বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪২ পি.এম
মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে করা মামলার বাদী এবং তার পিতা এস এম মাসুম বিল্লাহ একটি আপসনামায় উল্লেখ করেছেন যে, তার মেয়ের স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম এবং প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনায় অথবা তাদের মধ্যে কোনো রাগ-অভিমানের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, গাজী নজরুল ও মাকছুদা জামিনে মুক্তি পেলে তার কোনো আপত্তি নেই।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে বাদী নিজে উপস্থিত থেকে আপসনামাটি দাখিল করেন। সেখানে তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি জানতে পারেন যে, তার মেয়ের জামাই এবং প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনায় বা তাদের মধ্যে কোনো রাগ-অভিমানের কারণে মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি।
আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উভয় পক্ষ নিকটাত্মীয় হওয়ায় তারা আলোচনা করে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে আপসনামায় স্বাক্ষর করেছেন।
আপসনামার তিনটি শর্তে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না। আসামিরা জামিনে মুক্ত হলে উভয় পক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চেষ্টা করবে। বিচারাধীন বিষয়েও উভয় পক্ষ নির্লিপ্ত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপসনামা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দাবি করেছে যে, বাদীপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আপসনামাটি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এ ধরনের মামলায় আপসের আইনি কোনো সুযোগ নেই।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদীর ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। বাদী স্বেচ্ছায় এই আপসনামা দিয়েছেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, "কেন নিজেই মামলা করে পরে আপস করতে চাচ্ছেন"—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়ে মরিয়ম মারা যাওয়ার পর বাবা হিসেবে তিনি মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে আইনি বিভিন্ন দিক থেকে দেখার পর তিনি যখন বুঝেছেন যে, গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী প্রকৃতপক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, তখন তিনি আপসের সিদ্ধান্ত নেন।
আপসনামা দাখিলের পর গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। শুনানির সময় বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত থেকে দুই আসামির জামিনে তার আপত্তি নেই বলে জানান।
শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে দুই দফায় মোট ৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত।
সেদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান তার জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে লাশ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষে কিছু চিরকুটও পাওয়া যায়।
এর পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতেই নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহাকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে একটি বিল আইনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে রাজ্য ও স্কুলের কর্মীরা ঈদ পালনের জন্য তাদের প্রাপ্য ছুটি ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন।
ওয়াশিংটনের পর ক্যালিফোর্নিয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় অঙ্গরাজ্য, যেখানে দুই ঈদকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। গত বছর, ওয়াশিংটন প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের স্বাক্ষর করা অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭ অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্য ও স্কুলের কর্মীরা ঈদ পালনের জন্য ব্যক্তিগত ছুটি অথবা অন্য প্রাপ্য ছুটি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া, স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কে-১২ স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো ঈদের দিন বন্ধ রাখা যাবে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের ক্যালিফোর্নিয়া শাখা এই আইনকে স্বাগত জানিয়েছে।
এই সংগঠনটি বিলটির অন্যতম সহপৃষ্ঠপোষক ছিল। সংগঠনটির মতে, এই আইন ক্যালিফোর্নিয়ার ১০ লাখের বেশি মুসলিম বাসিন্দার দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে। কারণ, ঈদের দিনে অনেক মুসলিমকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা এবং স্কুল বা কর্মস্থলে যাওয়ার মধ্যে একটি বেছে নিতে হতো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মন্তব্য করেছেন, "সমৃদ্ধ দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।" তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আত্মনিয়োগ ও পরিশ্রম করা প্রয়োজন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হাটহাজারী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড, আরিফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মো. আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। এছাড়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন চৌধুরী।
অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও অধ্যাপক সৈয়দা নার্গিস সুলতানা এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আহসান চৌধুরী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের কোথাও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে।
মন্ত্রী একই সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অনলাইন বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, "দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, "কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হতে পারে।"
মন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কেন এলপিজির ঘাটতির কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে।
তিনি বলেন, "জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" যেসব এলাকায় এলপিজির সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেসব এলাকায় সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, "কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কিংবা বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরো সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে জেলা হিসাব ও অর্থ (অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স) কার্যালয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বিল নিষ্পত্তি, পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার অর্থ ছাড়েও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায়ের।
এসব বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান হিসাব মহানিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষকের (সিএজি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেত্রকোনা জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. আবদুল গাফফারও রয়েছেন। জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স কর্মকর্তা মো. মনজুরুল কবীরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। এ জন্য গত ২০ মে ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৫৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৫ টাকা ৮৯ পয়সা। পরে বগুড়ার সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেডকে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আবদুল গাফফারের অভিযোগ, কাজ পাওয়ার প্রায় এক মাসের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ও ওয়ার্ক অর্ডার সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স কার্যালয়ে বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিলের ভাউচার প্রস্তুত ও অনুমোদন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় অভিযোগে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রায় শতাধিক সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এটি প্রকল্পের মোট কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে স্থাপন করা প্যানেলগুলোর সঙ্গে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজেরও উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও অসম্পন্ন রয়েছে।
এদিকে, প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জেলা হিসাব ও অর্থ কার্যালয়ে প্রকল্পটির বিলসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য না দিয়ে এক সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মচারীর দাবি, এই সময়ের মধ্যে তড়িঘড়ি করে বেশ কিছু সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে।
শুধু সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিল নয়, নেত্রকোনা জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘিরেও অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বৈধ বেতন-ভাতা ও ইনক্রিমেন্টের বিল নিষ্পত্তি থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশনসংক্রান্ত কাজেও অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ বা কমিশন দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থ না দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও নানা ধরনের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ৫ মে জেলা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের অফিস সহকারী এনামুল হক। যৌথ স্বাক্ষর করা ওই অভিযোগে কার্যালয়ের একজন অডিটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি, অসদাচরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই এলাকার বাসিন্দা ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শিকা নাসিমা সিদ্দিকীর স্বামী মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমার স্ত্রী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পেনশনে যান। সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও নানা টালবাহানা করা হচ্ছিল। পরে অনৈতিক লেনদেনের পর কাজটি করে দেওয়া হয়।’
অভিযোগকারী মো. আবদুল গাফফার বলেন, ‘জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স কর্মকর্তা মো. মনজুরুল কবীরকে এসব বিষয়ে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেডের ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে প্রকল্পের বিল ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স কর্মকর্তা মো. মনজুরুল কবীর বলেন, ‘রুফটপ সোলারের যে বিল দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়েছে।’ তবে অভিযোগের অন্যান্য বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটির কাজ চলমান রয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর বিল দেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে ঠিকাদারের কাছ থেকে বিলের সমপরিমাণ অর্থের একটি চেক জামানত হিসেবে রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ