প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে করা মামলার বাদী এবং তার পিতা এস এম মাসুম বিল্লাহ একটি আপসনামায় উল্লেখ করেছেন যে, তার মেয়ের স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম এবং প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনায় অথবা তাদের মধ্যে কোনো রাগ-অভিমানের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, গাজী নজরুল ও মাকছুদা জামিনে মুক্তি পেলে তার কোনো আপত্তি নেই।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে বাদী নিজে উপস্থিত থেকে আপসনামাটি দাখিল করেন। সেখানে তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি জানতে পারেন যে, তার মেয়ের জামাই এবং প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনায় বা তাদের মধ্যে কোনো রাগ-অভিমানের কারণে মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি।
আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উভয় পক্ষ নিকটাত্মীয় হওয়ায় তারা আলোচনা করে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে আপসনামায় স্বাক্ষর করেছেন।
আপসনামার তিনটি শর্তে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না। আসামিরা জামিনে মুক্ত হলে উভয় পক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চেষ্টা করবে। বিচারাধীন বিষয়েও উভয় পক্ষ নির্লিপ্ত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপসনামা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দাবি করেছে যে, বাদীপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আপসনামাটি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এ ধরনের মামলায় আপসের আইনি কোনো সুযোগ নেই।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদীর ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। বাদী স্বেচ্ছায় এই আপসনামা দিয়েছেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, "কেন নিজেই মামলা করে পরে আপস করতে চাচ্ছেন"—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়ে মরিয়ম মারা যাওয়ার পর বাবা হিসেবে তিনি মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে আইনি বিভিন্ন দিক থেকে দেখার পর তিনি যখন বুঝেছেন যে, গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী প্রকৃতপক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, তখন তিনি আপসের সিদ্ধান্ত নেন।
আপসনামা দাখিলের পর গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। শুনানির সময় বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত থেকে দুই আসামির জামিনে তার আপত্তি নেই বলে জানান।
শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে দুই দফায় মোট ৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত।
সেদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান তার জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে লাশ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষে কিছু চিরকুটও পাওয়া যায়।
এর পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতেই নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন