ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুনামগঞ্জে ৬০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ভারতীয় পণ্যসহ চালক আটক


সুনামগঞ্জে ৬০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ভারতীয় পণ্যসহ চালক আটক

‎‎সুনামগঞ্জে প্রায় ৬০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ভারতীয় পণ্যবাহী একটি পিকআপসহ চালককে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি, সিপিসি-৩।
‎
‎এসআরবি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বম্ভরপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী একটি পিকআপ সুনামগঞ্জ হয়ে সিলেটের দিকে যাচ্ছে—এমন খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়।
‎
‎পরে ওয়েজখালী ও মদনপুর এলাকায় পিকআপটি আটকাতে ব্লকেড দেওয়া হলেও দ্রুতগতিতে ব্লকেড অতিক্রম করে পালিয়ে যায় চালক।
‎
‎তাৎক্ষণিক  এসআরবি সদস্যরা প্রায় ৬০ কিলোমিটার পিছু ধাওয়া করে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় পিকআপটির গতিরোধের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সড়কের পাশে পড়ে যায়। এ সময় চালক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।
‎আটক চালক জহিনূর মিয়া। তার কাছ থেকে ভারতীয় লেহেঙ্গা, শাড়ি, থ্রিপিচ ও কসমেটিক্সসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়।
‎
‎এসআরবি’র তথ্যমতে, জব্দ পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা এবং পিকআপটির মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। সর্বমোট ১৫ লাখ টাকার মালামাল জব্দ এবং  ১জনকে  আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
‎
‎এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে কার্যকর ভূমিকা জরুরি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে কার্যকর ভূমিকা জরুরি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সশস্ত্র সংঘাত, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ুজনিত চাপের কারণে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

চীনের বেইজিংয়ে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১৩তম বেইজিং শিয়াংশান ফোরামের চতুর্থ প্লেনারি অধিবেশনে ‘দ্য রোল অ্যান্ড ভিশন অভ ডেভেলপিং কান্ট্রিজ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদারকরণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রেখেছেন। দেশের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতিতে বিশ্বাসী। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা, উন্নয়ন ও আস্থা তৈরির একটি কাঠামো সৃষ্টি করেছে। তবে কিছু অনিষ্পন্ন বিরোধ, সশস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

এ প্রেক্ষাপটে তিনি সংলাপ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন, স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি বছরের জুন মাসের চীন সফর দুই দেশের ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এ নতুন গতি সঞ্চার করেছে। তিনি অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিল্পায়ন, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সবুজ উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে তিনি বাজার সম্প্রসারণ, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো কেবল বৈশ্বিক নিরাপত্তা সিদ্ধান্তের অনুসারী নয়; বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি, জাতীয় সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বহুমুখী অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, সাইবার সহনশীলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাকে তিনি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—সংঘাত সৃষ্টির আগেই প্রতিরোধমূলক কূটনীতি, আগাম সতর্কীকরণ ও আঞ্চলিক সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদার করা; সাইবার সহযোগিতা, উদীয়মান প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষার মাধ্যমে সম্মিলিত সহনশীলতা বৃদ্ধি করা; এবং সংঘাতপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, জীবিকা, শিক্ষা, অবকাঠামো ও স্থানীয় আস্থা জোরদার করা।

বক্তব্যের পর একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এসব প্রশ্নের উত্তর যৌক্তিক ও তথ্যবহুলভাবে প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং বিশিষ্ট নিরাপত্তা প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫৬৪ গ্রেফতার, ৫৮ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫৬৪ গ্রেফতার, ৫৮ মামলা

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে ৫৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ৫৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ২৬, লালবাগ বিভাগ থেকে ৪০, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৭৯, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৭৭, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ১১৪, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৫৩, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৬, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩৫ এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযানের সময় ২ হাজার ১৯৪ পিস ইয়াবা, তিন কেজি ৭১৫ গ্রাম গাঁজা, ৬২ গ্রাম হেরোইন, ছয়টি মোবাইল ফোন, সাত জোড়া চোরাই জুতা, ২০০.১৫ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ১ হাজার পিস রং বা রঙ্গিন কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প ‘স্পষ্টতই’ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ চান : দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৭ পি.এম


ট্রাম্প ‘স্পষ্টতই’ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ চান : দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন—এটি স্পষ্ট।

এই তথ্যটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা গেছে।

বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা একটি অচলাবস্থায় রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ভবন ব্লু হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংলাপ চান। আমিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম শহরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চলছে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৮ পি.এম


চট্টগ্রাম শহরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চলছে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’

॥ আবু মোশাররফ ॥

চট্টগ্রাম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে মশকনিধনের উদ্দেশ্যে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কিছু স্থানে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, আবার অন্যত্র এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজে ধ্বংস করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ব্যস্ত রয়েছেন। মেয়র সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শুধু সিটি কর্পোরেশন বা জেলা প্রশাসন নয়; শহরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, জাতীয়তাবাদী যুবদলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও। তবুও ‘মশার শহর’ চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর দৌরাত্ম্য থামছে না। একদিকে মশা মারার যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, শরতের থেমে থেমে বৃষ্টির ফলে জমে থাকা পানি এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে এডিসের প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রামের ডেঙ্গু পরিস্থিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের শুরুতে সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম থাকলেও জুলাই মাস থেকে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে শুরু করে। আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যায় এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে সেই ঊর্ধ্বগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আক্রান্তের বড় অংশ বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে আসছে। আগস্ট মাসে চট্টগ্রামে ১ হাজার ২০২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জনে। ১৪ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ জন নতুন আক্রান্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৬২ জন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর একদিনে আরও ৮৬ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মাস শেষ হওয়ার আগেই আগস্টের তুলনায় সংক্রমণের গতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্প্রতি বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর থেকে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশকনিধন ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংসের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

১২ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী তিন মাসের ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ওই দিন চসিক ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায়। মেয়র নিজে ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন এবং ফগার মেশিনে মশকনিধনের ওষুধ ছিটানো হয়। শুধু নগর নয়, জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন, এ কাজে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

নানামুখী উদ্যোগের মধ্যে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, আগ্রাবাদ মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৭৮-এ পৌঁছেছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল এবং অনেক রোগী রক্তক্ষরণজনিত লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। এর কয়েক দিন পর আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। ১০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ইউনিটের ৪০টি শয্যার বিপরীতে ৭১ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকার কথা জানানো হয়। অতিরিক্ত রোগীদের কেউ কেউ ওয়ার্ডের মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় এরই মধ্যে চসিক জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল চালু করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। সেই জায়গাটি এখন চট্টগ্রামের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এডিসের প্রজননস্থল যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ মশা নিধনের অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও নতুন মশা তৈরি হবে। ফলে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, ফগিং এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললেও সংক্রমণের মূল চক্র পুরোপুরি ভাঙবে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজ বাসসকে বলেন, ‘আমরা নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশকনিধকে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। আমি নিজে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমরা ডেঙ্গুতে আর কোনো মৃত্যু দেখতে চাই না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তাই বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না; নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

পরিবেশ পরিষ্কার রাখা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একার দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।’

চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকছে। আর এসব জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান। তিনি আজ বাসসকে বলেন, আক্রান্তের হার বাড়ার পেছনে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবর পর্যন্ত সংক্রমণের প্রবণতা থাকার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ১৪ জনের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সব বয়সী রয়েছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ১২ জনের মধ্যে সাতজন নারী, তিনজন পুরুষ ও দুইজন শিশু ছিলেন। এরপর আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২৬ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান। তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল গত ৬ সেপ্টেম্বর। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর পাহাড়তলী এলাকার চার বছর বয়সী তাসমিন নামে এক শিশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু সিনড্রোমে তার মৃত্যু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%