাকায় আসার পরও তাকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়নি।

শিরিনার ভাই আরও অভিযোগ করেন, আগের হা/মলার সময় তাদের হু/মকি দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কে ছিলেন শিরিনা?
শিরিনা আক্তার চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার জোড়ারগঞ্জ গ্রামের রাজা মিয়ার মেয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সংসার করছিলেন।

ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃ/ত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আশকোনার ভাড়া বাসায় স্বামী ওহিদুর রহমান অন্তরের সঙ্গে থাকতেন শিরিনা। অন্তর মীরসরাই থানার মাদবরহাটের জমাদার গ্রামের নুর নবীর ছেলে।

মৃ/ত্যু, নাকি অন্য কোনো রহ/স্য?

একদিকে কক্ষে ঝু/লন্ত মরা/দেহ, অন্যদিকে ঘটনার আগের রাতের দাম্পত্য কলহ এবং স্বজনদের নানা অভিযোগ—সব মিলিয়ে শিরিনার মৃ/ত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরা/দেহে গলায় দাগ ছাড়া দৃশ্যমান অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃ/ত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি স্বজনদের অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হবে।
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে ৬০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ভারতীয় পণ্যসহ চালক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোহাম্মদ নূর ‎সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৩ পি.এম


সুনামগঞ্জে ৬০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ভারতীয় পণ্যসহ চালক আটক

‎‎সুনামগঞ্জে প্রায় ৬০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ভারতীয় পণ্যবাহী একটি পিকআপসহ চালককে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি, সিপিসি-৩।
‎
‎এসআরবি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বম্ভরপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী একটি পিকআপ সুনামগঞ্জ হয়ে সিলেটের দিকে যাচ্ছে—এমন খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়।
‎
‎পরে ওয়েজখালী ও মদনপুর এলাকায় পিকআপটি আটকাতে ব্লকেড দেওয়া হলেও দ্রুতগতিতে ব্লকেড অতিক্রম করে পালিয়ে যায় চালক।
‎
‎তাৎক্ষণিক  এসআরবি সদস্যরা প্রায় ৬০ কিলোমিটার পিছু ধাওয়া করে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় পিকআপটির গতিরোধের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সড়কের পাশে পড়ে যায়। এ সময় চালক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।
‎আটক চালক জহিনূর মিয়া। তার কাছ থেকে ভারতীয় লেহেঙ্গা, শাড়ি, থ্রিপিচ ও কসমেটিক্সসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়।
‎
‎এসআরবি’র তথ্যমতে, জব্দ পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা এবং পিকআপটির মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। সর্বমোট ১৫ লাখ টাকার মালামাল জব্দ এবং  ১জনকে  আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
‎
‎এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে কার্যকর ভূমিকা জরুরি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে কার্যকর ভূমিকা জরুরি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সশস্ত্র সংঘাত, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ুজনিত চাপের কারণে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

চীনের বেইজিংয়ে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১৩তম বেইজিং শিয়াংশান ফোরামের চতুর্থ প্লেনারি অধিবেশনে ‘দ্য রোল অ্যান্ড ভিশন অভ ডেভেলপিং কান্ট্রিজ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদারকরণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রেখেছেন। দেশের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতিতে বিশ্বাসী। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা, উন্নয়ন ও আস্থা তৈরির একটি কাঠামো সৃষ্টি করেছে। তবে কিছু অনিষ্পন্ন বিরোধ, সশস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

এ প্রেক্ষাপটে তিনি সংলাপ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন, স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি বছরের জুন মাসের চীন সফর দুই দেশের ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এ নতুন গতি সঞ্চার করেছে। তিনি অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিল্পায়ন, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সবুজ উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে তিনি বাজার সম্প্রসারণ, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো কেবল বৈশ্বিক নিরাপত্তা সিদ্ধান্তের অনুসারী নয়; বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি, জাতীয় সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বহুমুখী অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, সাইবার সহনশীলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাকে তিনি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—সংঘাত সৃষ্টির আগেই প্রতিরোধমূলক কূটনীতি, আগাম সতর্কীকরণ ও আঞ্চলিক সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদার করা; সাইবার সহযোগিতা, উদীয়মান প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষার মাধ্যমে সম্মিলিত সহনশীলতা বৃদ্ধি করা; এবং সংঘাতপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, জীবিকা, শিক্ষা, অবকাঠামো ও স্থানীয় আস্থা জোরদার করা।

বক্তব্যের পর একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এসব প্রশ্নের উত্তর যৌক্তিক ও তথ্যবহুলভাবে প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং বিশিষ্ট নিরাপত্তা প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%