প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে নিজ দেশে অন্যায্য আর্থিক জরিমানা আরোপের বিরুদ্ধে নজরদারি ও তদারকি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের কর্মীদের বিষয়টি তুলে ধরেন।
সম্প্রতি উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের নাগরিকদের কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া আর্থিক জরিমানা আরোপ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আইনপ্রণেতা শিন জেওং-হুন মঙ্গলবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় নিরীক্ষাকালে সরকারের কাছে একটি স্থায়ী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, "কর্মীদের কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষমতা সংকুচিত করে এমন আর্থিক জরিমানা মানব পাচারের একটি মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।"
শিনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উজবেকিস্তান তাদের দেশে ই-৯ ভিসায় আসা কর্মীদের জন্য অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল পরিবর্তন করলে প্রতি মাসে ২,০০০ মার্কিন ডলার জরিমানা আরোপ করত। এই জরিমানা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও কার্যকর ছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশও ই-৯ ভিসাধারী কর্মীদের জন্য জামানত বা ডিপোজিট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল। কর্মস্থল পরিবর্তনসহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই জামানতের অর্থ আটকে রাখা হতো।
গত আগস্টে লিঙ্গ সমতা ও পরিবার বিষয়ক মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয় যে, এই ধরনের নীতি মানব পাচারের আওতায় পড়ে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, "এই জরিমানা ও জামানত প্রথা কর্মীদের কর্মস্থল পরিবর্তনের স্বাধীনতা গভীরভাবে সীমিত করে দেয়।"
দক্ষিণ কোরিয়ার 'এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম' (ইপিএস)-এর অধীনে, ই-৯ ভিসাধারী কর্মীরা প্রথম তিন বছরের চুক্তির সময় সর্বোচ্চ তিনবার এবং পরবর্তী ১ বছর ১০ মাসের সম্ভাব্য বর্ধিত মেয়াদে আরও দু'বার কর্মস্থল পরিবর্তন করার সুযোগ পান।
কোরিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পর উজবেকিস্তান সেপ্টেম্বর মাসে কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং জরিমানা সংক্রান্ত বিধান বাতিল করে। বাংলাদেশও কর্মীদের জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। তবে আইনপ্রণেতা শিন বলেন, "এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবে ঠিকঠাক প্রয়োগ হচ্ছে কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, তা সরকারকে অবশ্যই যাচাই করে দেখতে হবে।"
শিন আরও বলেন, "আমাদের এই প্রচেষ্টা কেবল এই দুটি দেশেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কর্মী পাঠানো অন্যান্য দেশগুলোও কর্মস্থল পরিবর্তনকারী কর্মীদের ওপর একই ধরনের আর্থিক জরিমানা আরোপ করছে কি না, তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।"
কোরিয়ার ইপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট মেটাতে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানসহ ১৭টি দেশ থেকে অদক্ষ বা সাধারণ বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিদেশি কর্মীদের কোরিয়ায় আনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান 'হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস অব কোরিয়া'-র তীব্র সমালোচনা করেন শিন। বাংলাদেশি কর্মীদের জামানত ফেরতের প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য সংস্থাটি বাংলাদেশি সরকারের অনুরোধে কর্মীদের চাকরির ইতিহাস সংক্রান্ত সনদ ইস্যু করে আসছিল।
সংস্থাটি শিনকে জানায়, "তারা এই প্রথার সঙ্গে মানব পাচারের কোনো সম্ভাব্য সম্পর্ক আগে অনুধাবন করতে পারেনি।" তবে গত এপ্রিলেই তারা জামানত ফেরতের জন্য এমন সনদ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
বিদেশি কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি থেকে সংস্থাটি গত পাঁচ বছরে ১,০০০ কোটি ওনেরও (প্রায় ৭৫,০০০ মার্কিন ডলার) বেশি রাজস্ব আয় করেছে। শিন বিদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারি তদারকি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন