মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৭ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের দৈনিক বাজার এলাকায় সন্ধ্যার পর ফুটপাত ও সড়কের পাশে অস্থায়ী দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে স্থায়ী ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফুটপাত দখল করে এসব দোকান বসানোর কারণে একদিকে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ ও যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে মূল বাজারের স্থায়ী ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও অবৈধ দোকান উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর মধুপুর দৈনিক বাজারের আশপাশের ফুটপাত এবং মধুপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে চলাচলের জায়গা দখল করে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। এতে ফুটপাত সংকুচিত হয়ে পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। পাশাপাশি সড়কের পাশে ক্রেতাদের ভিড় ও যানবাহনের চাপ বেড়ে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।
স্থায়ী ব্যবসায়ীদের দাবি, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে মূল বাজারের দোকানের মতো দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীর বেতনসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নেই। ফলে তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। এতে নিয়মিত বিভিন্ন খরচ বহন করে ব্যবসা পরিচালনাকারী স্থায়ী ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা নিয়মিত বাজার ইজারাদারের খাজনা, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতনসহ নানা খরচ বহন করে ব্যবসা করছি। অথচ ফুটপাতের দোকানিরা এসব খরচ ছাড়াই ব্যবসা করায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। এতে আমাদের বেচাকেনা কমে যাচ্ছে।”
তারা আরও বলেন, শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতিই নয়, ফুটপাত দখলের কারণে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ক্রেতা ও পথচারীদের ভিড়ের সঙ্গে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় অনেক সময় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় এ সমস্যা বেশি দেখা যায় বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের মতে, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য। সেখানে স্থায়ী বা অস্থায়ী দোকান বসানোর সুযোগ তৈরি হলে পথচারীদের সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের স্থায়ী নজরদারি প্রয়োজন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, “আমরা চাই সবাই নিয়ম মেনে ব্যবসা করুক। ফুটপাতও পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকুক। প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করলে বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
মধুপুর দৈনিক বাজারের ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে বসানো অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ, পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত রাখা এবং যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেছেন যে, দেশে এখনো বিপুল জনগণের একটি অংশ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতার বাইরে রয়েছে। এই বৃহৎ জনগণকে সাক্ষরতা এবং কার্যকর শিক্ষার মধ্যে আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও ফলাফলভিত্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "সকল শিশু বিদ্যালয়ে থাকবে, প্রত্যেক শিশু নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা পাবে এবং এমন দক্ষতা অর্জন করবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
মঙ্গলবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ সাক্ষরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে, যা সংখ্যার দিক থেকে প্রায় চার কোটি জনসংখ্যার সমান। এর মধ্যে একটি বড় অংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগণ। একইভাবে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী অনেক শিশু এখনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। তাই এই জনগণের শিক্ষা ও দক্ষতার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, "শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনগণের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। তাই সংখ্যার দিক থেকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।" তিনি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চলমান কার্যক্রমকে আরও ফলাফলমুখী করার পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর রিস্কোপিং, রিডিজাইনিং ও রিফোকাসিং-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অত্যন্ত পরিষ্কার, "কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশু সঠিক শিক্ষা পাবে।" সেই সঠিক শিক্ষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা। তিনি বলেন, "আমরা চাই, একজন শিশু শুধু শিক্ষিত হবে না, সে যেন প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে।"
তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা খাতে বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করতে হবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নে। তিনি বলেন, "শুধু ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট নয়; এই বাজেটের প্রতিটি টাকা মানুষের সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।"
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "শুধু সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়; মানুষকে এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা তার জীবনমান উন্নত করবে, মূল্যবোধ তৈরি করবে এবং কর্মজীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরি করবে।"
অনুষ্ঠানে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাতের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে হংকংয়ের বিপক্ষে একটি দারুণ জয় দিয়ে। তবে দলের এই জয়ের চেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পাকিস্তানি স্পিনার নাশরা সান্ধু। তার রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে তিনি একটি অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন।
সোমবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে, হংকংয়ের বিপক্ষে মাত্র ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি স্পিনার সান্ধু। তার অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের ফলে পাকিস্তান ৭২ রানের বিশাল জয় পায়।
এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে এক ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন সান্ধু। এর আগে, পাকিস্তানের সেরা বোলিং রেকর্ড ছিল ওমাইমা সোহাইলের, যিনি ২০২২ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।
পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট নেওয়া আরেক বোলার হলেন নিদা দার। তিনি ২০১৮ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৮ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।
তবে সান্ধুর রেকর্ডটি শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে, ওয়ানডেতে এক ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি তার রয়েছে। গত বছর লাহোরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৬ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।
এভাবে, নারী ক্রিকেটে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই সংস্করণেই এক ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়ার প্রথম বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন সান্ধু।
পুরুষ ক্রিকেটে অবশ্য এমন কীর্তি রয়েছে দুজনের। শ্রীলঙ্কার সাবেক স্পিনার অজান্তা মেন্ডিস এবং ভারতের ইউজভেন্দ্রা চাহাল—দুজনই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
সান্ধুর রেকর্ডময় বোলিংয়ের দিনে, পাকিস্তান হংকংকে ১৪৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল। জবাবে, হংকংয়ের ইনিংস ৭২ রানে থেমে যায়। এই ফলাফলের মাধ্যমে ৭২ রানের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
সেমিফাইনালে পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার হারানো অস্ত্র উদ্ধারের জন্য দেশব্যাপী একটি বিশেষ সমন্বিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানিয়েছে যে, এসব অস্ত্রের সঠিক তথ্য প্রদান করলে পরিচয় গোপন রেখে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) র্যাবের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, হারানো অস্ত্রের সঠিক তথ্য দিয়ে যৌথ অভিযানে সহযোগিতা করুন। র্যাবকে প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে অভিযানের সুষ্ঠু ও কার্যকর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হারানো অস্ত্রের তথ্য জানাতে র্যাবের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। নম্বরগুলো হলো—০১৭৭৭৭১১৪৪১, ০১৭৭৭৭১১৪৪২, ০১৭৭৭৭১১৪৪৩, ০১৭৭৭৭১১৪৪৪ ও ০২৫৫৬৬৯৯৯৯।
এছাড়াও, এসব নম্বরে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ভাইবারের মাধ্যমে গোপন তথ্য ও ছবি পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
জনস্বার্থে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব ফোর্সেস এই তথ্যগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারের অনুরোধ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ