ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাধারণ ক্লান্তি না ব্রেন টিউমার পার্থক্য চিনবেন কীভাবে?


সাধারণ ক্লান্তি না ব্রেন টিউমার পার্থক্য চিনবেন কীভাবে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

আজকের দ্রুতগতির ব্যস্ত জীবনে মানসিক ক্লান্তি বা চরম অবসাদ যেন এক নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। মিটিং মিস করা, পরিচিত নাম ভুলে যাওয়া, অথবা কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া—এগুলো সাধারণভাবে কাজের চাপ, ঘুমহীনতা বা বয়স বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ধারণা সঠিক মনে হলেও চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সাধারণ সমস্যাগুলোই হতে পারে মস্তিষ্কের অত্যন্ত মারাত্মক একটি রোগ ‘গ্লিওব্লাস্টোমা’-র প্রাথমিক সতর্কবার্তা।

গ্লিওব্লাস্টোমা হলো মস্তিষ্কের এক ধরণের অত্যন্ত জটিল ক্যানসার বা টিউমার, যা ‘অ্যাস্ট্রোসাইট’ নামক কোষ থেকে তৈরি হয়। অন্যান্য ক্যানসারের মতো এটি মস্তिष্কে কোনো সুনির্দিষ্ট মাংসপিণ্ড বা চাকা তৈরি করে না। বরং এটি মাটির নিচে গাছের শিকড়ের মতো সুস্থ ব্রেন টিস্যুর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণেই প্রাথমিক অবস্থায় কোনো মারাত্মক লক্ষণ প্রকাশ পায় না, বরং অত্যন্ত ধীর ও সূক্ষ্মভাবে এর উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।

মানুষদের ধারণা, ব্রেন টিউমার মানে অসহ্য মাথাব্যথা বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবে গ্লিওব্লাস্টোমা আক্রান্ত রোগীরা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে মনে করেন তারা শুধুমাত্র কাজের চাপে ক্লান্ত। আর এ কারণেই আসল বিপদের মধ্য দিয়ে যেতে পারেন তারা।

চিকিৎসকদের মতে, লক্ষণটি কী—তার চেয়ে বড় বিষয় হলো লক্ষণটির আচরণ কেমন হচ্ছে সময়ের সঙ্গে।

আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার

বার্নআউট বা কাজের ক্লান্তি মানুষের সামগ্রিক শক্তি ও মনোযোগ কমিয়ে দেয়; তবে এটি স্নায়ুতন্ত্রের কোনো স্থায়ী ক্ষতি করে না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ভালো ঘুম, কিংবা কাজ থেকে কিছুদিন ছুটি নিলে এই ক্লান্তি দ্রুত কমে যায়।

গ্লিওব্লাস্টোমা: বিশ্রাম বা ছুটি নিলে এই ক্লান্তি কমে না। যেহেতু টিউমারটি মস্তিষ্কের স্মৃতি, ভাষা, নড়াচড়া বা দৃষ্টিশক্তির নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ককে ক্রমাগত বাধাগ্রস্ত করতে থাকে, তাই এর উপসর্গগুলো সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে খারাপ দিকে যেতে থাকে।

সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে কিছু তুলনামূলক পার্থক্য রয়েছে। ভুলে যাওয়া: সাধারণ স্ট্রেসের কারণে মানুষ সাময়িকভাবে বিভিন্ন বিষয় ভুলে যেতে পারে। তবে গ্লিওব্লাস্টোমার ক্ষেত্রে একজন অত্যন্ত গোছানো মানুষও বারবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভুলে যেতে পারে কিংবা চেনা রান্নার রেসিপি মনে করতে হিমশিম খেতে পারে। এই পরিবর্তনটি সাধারণত রোগী নিজে বোঝার আগেই পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন।

মাথাব্যথা: স্ক্রিন টাইম বা টেনশনের মাথাব্যথা পানি পান করলে, বিশ্রাম নিলে বা সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে সেরে যায়। তবে টিউমারের কারণে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে গেলে যে মাথাব্যথা হয়, তা রাতে তীব্র আকার ধারণ করে। এছাড়া কাশি, হাঁচি বা নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ার সময় এই ব্যথা বেড়ে যেতে পারে এবং এর সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।

আরও পড়ুন: চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার

ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন: টিউমারটি মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবকে (যা আচরণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে) আক্রান্ত করলে একজন শান্ত স্বভাবের মানুষও হঠাৎ খিটখিটে বা সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন। অনেকেই একে বিষণ্ণতা বা পারিবারিক সমস্যা ভেবে ভুল করেন।

কথা বলার সমস্যা: ক্লান্তির কারণে মানুষ মাঝে মাঝে কথা বলার খেই হারিয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু ব্রেন টিউমারের রোগীরা সঠিক জেনে থাকলেও বারবার ভুল শব্দ ব্যবহার করেন, কথা বলার সময় অস্বাভাবিক দীর্ঘ বিরতি নেন কিংবা বাক্য শেষ করতে পারেন না।

দৃষ্টিশক্তি ও ভারসাম্যের সমস্যা: চোখের ঝাপসা দেখা অনেকেই চশমার পাওয়ার বদলানো বা স্ক্রিনের ক্লান্তি মনে করেন। তবে ক্রমাগত সবকিছু জোড়া দেখা বা হাঁটার সময় একপাশের জিনিসে বারবার ধাক্কা খাওয়া মোটেই অবহেলার বিষয় নয়।

বিশেষজ্ঞরা কিছু বিপজ্জনক লক্ষণের বিষয়েও সতর্ক করেছেন। যেমন: প্রাপ্তবয়স্কদের প্রথমবারের মতো খিঁচুনি—হঠাৎ খিঁচুনি দেখা দিলে নিউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। এটি ব্রেন টিউমারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া একাধিক লক্ষণের যৌথ উপস্থিতি—গ্লিওব্লাস্টোমার ক্ষেত্রে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকদের উদ্বেগ বাড়ে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের রাশিয়ায় পাচার, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ভয়ংকর তথ্য!

বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করে বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের ক্লান্তি বা সাধারণ মাথাব্যথা থাকা মানেই ব্রেন টিউমার নয়। তবে কোনো লক্ষণ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে এবং দিন দিন খারাপের দিকে যেতে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মস্তিষ্কের এমআরআই করানো উচিত। চিকিৎসায় গ্লিওব্লাস্টোমার মূল প্রকৃতিকে রাতারাতি বদলে দেওয়া যায় না, তবে দ্রুত রোগ নির্ণয় করা গেলে রোগীকে ভালো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি লাইফলাইন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাস্তায় যৌন হয়রানির শিকার হলে নারীদের করণীয় ৭টি বিষয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ এম


রাস্তায় যৌন হয়রানির শিকার হলে নারীদের করণীয় ৭টি বিষয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

চুপ না থেকে, যৌন হয়রানির শিকার নারীদের জন্য ৭ জরুরি পরামর্শ।

রাস্তাঘাট, গণপরিবহন কিংবা জনসমাগমস্থলে যৌন হয়রানি বহু মানুষের জন্য প্রতিদিনের একটি বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তার চিন্তা করে অনেকেই দ্রুত হেঁটে চলে যান, চোখের যোগাযোগ থেকে দূরে থাকেন বা কোনো প্রতিক্রিয়া জানান না। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিজের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে শুধু নিজের নয়, অন্যদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসমক্ষে যৌন হয়রানি বহুদিন ধরেই সমাজে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার একটি প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সচেতনতা, প্রতিবাদ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব।

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে নেওয়া যেতে পারে যেসব পদক্ষেপগুলো:

প্রয়োজনে প্রতিবাদ করুন।

যদি পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হয়, তাহলে শান্ত ও দৃঢ়ভাবে হয়রানিকারীকে তার আচরণ থামাতে বলতে পারেন। অশালীন ভাষা ছাড়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন, এমন ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।

দর্শক হয়ে থাকবেন না।

কাউকে হয়রানির শিকার হতে দেখলে নিরাপদ উপায়ে পাশে দাঁড়ান। সরাসরি বাধা দিতে না পারলে অন্যভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করুন বা ভুক্তভোগীকে সহায়তা করুন।

নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।

বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি, পরিবার বা পরিচিতদের সঙ্গে আপনার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন। এর ফলে মানসিক চাপ কমতে পারে এবং অন্যরাও সচেতন হতে পারেন।

অভিযোগ করুন।

যদি ঘটনাটি আইনগত অপরাধের মধ্যে পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। এতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা হবে।

সচেতনতা তৈরি করুন।

নিজের এলাকা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানিবিরোধী সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

নিরাপদ পরিবেশের দাবি তুলুন।

যেসব স্থানে নিয়মিত হয়রানির ঘটনা ঘটে, সেখানে পর্যাপ্ত আলো, নজরদারি এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানাতে হবে।

সহায়তার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন।

স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল বা কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিরাপদ জনপরিসর গড়তে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ হয়রানি কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌন হয়রানির শিকার হলে নীরব থাকা বাধ্যতামূলক নয়, আবার প্রতিবাদ করাও সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। মনে রাখতে হবে, যৌন হয়রানির দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়; দায় সম্পূর্ণরূপে হয়রানিকারীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলার নিন্দা জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলার নিন্দা জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

বাহরাইন ও কুয়েতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইরান পরিচালিত নতুন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

সোমবার (২০ জুলাই) আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, ইরানের এই পদক্ষেপ ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর ওপর পুনরায় চালানো বৈরী আক্রমণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের হামলা সার্বিক আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের নগ্ন লঙ্ঘন এবং এ সম্পর্কিত দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় আকারের হুমকি।

বিবৃতিতে আমিরাত বাহরাইন ও কুয়েতের সার্বিক নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দুই দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গৃহীত সকল পদক্ষেপের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধীরে খাওয়ার অভ্যাস কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ এম


ধীরে খাওয়ার অভ্যাস কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?

ওজন কমাতে অনেকেই ভাত, মিষ্টি বা তেলযুক্ত খাবার কমিয়ে দেন। কিন্তু শুধুমাত্র কী খাচ্ছেন, সেটিই নয়—কীভাবে খাচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ধীরে ধীরে এবং মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, খাদ্য খাওয়ার পর পাকস্থলী থেকে মস্তিষ্কে পেট ভরে যাওয়ার সংকেত পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিটের মতো সময় প্রয়োজন। এর ফলে যদি খুব দ্রুত খাওয়া হয়, তাহলে মস্তিষ্ক বুঝে ওঠার আগেই অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলা হয়। যার ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হতে শুরু করে এবং ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ২০ মিনিট অথবা তার বেশি সময় নিয়ে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে এবং অকারণে খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, দ্রুত খাওয়ার সময় বেশিরভাগ মানুষ খাবার ভালোভাবে চিবান না। এর ফলে বড় বড় খাবারের অংশ পাকস্থলীতে পৌঁছে হজমের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি বাতাস গিলে ফেলার কারণে গ্যাস, পেট ফাঁপা, অম্লভাব এবং বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা, পেটের চর্বি এবং অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব কারণে হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় আরও বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে, যারা ধীরে ধীরে খান, তাদের শরীরে এমন হরমোন বেশি নিঃসৃত হতে দেখা যায়, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি করে। তাই অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, প্রতিটি লোকমা ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। খাবার মুখে নেওয়ার পর চামচ বা হাত কিছুক্ষণ নামিয়ে রাখা, ছোট ছোট লোকমা খাওয়া এবং অন্তত আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে খাবার শেষ করার চেষ্টা করলে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

এছাড়া খাবার খাওয়ার সময় মোবাইল, টেলিভিশন বা অন্যদিকে মনোযোগ না দিয়ে শুধুমাত্র খাবারের স্বাদ, গন্ধ এবং গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার ওপর বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন। এর ফলে খাবার উপভোগ করার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমাতে শুধু খাবারের ধরন পরিবর্তন নয়, ধীরে এবং সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাসও হতে পারে সুস্থ থাকার একটি সহজ এবং কার্যকর উপায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শৈশব থেকেই শিশুদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ এম


শৈশব থেকেই শিশুদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবে

ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে এটি সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনকে বদলে দিতে পারে। শিশুর জীবন শুধুমাত্র ভালো শিক্ষা বা সুন্দর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং ছোটবেলা থেকে গড়ে ওঠা অভ্যাসও তার উপর প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হচ্ছে সঞ্চয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, যদি ছোট থেকেই শিশুকে অর্থের মূল্য এবং সঞ্চয়ের গুরুত্ব শেখানো যায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল এবং সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

সঞ্চয় বলতে আমরা সাধারণত টাকা জমিয়ে রাখা বুঝি। তবে এটি শুধুমাত্র টাকা সংরক্ষণ করা নয়, বরং প্রয়োজন ও ইচ্ছার মধ্যে ফারাক বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক অভ্যাস গড়ে তোলা। শিশু সাধারণত বড়দের দেখেই সবচেয়ে বেশি শেখে। তাই পরিবারে যদি খরচ পরিকল্পনা ও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে, তাহলে সেটি শিশুর মাঝেও সহজে গড়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়স থেকে শিশুদের সঞ্চয়ের ধারণা দেয়া সম্ভব। প্রথমে ব্যবহার করার জন্য একটি ছোট সঞ্চয়ের বাক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, জন্মদিনে পাওয়া টাকা, আত্মীয়দের দেয়া উপহার বা হাতখরচের কিছু অংশ সেখানে জমাতে উৎসাহ দেয়া উচিত, এতে ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। সময় সময়ে জমা টাকার পরিমাণ দেখালে শিশুর উৎসাহ আরো বৃদ্ধি পাবে।

একই সঙ্গে শিশুদের শেখাতে হবে যে, সব কিছু সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। যদি শিশু কোনো খেলনা বা বই কিনতে চায়, তাহলে তাকে কিছুদিন টাকা জমিয়ে সেটি কিনতে উৎসাহিত করতে হবে। এতে অপেক্ষা করার মানসিকতার পাশাপাশি নিজের পরিশ্রমের মূল্য বোঝা সম্ভব হবে।

তবে শিশুদের সঞ্চয়ের শিক্ষা দিতে গিয়ে ভয় দেখানো বা চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। বরং তাদের বোঝাতে হবে যে, আজ সামান্য সঞ্চয় করলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেটি কাজে লাগবে। এর ফলে অর্থের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

শুধু টাকা জমানোই নয়, খরচের হিসাব রাখার অভ্যাসও উন্নীত করা জরুরি। একটি ছোট খাতায় শিশু লিখে রাখতে পারে, কত টাকা পেয়েছে, কত খরচ করেছে এবং কত টাকা জমিয়েছে। এর ফলে হিসাব রাখার অভ্যাস ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির সুযোগ মিলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সঞ্চয়ের পাশাপাশি শিশুদের উদারতার শিক্ষাও দেয়া প্রয়োজন। জমানো টাকার একটি ক্ষুদ্র অংশ অসহায়দের সাহায্যে ব্যয় করতে শিখালে, এটি শিশুর মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

তবে সঞ্চয় শেখানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন শিশুটি কৃপণ হয়ে না যায়। প্রয়োজনীয় কাজে অর্থ ব্যায় করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে তাদের বুঝাতে হবে। কারণ অর্থের সঠিক ব্যবহারই প্রকৃত শিক্ষা। শিশুরা যে সঞ্চয় শেখে, সেটিই তাদের ভবিষ্যতে আর্থিক সচেতন, আত্মনির্ভর এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই দামী উপহারের পরিবর্তে সন্তানের হাতে দিন সঞ্চয়ের অভ্যাস, যা তার সারা জীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%