মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৯ পি.এম
‘নদীর তীর থেকে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে মাটি কাটা হয়, যা ভাসমান পন্টুনে রাখা হয়। আবার নদীর তীরে মাটি তুলে স্তূপ করা হয়। রাতের অন্ধকারে অপেক্ষমাণ ড্রামট্রাকে সেই মাটি তোলা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়, ক্রেতার ঠিকানায়।’
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে মাটি লুটের এই চিত্র তুলে ধরছিলেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
সম্প্রতি একটি বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর কালীগঞ্জের মূলগাঁও ঘাটে গিয়ে এ প্রতিবেদক ওই বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ঘাট থেকে খানিকটা দূরে মাঝনদীতে একটি ভাসমান পন্টুন দেখা যায়। সেখানে মাটিবাহী পন্টুনে মাটি রাখা ছিল এবং তার ওপর একটি এক্সকাভেটর অবস্থান করছিল।
স্থানীয়দের মতে, রাত হলেই পন্টুন মাঝনদী থেকে তীরে নিয়ে আসা হয়। এরপর সেখানে অপেক্ষমাণ ড্রামট্রাকে মাটি তুলে তা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়। তারা জানান, নদীর তীর থেকে মাটি কেটে তীরেও রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে এভাবে নদীর মাটি লুট করলেও প্রশাসন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
নদীতীরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দারা জানান, কালীগঞ্জে রাত নামলেই শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে যন্ত্রের গর্জন শুরু হয়। অন্ধকারে লং বুম এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মূলগাঁও মৌজার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ট্রাকে করে মাটি সরবরাহ করা হয়। প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৩৫টি ট্রাকে করে মাটি সরানো হয়।
মূলগাঁও নদীতীরের দোকানি চাঁদপুরের নাবিল মাহমুদ জানান, রাতের বেলায়ও চটপটি বিক্রি হয়। মাটিভর্তি পন্টুন ও ড্রামট্রাকের লোকজন রাতে চটপটি খান। তাই রাতেও তিনি দোকান চালান।
ড্রামট্রাকের শ্রমিক জামালপুরের আ. মোতালেব বলেন, ‘রাতের বেলায় ড্রামট্রাকে মাটি তোলার কাজ করি। এরপর যেখানে মাটি যায়, সেখানে মাটি খালাসের কাজও করি।’
এদিকে, প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা আদায়ের পরও শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মাটি লুট থামছে না। সম্প্রতি মূলগাঁও গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৩৮)-কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই নদীতীর থেকে মাটি কাটা চলছে এবং মাঝে মাঝে ‘লোকদেখানো’ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
শীতলক্ষ্যার চরসিন্দুর সেতু থেকে রূপগঞ্জ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার অংশে দায়িত্ব পালন করছেন ঘোড়াশাল নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. রেজাউল করিম। কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, ‘২০২১ সালের শেষের দিকে এই নদীবন্দর স্বতন্ত্রভাবে চালু হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখল থেকে ১০৮০টি স্থাপনা উচ্ছেদ, ২৫.৫৫ তীরভূমি উদ্ধার এবং তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া গত পাঁচ বছরে চারবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় নদী দখল ও দূষণের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মাটি লুট করে বিক্রির ঘটনা এখনও চলা প্রসঙ্গে উপপরিচালক বলেন, ‘গত ১১ অক্টোবর আমি এখানে যোগদান করেছি। সব খোঁজখবর নিচ্ছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাটি চুরি বন্ধ হবে আশা করি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সোমবার (২৭ অক্টোবর) কালীগঞ্জের মূলগাঁও এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ঘটনায় মূলগাঁও গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৩৮) কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর বেলাবতে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, দুই নারীকে মারধর, একজনকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বেলাবো থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. শরীফ মিয়া (৩০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শরীফ মিয়া বেলাবো উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘলদীকান্দা এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী রেনু মিয়া (৪০), লাবলী বেগম (৩০) ও অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনের সঙ্গে তাঁদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে রেনু মিয়ার নির্দেশে লাবলী বেগমসহ কয়েকজন বাঁশের লাঠি, কাঠের ডাসা ও লোহার রড নিয়ে শরীফ মিয়ার বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় শরীফ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম (২৫) ও তাঁর মা আছিয়া বেগমকে (৪৮) লাঠি, কাঠের ডাসা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে রেনু মিয়ার সঙ্গে থাকা একটি গামছা দিয়ে সুমি বেগমের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় লাবলী বেগম তাঁর গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন খুলে নেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। চেইনটির আনুমানিক মূল্য এক লাখ ১০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। এরপর আহত সুমি বেগম ও আছিয়া বেগমকে চিকিৎসার জন্য বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মো. শরীফ মিয়া।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ২৮ অক্টোবর থেকে ঢাকা-রিয়াদ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদি নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত করেছে সংস্থাটি।
এর আগে, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থাটি সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করেছিল।
একই রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসরকারি ইউএস বাংলা ফ্লাইট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। বিকল্প হিসেবে, রিয়াদের অনেক যাত্রী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে জেদ্দা ও মদিনা হয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে।
এসময় যাত্রীদের কাছ থেকে শিডিউল পরিবর্তনের জন্য কোনো বাড়তি ফি নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে এয়ারলাইন্সগুলো। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে আগামী ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘সিলেট বইমেলা-২০২৬’। নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ১২ দিনব্যাপী এ বইমেলা চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। বইমেলা আয়োজন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নগরের কাজী নজরুল একাডেমি হল রুমে এক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘আলোকিত সিলেট" এবং জেলা ও মহানগর জাসাসের সার্বিক সহযোগিতায় এ বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
বইমেলার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ আহমদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হোসেন খান। কবি ও কথা সাহিত্যিক এবং বইমেলা কমিটির সদস্যসচিব মুন্নি আক্তারের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সি এম আব্দুল্লাহ আরিফ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আল আমীন, আলোকিত সিলেটের সভাপতি ফজলুল করিম এনাম,
আলোকিত সিলেটের সহসভাপতি ও মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ, জসিম বুক হাউস সাহিত্য পরিষদের সভাপতি, কবি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছয়ফুল আলম পারুল এবং আলোকিত সিলেটের সহসভাপতি, লেখক ও ব্যাংকার জগলুল হক।
দৈনিক কাজির বাজার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক শাহান আহমদ চৌধুরী, জসিম বুক হাউস প্রকাশনীর প্রকাশক ও স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিন, দিরাই উপজেলার সম্ভাব্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও আলোকিত সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান তালুকদার, সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মুফতি দেওয়ান আব্দুল্লাহ রাজা চৌধুরী, কবি ও গল্পকার মো. আতিকুল ইসলাম, নাট্যকার কামাল আহমদ, কবি জেসমিন বেগম, মো. কাজিম আহমদ ও মোশাহিদ মিয়া প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, বই মানুষের ভিতরের মনুষ্যত্বাকে জাগ্রত করে মানুষকে আলোকিত মানুষে পরিণত করে। তাই নতুন প্রজন্মকে বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলা এবং লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। সিলেট বইমেলা সফল ও সার্থক করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আহ্বান জানান বক্তারা।
আয়োজকেরা জানান, বইমেলায় স্টল বুকিং চলছে। আগ্রহী প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বুকিংয়ের জন্য ০১৭১২-৯৬১৭৩৫ অথবা ০১৭৩৪-৯২১১৩৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে নিজ দেশে অন্যায্য আর্থিক জরিমানা আরোপের বিরুদ্ধে নজরদারি ও তদারকি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের কর্মীদের বিষয়টি তুলে ধরেন।
সম্প্রতি উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের নাগরিকদের কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া আর্থিক জরিমানা আরোপ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আইনপ্রণেতা শিন জেওং-হুন মঙ্গলবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় নিরীক্ষাকালে সরকারের কাছে একটি স্থায়ী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, "কর্মীদের কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষমতা সংকুচিত করে এমন আর্থিক জরিমানা মানব পাচারের একটি মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।"
শিনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উজবেকিস্তান তাদের দেশে ই-৯ ভিসায় আসা কর্মীদের জন্য অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল পরিবর্তন করলে প্রতি মাসে ২,০০০ মার্কিন ডলার জরিমানা আরোপ করত। এই জরিমানা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও কার্যকর ছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশও ই-৯ ভিসাধারী কর্মীদের জন্য জামানত বা ডিপোজিট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল। কর্মস্থল পরিবর্তনসহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই জামানতের অর্থ আটকে রাখা হতো।
গত আগস্টে লিঙ্গ সমতা ও পরিবার বিষয়ক মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয় যে, এই ধরনের নীতি মানব পাচারের আওতায় পড়ে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, "এই জরিমানা ও জামানত প্রথা কর্মীদের কর্মস্থল পরিবর্তনের স্বাধীনতা গভীরভাবে সীমিত করে দেয়।"
দক্ষিণ কোরিয়ার 'এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম' (ইপিএস)-এর অধীনে, ই-৯ ভিসাধারী কর্মীরা প্রথম তিন বছরের চুক্তির সময় সর্বোচ্চ তিনবার এবং পরবর্তী ১ বছর ১০ মাসের সম্ভাব্য বর্ধিত মেয়াদে আরও দু'বার কর্মস্থল পরিবর্তন করার সুযোগ পান।
কোরিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পর উজবেকিস্তান সেপ্টেম্বর মাসে কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং জরিমানা সংক্রান্ত বিধান বাতিল করে। বাংলাদেশও কর্মীদের জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। তবে আইনপ্রণেতা শিন বলেন, "এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবে ঠিকঠাক প্রয়োগ হচ্ছে কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, তা সরকারকে অবশ্যই যাচাই করে দেখতে হবে।"
শিন আরও বলেন, "আমাদের এই প্রচেষ্টা কেবল এই দুটি দেশেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কর্মী পাঠানো অন্যান্য দেশগুলোও কর্মস্থল পরিবর্তনকারী কর্মীদের ওপর একই ধরনের আর্থিক জরিমানা আরোপ করছে কি না, তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।"
কোরিয়ার ইপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট মেটাতে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানসহ ১৭টি দেশ থেকে অদক্ষ বা সাধারণ বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিদেশি কর্মীদের কোরিয়ায় আনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান 'হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস অব কোরিয়া'-র তীব্র সমালোচনা করেন শিন। বাংলাদেশি কর্মীদের জামানত ফেরতের প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য সংস্থাটি বাংলাদেশি সরকারের অনুরোধে কর্মীদের চাকরির ইতিহাস সংক্রান্ত সনদ ইস্যু করে আসছিল।
সংস্থাটি শিনকে জানায়, "তারা এই প্রথার সঙ্গে মানব পাচারের কোনো সম্ভাব্য সম্পর্ক আগে অনুধাবন করতে পারেনি।" তবে গত এপ্রিলেই তারা জামানত ফেরতের জন্য এমন সনদ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
বিদেশি কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি থেকে সংস্থাটি গত পাঁচ বছরে ১,০০০ কোটি ওনেরও (প্রায় ৭৫,০০০ মার্কিন ডলার) বেশি রাজস্ব আয় করেছে। শিন বিদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারি তদারকি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ