মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৯ এম
সিগারেটের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব বৃদ্ধি ঘটছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে সিগারেট থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা কমেছে। গবেষক ও তামাক করনীতি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজস্ব আদায়ে এই বড় ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) কার্যালয়ে ‘মিডিয়া ওয়ার্কশপ অন টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি : লেসন্স ফ্রম ২০২৬-২৭ বাজেট, মার্কেট ট্রেন্ডস, পলিসি আউটকামস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় সাংবাদিক, গবেষক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোহাম্মদ ইহতেশাম হাসান তামাক কর কাঠামো, বাজারের প্রবণতা, রাজস্ব আদায় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন। পিপিআরসির গবেষণা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট আবগারি কর চালু হয়নি। নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য ৬০ টাকা থেকে প্রথমে ৬২ টাকা এবং পরে ৬৫ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দাম যথাক্রমে ৯২, ১৬০ ও ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে সিগারেটের প্রকৃত দাম কমেছে। পিপিআরসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অধিকাংশ স্তরের সিগারেটের প্রকৃত মূল্য হ্রাস পেয়েছে। ফলে নামমাত্র দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতির তুলনায় সিগারেট তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
রাজস্ব আদায়েও এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে সিগারেট থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা নেমে এসেছে প্রায় ৪ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আদায় কমেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।
তবে পিপিআরসি বলছে, এই ঘাটতিকে এখনই সিগারেট খাতে স্থায়ী রাজস্ব ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। নতুন ত্রৈমাসিক ভ্যাট ব্যবস্থা রাজস্ব হিসাব ও আদায়ের সময়কে প্রভাবিত করতে পারে। তাদের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভ্যাট হিসাবের সময়গত প্রভাব সর্বোচ্চ মাত্রায় ধরা হলে আপাত ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে। প্রকৃত চিত্র জানতে জুলাই-সেপ্টেম্বরের পৃথক ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায়ের তথ্য প্রয়োজন।
এদিকে সিগারেটের বাজারে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট বাজারে নিম্নস্তরের সিগারেটের হিস্যা ছিল ৭৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের মে নাগাদ তা ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিপরীতে মধ্যম স্তরের সিগারেটের হিস্যা ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মূল্য পুনর্নির্ধারণের পর কিছু ব্র্যান্ডের শ্রেণি পরিবর্তনের পাশাপাশি তুলনামূলক বেশি দামের সিগারেটের দিকে ভোক্তাদের ঝুঁকে পড়ার প্রবণতাও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান মূল্যভিত্তিক কর কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে খুচরা মূল্য বৃদ্ধি পেলেও রাজস্ব একই হারে বৃদ্ধি পায় না। তাই নির্দিষ্ট আবগারি কর চালু করলে রাজস্ব আদায় আরো পূর্বানুমানযোগ্য হতে পারে।
বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিগারেটের ব্যবহার কমাতে মূল্য ও করের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যকে আরও কম সাশ্রয়ী করতে হবে। বক্তারা বাজার নজরদারি, প্রকৃত বিক্রয়মূল্য, একক শলাকা বিক্রি এবং করসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।
পিপিআরসির বিশ্লেষণে বলা হয়, গত এক দশকে এনবিআরের মোট রাজস্বের প্রায় ১০ থেকে ১৩ শতাংশ এসেছে সিগারেট থেকে। ফলে তামাক করনীতি জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব কৌশলের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে হাদল ইউনিয়নের কুচলিয়া গ্রাম থেকে ১৫ রাউন্ড চায়না রাইফেলের তাজা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুর থানা পুলিশ ওই গ্রামের একটি বটগাছের নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তায় ভরা এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
ওসি বলেন, হাদল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিল অধ্যুষিত এলাকায় সর্বহারা-নকশালপন্থি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এ অবস্থায় ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গোলাগুলি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি বড় বটগাছের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি বস্তায় ভরা চায়না রাইফেলের ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি চাপাতি, বাট ও একটি ছুরি এবং বিভিন্ন আকারের তিনটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও জানান, ওই এলাকায় সশস্ত্র কয়েকটি গ্রুপের কার্যক্রম রয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে খাল-বিল ও জলাশয় দখল, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলার হাদল এলাকায় এর আগে কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ওই এলাকায় একাধিক হত্যা ও গুমের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ফরিদপুর থানায় অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
ওসি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআই আরিফুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন যে, দেশের সব স্তরে এবং সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বিশ্ব শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব হয়। এই উদ্দেশ্যে, সরকার দেশ-বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার কাজ করছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত ভূমির বাস্তবতায় শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের বিকাশ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি কার্যকর পথ। সরকার আগামী দিনে কম মূলধন বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে—এমন শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্প একসঙ্গে বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই সরকার যে শিল্পখাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে, তার মধ্যে এই খাত অন্যতম।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের পরিধি যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি জানান, বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি বড় সাফল্য হলো প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জন করে সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন—এটাই এই ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে এ প্রকল্পের আকার আরও বড় করা হবে এবং বিটাককে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় বিটাকের প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তিন মাসের প্রশিক্ষণ আপনাদের কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা মাত্র। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনের orientation পেয়েছেন; কিন্তু পরবর্তী সময়ে শেখার দায়িত্ব আপনাদের নিজেদের। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে পেশাগত জীবনে কাজে লাগানোর দায়িত্বও আপনাদেরই নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রত্যেকেই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছেন। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করার দায়িত্ব আপনাদের নিজেদের।
শিল্পমন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে সরকার শুধু বিটাকের মাধ্যমে নয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগের আওতায় আরও বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, শুধু একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। প্রশিক্ষণের সঙ্গে অব্যাহত শিক্ষা ও নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখার মানসিকতা থাকতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি ও শিল্পের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে; সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, কারিগরি দক্ষতা কোনোভাবেই উচ্চশিক্ষার চেয়ে কম মর্যাদার নয়। বিশ্বের আধুনিক শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।
বিটাকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিথির সচিব মো. নুরুজ্জামান, আরএফএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ, ম্যাটাডোর গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এইচএম আল মামুন বক্তৃতা করেন।
পরে মন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ এবং নিয়োগপত্র প্রদান করেন। উল্লেখ্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭২২ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৪২ জনের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ রাজধানীর উত্তরা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
আজ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে আওয়ামী লীগ দলীয় বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমনের উত্তরার বাসায় বৈঠক করার সময়, যেখানে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. ইয়াকুব হোসাইন রাজিব (২৬), আরাফাত মিয়া (২২), রিফাত হাওলাদার (১৯), মো. হৃদয় (২১), ফাহিম (১৯), রাজিব হোসেন রানা (২৪), মো. ফিরোজ (২৬), আরিফ হোসেন (২৮), আবদুল্লাহ আল আমান (১৯), মো. আবদুল্লাহ আল নোমান (২১), সোহানুর হোসেন শাহীন (২২), মো. হাসিব (১৯), ফারজানা (২১), মো. হাসিব মিয়া (২৩) এবং ওমর ফারুক।
উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ জানায়, বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানার সাত নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা ওই বাসায় সমবেত হয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করছিল। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসকদের বৃহত্তম সংগঠন ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিজ অব অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যাতে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা আরও সহজ এবং সমন্বিতভাবে করা যায়।
এই ঘোষণা সিডনিতে অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়ের সমাপনী দিনে দেওয়া হয়।
অস্ট্রেলিয়ার ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চাহিদা বিদ্যমান। তবে এই চাহিদা পূরণের জন্য এবং বিধিসম্মতভাবে অভিবাসন গ্রহণের জন্য দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলোসহ আরও অনেক বিষয় আলোচনা হয়েছে ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিজ অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএমএসএ) এর বার্ষিক কনভেনশানে।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের এই সংগঠনটি আগামীতে বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা চিকিৎসকদের পেশাগত অগ্রযাত্রায় সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। আয়োজকেরা নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী ও অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধির কাছে হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল অ্যাটাচমেন্টের সুযোগ এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ বা কোর্সের ব্যবস্থা করার জন্য বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।
অস্ট্রেলিয়ায় ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে প্রায় এক হাজার ৮০০ চিকিৎসক বসবাস করছেন। তারা অস্ট্রেলিয়াতে গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে গবেষণা ও কারিগরি উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক অধিবেশনগুলোর সমন্বয় করেন ডা. আকবর আশরাফী এবং বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের শিক্ষা সম্পাদক ডা. মিহির রায়।
জুনিয়র চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের পেশাগত দিক-নির্দেশনার পাশাপাশি হরমোন ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
হৃদরোগের পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের কাছে রোগী পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা করেন ডা. জামিল আহমেদ ও ডা. ময়েজুর রহমান। ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য রাখেন ডা. মোহাম্মদ ইসলাম।
আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসায় ডোনানেমাব নিয়ে আলোচনা করেন ডা. মনোয়ার হোসেন এবং রিউমাটোলজির সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন ডা. মুখলেসুর রহমান।
আরএসভি টিকাদান, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তকরণ, মেনোপজ ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন ডা. লুতফুন্নেসা কুদ্দুস, ডা. শাহনাজ আক্তারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী জিহাদ ডিব এমপি, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. বুরহানউদ্দিন, অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী এবং অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নিউ সাউথ ওয়েলস শাখার সভাপতি ডা. ফ্রেড বেট্রোস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বাংলাদেশ থেকে যোগ দেন। তিনি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চিকিৎসাশিক্ষায় তাঁদের অবদান রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রবাসী চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের আতিথেয়তায় ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পেনরিথের ওয়েস্টার্ন সিডনি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এই আয়োজন চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানচর্চা, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারিবারিক মিলনমেলার এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও নৈশভোজের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা হয়। চিকিৎসক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং সন্তানদের অংশগ্রহণে সংগীত ও নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা শিল্পী ও কলাকুশলীদের পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নকীব খানের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা ছিল সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ। ছয় শতাধিক চিকিৎসক ও তাদের পরিবার-পরিজন এই সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ