০৩:৩৮ এম
লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ
চুপ না থেকে, যৌন হয়রানির শিকার নারীদের জন্য ৭ জরুরি পরামর্শ।
রাস্তাঘাট, গণপরিবহন কিংবা জনসমাগমস্থলে যৌন হয়রানি বহু মানুষের জন্য প্রতিদিনের একটি বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তার চিন্তা করে অনেকেই দ্রুত হেঁটে চলে যান, চোখের যোগাযোগ থেকে দূরে থাকেন বা কোনো প্রতিক্রিয়া জানান না। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিজের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে শুধু নিজের নয়, অন্যদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসমক্ষে যৌন হয়রানি বহুদিন ধরেই সমাজে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার একটি প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সচেতনতা, প্রতিবাদ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব।
যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে নেওয়া যেতে পারে যেসব পদক্ষেপগুলো:
প্রয়োজনে প্রতিবাদ করুন।
যদি পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হয়, তাহলে শান্ত ও দৃঢ়ভাবে হয়রানিকারীকে তার আচরণ থামাতে বলতে পারেন। অশালীন ভাষা ছাড়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন, এমন ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীতে দুই দিন নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
দর্শক হয়ে থাকবেন না।
কাউকে হয়রানির শিকার হতে দেখলে নিরাপদ উপায়ে পাশে দাঁড়ান। সরাসরি বাধা দিতে না পারলে অন্যভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করুন বা ভুক্তভোগীকে সহায়তা করুন।
নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।
বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি, পরিবার বা পরিচিতদের সঙ্গে আপনার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন। এর ফলে মানসিক চাপ কমতে পারে এবং অন্যরাও সচেতন হতে পারেন।
আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে
অভিযোগ করুন।
যদি ঘটনাটি আইনগত অপরাধের মধ্যে পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। এতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা হবে।
সচেতনতা তৈরি করুন।
নিজের এলাকা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানিবিরোধী সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: রংপুরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ জন
নিরাপদ পরিবেশের দাবি তুলুন।
যেসব স্থানে নিয়মিত হয়রানির ঘটনা ঘটে, সেখানে পর্যাপ্ত আলো, নজরদারি এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানাতে হবে।
সহায়তার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন।
স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল বা কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিরাপদ জনপরিসর গড়তে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ হয়রানি কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আরও পড়ুন: ড্যাবের বিরুদ্ধে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের অভিযোগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌন হয়রানির শিকার হলে নীরব থাকা বাধ্যতামূলক নয়, আবার প্রতিবাদ করাও সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। মনে রাখতে হবে, যৌন হয়রানির দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়; দায় সম্পূর্ণরূপে হয়রানিকারীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন