মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৮ এম
স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ রকেট প্রথমবারের মতো সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে উঠেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উড্ডয়নকালে একটি ইঞ্জিন অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও, রকেটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রথম ব্যাচের নতুন স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট স্থাপন করতে সক্ষম হয়। খবর রয়টার্স।
৪০ তলা ভবনের সমান এই মনুষ্যবিহীন যানটি সুপার হেভি বুস্টার রকেট ও উপরের মূল স্টারশিপ মহাকাশযানের সমন্বয়ে গঠিত। এটি টেক্সাসের স্টারবেজ কমপ্লেক্স থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। মিশনটি ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, ইঞ্জিনের জটিলতার কারণে তা কমিয়ে ৩ ঘণ্টায় আনা হয়। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে রকেটটি প্রশান্ত মহাসাগরে নেমে আসে।
আগের দুটি মিশনে ল্যান্ডিং সফল না হলেও, এবার সুপার হেভি বুস্টারটি স্টারশিপকে মহাশূন্যে পৌঁছে দেয়ার পর নিয়ন্ত্রিতভাবে মেক্সিকো উপসাগরে অবতরণ করে। তবে নামার সময় বুস্টারের কয়েকটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে স্পেসএক্স জানিয়েছে।
মহাশূন্যে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের প্রধান তিনটি ইঞ্জিনের একটি সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই স্পেসএক্সের মুখপাত্র ড্যান হুওট জানান, মহাকাশযানটি আর কক্ষপথে পৌঁছাতে পারবে না।
কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রকৌশলীদের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে হুওট তার বক্তব্য পরিবর্তন করেন। প্রকৌশলীরা নিশ্চিত করেন, রকেটের ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে এখনও কক্ষপথে পৌঁছানো সম্ভব এবং এর পরপরই স্টারশিপ সফলভাবে কক্ষপথে প্রবেশ করে।
কক্ষপথে পৌঁছানোর পর প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একে একে ২৬টি নেক্সট জেনারেশন স্টারলিঙ্ক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে স্টারশিপ।
স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘সবকটি ২৬টি স্টারলিঙ্ক ভি৩ স্যাটেলাইট সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং এগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।’
সোমবার মিশনটি সংক্ষিপ্ত করার আগে স্টারশিপের পৃথিবীর চারপাশে ছয়বার প্রদক্ষিণ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ইঞ্জিনের গোলযোগের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় নিরাপদে প্রবেশের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর জন্য মহাকাশে থাকা অবস্থায় একটি রেপ্টর ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে যানটির কোণ সঠিকভাবে প্রস্তুত করার প্রয়োজন হয়। উল্লেখ্য, যানটিতে মোট তিনটি মূল রেপ্টর ইঞ্জিন ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীতে পুলিশ মো. হাসান (৪২) নামের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার পার্কভিউ হাসপাতাল থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. হাসান হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের জোবরা গ্রামের মৃত নুরুল আলমের পুত্র। তিনি হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসানের স্ত্রী ডেলিভারির জন্য পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। স্ত্রীর ডেলিভারির পর হাসান যখন হাসপাতাল থেকে ওষুধ আনতে বের হন, তখন সাদা পোশাক পরিহিত ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল, যারা ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়।
পার্কভিউ হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিবি পরিচয়ে একজনকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান সোমবার রাতে হাসানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হাসান ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সরকার পতনের পর। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিগারেটের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব বৃদ্ধি ঘটছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে সিগারেট থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা কমেছে। গবেষক ও তামাক করনীতি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজস্ব আদায়ে এই বড় ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) কার্যালয়ে ‘মিডিয়া ওয়ার্কশপ অন টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি : লেসন্স ফ্রম ২০২৬-২৭ বাজেট, মার্কেট ট্রেন্ডস, পলিসি আউটকামস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় সাংবাদিক, গবেষক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোহাম্মদ ইহতেশাম হাসান তামাক কর কাঠামো, বাজারের প্রবণতা, রাজস্ব আদায় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন। পিপিআরসির গবেষণা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট আবগারি কর চালু হয়নি। নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য ৬০ টাকা থেকে প্রথমে ৬২ টাকা এবং পরে ৬৫ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দাম যথাক্রমে ৯২, ১৬০ ও ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে সিগারেটের প্রকৃত দাম কমেছে। পিপিআরসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অধিকাংশ স্তরের সিগারেটের প্রকৃত মূল্য হ্রাস পেয়েছে। ফলে নামমাত্র দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতির তুলনায় সিগারেট তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
রাজস্ব আদায়েও এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে সিগারেট থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা নেমে এসেছে প্রায় ৪ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আদায় কমেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।
তবে পিপিআরসি বলছে, এই ঘাটতিকে এখনই সিগারেট খাতে স্থায়ী রাজস্ব ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। নতুন ত্রৈমাসিক ভ্যাট ব্যবস্থা রাজস্ব হিসাব ও আদায়ের সময়কে প্রভাবিত করতে পারে। তাদের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভ্যাট হিসাবের সময়গত প্রভাব সর্বোচ্চ মাত্রায় ধরা হলে আপাত ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে। প্রকৃত চিত্র জানতে জুলাই-সেপ্টেম্বরের পৃথক ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায়ের তথ্য প্রয়োজন।
এদিকে সিগারেটের বাজারে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট বাজারে নিম্নস্তরের সিগারেটের হিস্যা ছিল ৭৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের মে নাগাদ তা ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিপরীতে মধ্যম স্তরের সিগারেটের হিস্যা ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মূল্য পুনর্নির্ধারণের পর কিছু ব্র্যান্ডের শ্রেণি পরিবর্তনের পাশাপাশি তুলনামূলক বেশি দামের সিগারেটের দিকে ভোক্তাদের ঝুঁকে পড়ার প্রবণতাও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান মূল্যভিত্তিক কর কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে খুচরা মূল্য বৃদ্ধি পেলেও রাজস্ব একই হারে বৃদ্ধি পায় না। তাই নির্দিষ্ট আবগারি কর চালু করলে রাজস্ব আদায় আরো পূর্বানুমানযোগ্য হতে পারে।
বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিগারেটের ব্যবহার কমাতে মূল্য ও করের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যকে আরও কম সাশ্রয়ী করতে হবে। বক্তারা বাজার নজরদারি, প্রকৃত বিক্রয়মূল্য, একক শলাকা বিক্রি এবং করসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।
পিপিআরসির বিশ্লেষণে বলা হয়, গত এক দশকে এনবিআরের মোট রাজস্বের প্রায় ১০ থেকে ১৩ শতাংশ এসেছে সিগারেট থেকে। ফলে তামাক করনীতি জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব কৌশলের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে হাদল ইউনিয়নের কুচলিয়া গ্রাম থেকে ১৫ রাউন্ড চায়না রাইফেলের তাজা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুর থানা পুলিশ ওই গ্রামের একটি বটগাছের নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তায় ভরা এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
ওসি বলেন, হাদল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিল অধ্যুষিত এলাকায় সর্বহারা-নকশালপন্থি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এ অবস্থায় ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গোলাগুলি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি বড় বটগাছের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি বস্তায় ভরা চায়না রাইফেলের ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি চাপাতি, বাট ও একটি ছুরি এবং বিভিন্ন আকারের তিনটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও জানান, ওই এলাকায় সশস্ত্র কয়েকটি গ্রুপের কার্যক্রম রয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে খাল-বিল ও জলাশয় দখল, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলার হাদল এলাকায় এর আগে কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ওই এলাকায় একাধিক হত্যা ও গুমের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ফরিদপুর থানায় অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
ওসি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআই আরিফুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন যে, দেশের সব স্তরে এবং সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বিশ্ব শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব হয়। এই উদ্দেশ্যে, সরকার দেশ-বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার কাজ করছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত ভূমির বাস্তবতায় শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের বিকাশ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি কার্যকর পথ। সরকার আগামী দিনে কম মূলধন বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে—এমন শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্প একসঙ্গে বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই সরকার যে শিল্পখাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে, তার মধ্যে এই খাত অন্যতম।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের পরিধি যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি জানান, বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি বড় সাফল্য হলো প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জন করে সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন—এটাই এই ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে এ প্রকল্পের আকার আরও বড় করা হবে এবং বিটাককে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় বিটাকের প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তিন মাসের প্রশিক্ষণ আপনাদের কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা মাত্র। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনের orientation পেয়েছেন; কিন্তু পরবর্তী সময়ে শেখার দায়িত্ব আপনাদের নিজেদের। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে পেশাগত জীবনে কাজে লাগানোর দায়িত্বও আপনাদেরই নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রত্যেকেই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছেন। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করার দায়িত্ব আপনাদের নিজেদের।
শিল্পমন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে সরকার শুধু বিটাকের মাধ্যমে নয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগের আওতায় আরও বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, শুধু একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। প্রশিক্ষণের সঙ্গে অব্যাহত শিক্ষা ও নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখার মানসিকতা থাকতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি ও শিল্পের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে; সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, কারিগরি দক্ষতা কোনোভাবেই উচ্চশিক্ষার চেয়ে কম মর্যাদার নয়। বিশ্বের আধুনিক শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।
বিটাকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিথির সচিব মো. নুরুজ্জামান, আরএফএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ, ম্যাটাডোর গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এইচএম আল মামুন বক্তৃতা করেন।
পরে মন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ এবং নিয়োগপত্র প্রদান করেন। উল্লেখ্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭২২ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৪২ জনের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ