বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৯ পি.এম
সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন যেকোনো দেশ, যারা অভিন্ন নীতিতে বিশ্বাসী, তাদের জন্য এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, এই চুক্তি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি প্রতিবেশী ইরানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ জানান, তিন দেশের অভিন্ন নীতি হচ্ছে অন্য কোনো দেশে আগ্রাসন না করা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। সম্মিলিত প্রতিরোধের মূলনীতির ভিত্তিতে এই জোট গঠিত হয়েছে। নতুন অংশীদার হিসেবে যারা এই নীতিগুলো সমর্থন করবে, তাদের জন্য যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে নতুন দেশ যুক্ত করার সময় ও প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবেন তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এটিকে সামগ্রিক কোনো মুসলিম সামরিক জোট হিসেবে উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তিকে মূলত একটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা ত্রিদেশীয় সম্পর্ককে এখন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে এই চুক্তির ফলে ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো টানাপোড়েন সৃষ্টি হবে না। তারা উল্লেখ করেছে, প্রতিটি দেশের সঙ্গে পৃথক ও স্বাধীন কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা হয়। ঠিক যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব চীন বা ইরানের সম্পর্কের ওপর পড়ে না। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাকিস্তান চায় আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসুক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় বিশেষ অভিযানে যাওয়ার সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সহ পুলিশের একাধিক সদস্য সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার শিকলবাহা কলেজ বাজারের জামাল পাড়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ (৫০) এবং শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই মিজানুর রহমান (৩৫)। তবে আহত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কলেজ বাজার এলাকায় একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী দল রাতে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ আরেকটি বিশেষ অভিযানে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আইসি মিজানুর রহমান বুকে গুরুতর আঘাত পান এবং ওসি শরীফসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
স্থানীয়দের মতে, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন টিটু নামে এক যুবক, যিনি বিএনপি ও যুবদলের নাম ভাঙিয়ে জমি দখলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বেই পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাতভর বন্দর জোনের এডিসি সোহেল পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়, তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
আহত আইসি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘অভিযানে গেলে পেছন থেকে দুর্বৃত্তরা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারেন। আমি বুকে আঘাত পাই, ওসি স্যারও আহত হন। চিকিৎসা শেষে আমি বাসায় ফিরেছি।’ কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, একটি বিশেষ অভিযানে যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে ঘেরাও ভাঙচুর চালাচ্ছে একদল দুর্বৃত্তরা। পরে তাদের কাছ থেকে ভাঙচুরের কারণ জানতে চাওয়া মাত্রই তারা আমাদের ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে আসা ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকর করার সময় এসে গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
খাজা আসিফ উল্লেখ করেন, মক্কা চুক্তির অংশীদার হিসেবে পাকিস্তান তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি মনে করেন, পবিত্র মক্কায় হামলার ঘটনা ঘটার কারণে চুক্তিটি সক্রিয় করার উপযুক্ত সময় এসেছে।
তিনি হুতি বাহিনীকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা দেন এবং বলেন, যদি ভবিষ্যতে আবারও মক্কায় হামলার চেষ্টা হয়, তাহলে পাকিস্তান আর চুক্তি সক্রিয় করার জন্য অপেক্ষা করবে না। ইসলামাবাদ ধর্মীয় ও পবিত্র স্থান রক্ষা করাকে তাদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মক্কা নগরীর দিকে একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এগিয়ে আসে। তবে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দেয়।
সৌদি আরব এই ড্রোন হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। তবে হুতি বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাদের লক্ষ্যবস্তু কেবল সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি খাত; তারা কখনও ধর্মীয় বা পবিত্র স্থাপনায় হামলা চালায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের অধস্তন আদালতের বিভিন্ন স্তরের ৯৯ জন বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। বদলির আওতায় আসা বিচারকদের মধ্যে ৪৪ জন জেলা জজ, ২৬ জন অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ জন যুগ্ম জেলা জজ, দুজন সিনিয়র সিভিল জজ এবং দুজন সিভিল জজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের এই কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত বিচারকদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক প্রিমিয়ার লিগ গোলরক্ষক কেভিন মিলার আর আমাদের মধ্যে নেই। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৫৭ বছর। ইংলিশ ফুটবলে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর শোকের ছায়া ফেলেছে।
চার দশকের ফুটবল জীবনে মিলার ৭০০’র বেশি পেশাদার ম্যাচ খেলেছেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি উইগান অ্যাথলেটিকের প্রথম দলের গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সাবেক ও বর্তমান ক্লাবগুলো শোক প্রকাশ করেছে। খবরটি গোল ডটকমের।
মিলারের চলে যাওয়া তাঁর পরিবারের জন্য বিশেষভাবে বেদনাদায়ক। তিনি স্ত্রী ফিওনা ও মেয়ে এসমিকে রেখে গেছেন। তবে শুধু পরিবার নয়, যাঁরা মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের জন্যও মিলারের শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না। উইগানে যোগ দেওয়ার পর তাঁর সময়টা খুবই কম ছিল, কিন্তু অল্প সময়েই তিনি খেলোয়াড় ও স্টাফদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
উইগান অ্যাথলেটিক জানায়, মিলারের গোলরক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, পেশাদারি ও কাজের প্রতি ভালোবাসা ছিল স্পষ্ট। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছিল মানুষ হিসেবে তাঁর উষ্ণ ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব। ক্লাবটির ভাষায়, ফুটবলে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন, তাঁদের কাছে তিনি মানুষ মিলার হিসেবেই বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
মিলারের ফুটবলজীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল এক্সেটার সিটি। ১৯৮৯ সালে এই ক্লাবের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক ঘটে তাঁর। তিনি দুই দফায় এক্সেটারের হয়ে ২৫২ ম্যাচ খেলেছেন এবং ক্লাবটির হয়ে চতুর্থ স্তরের লিগ শিরোপা জয়ী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোচ হিসেবেও প্রিয় ক্লাবটিতে ফিরে আসেন।
এরপর বার্মিংহাম সিটি ও ওয়াটফোর্ডে খেলার পর, ১৯৯৭ সালে প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে মিলার ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে তিনি প্যালেসের ৩৮টি ম্যাচেই গোলবারের নিচে ছিলেন। যদিও দলটি সে মৌসুমে অবনমিত হয়েছিল, মিলার সেখানে থেকে যান এবং চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মিলার ওয়াটফোর্ড, ক্রিস্টাল প্যালেস, বার্মিংহাম সিটি, বার্নসলে, ব্রিস্টল রোভার্স, সাউদাম্পটন ও টরকোয়ে ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে খেলেছেন। সব মিলিয়ে পেশাদার ফুটবলে তাঁর ম্যাচসংখ্যা ছিল ৭৩৮।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে গোলরক্ষক কোচ হিসেবেও নিজের অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিয়েছেন মিলার। এক্সেটারে সাড়ে তিন বছর কাজ করার পর, চলতি গ্রীষ্মে তিনি উইগানে যোগ দেন। পুরোনো বন্ধু ও এক্সেটারের সাবেক কোচ গ্যারি ক্যালডওয়েলের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অধ্যায়টি দীর্ঘ হলো না।
৫৭ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক বিদায় শুধুমাত্র একজন সাবেক ফুটবলারের মৃত্যু নয়; এটি পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের কাছে একজন আপন মানুষের হারিয়ে যাওয়া। ইংলিশ ফুটবলে তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ