প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিগারেটের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব বৃদ্ধি ঘটছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে সিগারেট থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা কমেছে। গবেষক ও তামাক করনীতি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজস্ব আদায়ে এই বড় ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) কার্যালয়ে ‘মিডিয়া ওয়ার্কশপ অন টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি : লেসন্স ফ্রম ২০২৬-২৭ বাজেট, মার্কেট ট্রেন্ডস, পলিসি আউটকামস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় সাংবাদিক, গবেষক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোহাম্মদ ইহতেশাম হাসান তামাক কর কাঠামো, বাজারের প্রবণতা, রাজস্ব আদায় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন। পিপিআরসির গবেষণা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট আবগারি কর চালু হয়নি। নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য ৬০ টাকা থেকে প্রথমে ৬২ টাকা এবং পরে ৬৫ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দাম যথাক্রমে ৯২, ১৬০ ও ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে সিগারেটের প্রকৃত দাম কমেছে। পিপিআরসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অধিকাংশ স্তরের সিগারেটের প্রকৃত মূল্য হ্রাস পেয়েছে। ফলে নামমাত্র দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতির তুলনায় সিগারেট তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
রাজস্ব আদায়েও এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে সিগারেট থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা নেমে এসেছে প্রায় ৪ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আদায় কমেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।
তবে পিপিআরসি বলছে, এই ঘাটতিকে এখনই সিগারেট খাতে স্থায়ী রাজস্ব ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। নতুন ত্রৈমাসিক ভ্যাট ব্যবস্থা রাজস্ব হিসাব ও আদায়ের সময়কে প্রভাবিত করতে পারে। তাদের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভ্যাট হিসাবের সময়গত প্রভাব সর্বোচ্চ মাত্রায় ধরা হলে আপাত ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে। প্রকৃত চিত্র জানতে জুলাই-সেপ্টেম্বরের পৃথক ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায়ের তথ্য প্রয়োজন।
এদিকে সিগারেটের বাজারে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট বাজারে নিম্নস্তরের সিগারেটের হিস্যা ছিল ৭৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের মে নাগাদ তা ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিপরীতে মধ্যম স্তরের সিগারেটের হিস্যা ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মূল্য পুনর্নির্ধারণের পর কিছু ব্র্যান্ডের শ্রেণি পরিবর্তনের পাশাপাশি তুলনামূলক বেশি দামের সিগারেটের দিকে ভোক্তাদের ঝুঁকে পড়ার প্রবণতাও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান মূল্যভিত্তিক কর কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে খুচরা মূল্য বৃদ্ধি পেলেও রাজস্ব একই হারে বৃদ্ধি পায় না। তাই নির্দিষ্ট আবগারি কর চালু করলে রাজস্ব আদায় আরো পূর্বানুমানযোগ্য হতে পারে।
বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিগারেটের ব্যবহার কমাতে মূল্য ও করের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যকে আরও কম সাশ্রয়ী করতে হবে। বক্তারা বাজার নজরদারি, প্রকৃত বিক্রয়মূল্য, একক শলাকা বিক্রি এবং করসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।
পিপিআরসির বিশ্লেষণে বলা হয়, গত এক দশকে এনবিআরের মোট রাজস্বের প্রায় ১০ থেকে ১৩ শতাংশ এসেছে সিগারেট থেকে। ফলে তামাক করনীতি জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব কৌশলের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন