মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৯ পি.এম
ভারতের শেয়ারবাজারে চলতি বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে দরপতন ঘটেছে। ব্যাপক বিক্রির চাপের কারণে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ কোটি রুপি কমে গেছে। এই বাজারের পতন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর কি এবার ভারতের শেয়ারবাজার সবচেয়ে খারাপ বছরের মুখে পড়তে যাচ্ছে?
ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সেই আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি করেছে। চলতি বছরে ভারতের প্রধান শেয়ারসূচক নিফটি ৫০ প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে অন্তত ১৮ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের মুখে পড়তে পারে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়াকে বাদ দিলে, চলতি বছরে বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ।
দীর্ঘকাল ধরে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত ছিল ভারতের শেয়ারবাজার। কিন্তু চলতি বছরের দরপতন সেই চিত্র বদলে দিয়েছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (এফআইআই) ভারতের বাজার থেকে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ লাখ কোটি রুপি তুলে নিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে বিদেশি অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার ফলে শেয়ারদরের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
নিফটি ৫০ সূচকের অন্তর্ভুক্ত ৫০টি কোম্পানির মধ্যে ৩৮টির শেয়ারদর চলতি বছরে কমেছে। এর মধ্যে ২৫টির দরপতন ১০ শতাংশ বা তার বেশি।
সূচকের মধ্যে আইটিসি অন্যতম বড় পতনের শিকার, যার শেয়ারদর চলতি বছরে ৩৬ শতাংশ কমেছে। মারুতি সুজুকির শেয়ারদর ৩৪ শতাংশ কমেছে। জিও ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও এইচডিএফসি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দরপতন হয়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ করে। অন্যদিকে, এইচডিএফসি ব্যাংকের শেয়ারদর ৩০ শতাংশ কমেছে।
নিফটির আরও কিছু কোম্পানির শেয়ারদর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে বড় কোম্পানির শেয়ারেও বিক্রির চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাজারের বড় কোম্পানির পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট মূলধনি কোম্পানির শেয়ারেও বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। সম্প্রতি পর্যন্ত মিডক্যাপ শেয়ারগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও গত চার কার্যদিবসে সেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে।
চলতি বছরে নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে শুধু সর্বশেষ সপ্তাহেই সূচকটির পতন হয়েছে ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।
মিডক্যাপ শেয়ারগুলোর মধ্যে কেপিআইটি টেকনোলজিসের দর ৫৪ শতাংশ কমেছে। আদিত্য বিড়লা ফ্যাশন অ্যান্ড রিটেইলের শেয়ারদর ৫০ শতাংশ এবং পিবি ফিনটেকের ৪৪ শতাংশ কমেছে। মুথুট ফাইন্যান্সের দরপতন হয়েছে ৩৮ শতাংশ, আর পিআই ইন্ডাস্ট্রিজের কমেছে ৩৭ শতাংশ।
ছোট মূলধনি কোম্পানির শেয়ারেও একই ধরনের ধস দেখা গেছে। কেকেইসি ইন্টারন্যাশনালের শেয়ারদর ৫৬ শতাংশ কমেছে, ইনক্স উইন্ডের ৫২ শতাংশ এবং জুপিটার ওয়াগনসের ৪৯ শতাংশ। আইআরসিওএন ইন্টারন্যাশনালের দর ৪৫ শতাংশ কমেছে, আর এনবিসিসির ৪৪ শতাংশ।
মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ—উভয় শ্রেণির আরও বেশ কয়েকটি শেয়ারের দর চলতি বছর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে। বাজারে দরপতনের ব্যাপকতা বোঝা যায় সর্বশেষ সপ্তাহের পরিসংখ্যান থেকেও। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ ও নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচকের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ছয়টির শেয়ার সর্বশেষ সপ্তাহে ইতিবাচক অবস্থানে থেকে লেনদেন শেষ করেছে।
কেন ভারতীয় বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা?
ভারতের শেয়ারবাজারে দরপতনের অন্যতম কারণ হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক অর্থ প্রত্যাহার। গত ১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (এফপিআই) ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে নিট ৪৭ হাজার ৯৫৫ কোটি রুপি তুলে নিয়েছেন।
গিওটাস ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিক্রম সুব্বুরাজ এনডিটিভিকে বলেন, "শেয়ার থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর বেশি কর, মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন এবং কর-দায় নিয়ে অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ব্যয় বাড়িয়েছে ভারত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় বাজেটে নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত শেয়ার বিনিয়োগ থেকে অর্জিত দীর্ঘমেয়াদি মূলধনি মুনাফার করহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযোজ্য শর্তসাপেক্ষে স্বল্পমেয়াদি মূলধনি মুনাফার করহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।
এর ফলে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা অর্জনের পর বিনিয়োগকারীদের হাতে আগের তুলনায় কম অর্থ থাকছে। উদাহরণ হিসেবে, করযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধনি মুনাফা প্রতি ১০০ রুপিতে এখন কর দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীর হাতে থাকে ৮৭ দশমিক ৫০ রুপি। আগে থাকত ৯০ রুপি। এই হিসাবের মধ্যে অতিরিক্ত সারচার্জ ও সেস অন্তর্ভুক্ত নয়।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য রুপির বিনিময় হারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিনিয়োগের সময়কালে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর কমে গেলে ডলারে হিসাব করার সময় তাদের প্রকৃত মুনাফা কমে যায়।
তবে শুধু কর বৃদ্ধি দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিপুল অর্থ প্রত্যাহারের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, শেয়ারের মূল্যায়ন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রত্যাশাও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
সুব্বুরাজ জানান, গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হেফাজতে থাকা ভারতীয় শেয়ারসম্পদের মূল্য ছিল ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার কোটি রুপি। তারা এসব বিনিয়োগ বাড়াবেন, নাকি আরও কমাবেন—তার ওপরও বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করবে।
কর-দায় নিয়ে অনিশ্চয়তাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
সুব্বুরাজের মতে, একটি তহবিলের ভেতরে বিনিয়োগ এক খাত থেকে অন্য খাতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কর-দায় কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোনো কোনো বিনিয়োগকারী অর্থ তুলে নেওয়ার পরও করের দাবি আসতে পারে। তহবিল পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিয়ম এবং কর-দায় নিষ্পত্তির নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে এসব উদ্বেগ কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, "শুধু করহার কমালেই এসব সমস্যার সমাধান হবে না। সরকারের উচিত, কর বাড়ানোর ফলে রাজস্ব কতটা বাড়ছে, তার পাশাপাশি তহবিলগুলোর বাস্তব সমস্যাগুলোও পর্যালোচনা করা।"
সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহার, বড় ও ছোট কোম্পানির শেয়ারদরে ব্যাপক পতন এবং কর-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ভারতের শেয়ারবাজারে চাপ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে খারাপ বার্ষিক পারফরম্যান্সের মুখে পড়তে পারে দেশটির শেয়ারবাজার। তবে বছর শেষে বাজারের প্রকৃত অবস্থান নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অর্থপ্রবাহের পরিবর্তনের ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অনুন্নত বা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নির্বাচনের পূর্বে ভোট কেনা-বেচা বা ভোটারদের লোভ দেখানোর জন্য প্রার্থীরা নানা অঙ্গীকার করে থাকেন। তবে উন্নত বিশ্বে বিষয়গুলো ভিন্ন। নিয়মের বাইরে কিছু করা কঠিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার প্রমাণ করেছেন যে, প্রচলিত রীতি-নীতি তার জন্য প্রযোজ্য নয়। নিয়ম ভাঙার মধ্যে তার আনন্দ রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, গত মাসে রিপাবলিকানদের একটি কনভেনশনে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটারদের একটি বিতর্কিত প্রস্তাব দেন তিনি- রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রাখুন এবং প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান ৫ হাজার ডলার পাবেন। এই প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও ট্রাম্পের কোনো উদ্বেগ নেই। বরং তিনি বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় সমস্যা নিয়ে ভোটারদের প্রলুব্ধ করার জন্য নানা অঙ্গীকার করেন, যা বাস্তবে করা সম্ভব নয়।
প্রকৃতপক্ষে, গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াই চলমান রাজ্যগুলোর প্রায় অর্ধেকটিতে ট্রাম্প ভোটারদের নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, যদি তারা রিপাবলিকানদের ভোট দেন। সমালোচনার মুখে, তিনি বা তার সহযোগীরা বলেন, এটি কৌতুক। কিন্তু দিন দিন এসব আর কৌতুক থাকছে না। ট্রাম্পের অতীতের কার্যক্রম বিবেচনায় এই তথাকথিত কৌতুকগুলোকে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।
নির্বাচনে জিতলে এবং কংগ্রেসে ক্ষমতা পেলে কোন কোন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন, তা ভোটারদের জানানো স্বাভাবিক। তবে, ট্রাম্প চাইলে অনেক প্রতিশ্রুতি এখনই পূরণ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে, একটি লক্ষণীয় লেনদেনমূলক উপায়ে এগুলোকে ভোটারদের মাথার ওপর ঝুলিয়ে রাখছেন। ভোট দিলে এগুলো করা হবে, নইলে নয়। অথচ অনেক অঙ্গীকার স্পর্শকাতর।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্পের কিছু বিনিময়মূলক অঙ্গীকার হলো:
১৬ সেপ্টেম্বর: নর্থ ক্যারোলিনার গ্যাস্টোনিয়াতে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি রাজ্যের হারিকেন দুর্যোগ ত্রাণ সহায়তার বিষয়টি ভোটারদের দ্বারা রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলিকে সিনেটে নির্বাচিত করার সাথে জুড়ে দেবেন। তিনি বলেন, ‘এখন, মাইকেল যদি হেরে যায়, আমি তা পাঠাচ্ছি না। ঠিক আছে?’ তবে এই দাবি করার পরপরই ট্রাম্প বলেন যে, তিনি কেবলই কৌতুক করছেন।
তবে তিনি কৌতুক করলেও, ট্রাম্প প্রশাসন রিপাবলিকান সমর্থিত রাজ্যগুলোতে দুর্যোগ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্টতই বেশি উদার ও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তারা সম্প্রতি আদালতে স্বীকার করেছে যে তারা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণরূপে অনুদান গ্রহণকারী রাজ্যের রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নিয়েছিল।
৩ অক্টোবর: ওহাইওর ভ্যান্ডালিয়াতে ট্রাম্প বলেন, ’আপনি যখন প্রেসিডেন্ট হবেন, তখন রাজ্যগুলোর ওপর আপনার অনেক ক্ষমতা থাকে।’ তিনি বলেন যে, ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটররা তাদের রাজ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ পেতে ট্রাম্পের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ ব্যবহার করতে পারেন, তবে ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন সম্পর্কে তিনি যোগ করেন, ‘আমি সম্ভবত তাকে সাহায্য করব না। আমার মনে হয় সে আমাকে ঘৃণা করে।’
১৭ অক্টোবর: কেনটাকির হাইল্যান্ড হাইটসে ট্রাম্প বলেন, ’রিপাবলিকানরা জিতলে, ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার কেনটাকির উইনচেস্টারে একটি বিশাল ওষুধ উৎপাদন কারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।’ এরপর তিনি যোগ করেন, ’কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তা হবে না, কারণ তারা এটি করতে পারবে না।’
১৯ এবং ২২ অক্টোবর: কানসাসের পার্ক সিটি এবং আইওয়ার সিউক্স সিটি উভয় জায়গার সমাবেশে ট্রাম্প বলেন যে, রিপাবলিকানরা জিতলে তিনি ই-১৫ জ্বালানি স্থায়ীভাবে সারা বছর জুড়ে সহজলভ্য করবেন। আগের উপস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, ’রজার মার্শাল (কানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর) সিনেটে থাকলে আমরা সারা বছরব্যাপী ই-১৫ স্থায়ী করব।’ এবং পরে আরো বাড়িয়ে বলেন, ‘কিন্তু যদি অ্যাডাম হ্যামিল্টন (ডেমোক্র্যাট প্রার্থী) জেতেন, আমি তা করছি না। ব্যাস এটুকুই। আমি এটা কেবল মার্শালের জন্যই করছি।’
২০ অক্টোবর: নর্থ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে ট্রাম্প বলেন যে, ‘আমরা যদি হাউস এবং সিনেটে জিতি, তবে আমি বিচার বিভাগকে ক্যাম্প লেজুনে পানি দূষণ সংক্রান্ত সমস্ত অবশিষ্ট বৈধ দাবিগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সুতরাং, আমরা যদি না জিতি, কোনো টাকা নেই। আমরা যদি জিতি, আপনারা তা পাচ্ছেন।’
২৪ অক্টোবর: জর্জিয়ার পেরিতে ট্রাম্প বলেন যে, কৃষকদের জন্য সাহায্য এবং অন্যান্য অনুগ্রহের খোঁজ করা ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জন অসফের কোনো কল তিনি গ্রহণ করবেন না। ট্রাম্প একটি কাল্পনিক কথোপকথনের অবতারণা করে বলেন, ’তাকে বলে দাও আমি নেই। আমি নেই।’ কাল্পনিক, অন্য ব্যক্তিটি উত্তর দেয়, ’কিন্তু জর্জিয়ার জন্য তার অর্থের প্রয়োজন।’ ট্রাম্প বলেন, ’সে কী চায় তা নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র পরোয়া করি না। আমি নেই।’
২৪ অক্টোবর: ট্রাম্প একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইঙ্গিত দেন যে, ডেমোক্র্যাটিক সাবেক প্রতিনিধি মেরি পেল্টোলা জিতলে তিনি আলাস্কার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেওয়া বন্ধ করে দেবেন। ট্রাম্প বলেন, ’আমি আলাস্কার জন্য ঐতিহাসিক স্তরে অবদান রেখেছি।’ এবং পরে যোগ করেন, ’ডেমোক্র্যাটরা এই গুরুত্বপূর্ণ রিপাবলিকান আসনটি চুরি করার চেষ্টা করছে এবং তা যদি ঘটে, তবে আলাস্কার জন্য আমরা যা কিছু করেছি, তা অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাবে।’
এই মন্তব্যগুলোর মধ্যে কৌতুক হিসেবে প্রকাশ করা হোক বা আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হোক, সবগুলোর উদ্দেশ্য একদম স্পষ্ট। ট্রাম্প চান আমেরিকানরা রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার বিষয়টিকে তার পক্ষ থেকে তাদের পছন্দের জিনিস পাওয়ার সাথে মিলিয়ে দেখুক। তবে রিপাবলিকানরা জিতলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর তিনি যেভাবে এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারতেন, আজও তার কাছে ঠিক ততটুকুই ক্ষমতা রয়েছে বলে মনে হয়।
হারিকেন, ত্রাণ এবং ক্যাম্প লেজুনের কারণে বছরের পর বছর ধরে ভুগছেন এমন ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের মতো মারাত্মক ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়েও ট্রাম্প এই ধরনের লেনদেনের প্রস্তাব দিতেও দ্বিধা করেননি।
তবে ট্রাম্পের এই লেনদেনমূলক কৌশল রাজনৈতিকভাবে ভালো ফল দেবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ, জরিপগুলো ইঙ্গিত করছে যে ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাবটি খুব একটা ইতিবাচক সাড়া পায়নি। গত মাসে একটি জরিপে দেখা গেছে যে নিবন্ধিত ভোটারদের অধিকাংশই মনে করছেন, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিটি অনুপযুক্ত ছিল।
সাম্প্রতিক আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ৬ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১ জনেরও কম মনে করেন যে রিপাবলিকানরা জিতলে তারা বাস্তবে এই অর্থ পাবেন। অধিকাংশ ভোটারই বলেছেন যে, ট্রাম্পের এই ধারণা সমর্থনকারী কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ার চেয়ে বরং তাদের ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু সেই জরিপগুলো ট্রাম্পকে আরও বেশি লেনদেনমূলক প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বরং, ২০২৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণার এই শেষ মুহূর্তে এসে তা আরও গতি পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং দলীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তিনি এক বিবৃতিতে ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের আমলে একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা এবং নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত ও ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সব রাজনৈতিক দলের স্বাধীনভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
সাইফুল হক আরও বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের জবাব হামলা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে দেওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করে। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাজনৈতিক অধিকার এভাবে ভূলুণ্ঠিত হতে দেওয়া যায় না। একটি স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে তিনি সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সাইফুল হক বলেন, গণতন্ত্রের অর্থ কেবল নির্বাচন নয়; এর অর্থ ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা। নির্বাচিত সরকারের আমলেও যদি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে, তবে তা ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কথাই মনে করিয়ে দেয়। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা যুবদলের অন্যতম নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কবির শিকদারকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে কবির শিকদার পরিচিত মুখ। তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের কথা জানিয়ে অনেকেই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত হন। সমর্থকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে তাঁকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার সুযোগ পেলে তিনি জনগণের পাশে থাকবেন।
এ সময় কবির শিকদার বলেন, “আমার শক্তি, আমার বিশ্বাস—আমার জনগণই আমার পুঁজি।”
জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনকে পুঁজি করে তিনি সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে চান বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা ভূমি অফিসে গ্রিল কেটে ও কক্ষের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অফিস থেকে নগদ ৪৬ হাজার ১৩০ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে ঘটনার রাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় কোনো ফুটেজ রেকর্ড না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাটি তদন্ত করছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে অফিসে এসে চুরির বিষয়টি দেখতে পান নৈশপ্রহরী। এ সময় অফিসের সামনের ও পেছনের গ্রিল কাটা এবং বিভিন্ন কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। কক্ষের দরজা ও ড্রয়ারের তালাও ভাঙা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরী রাত ১টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে উঠে তিনি অফিসের গ্রিল ও তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা জানান, চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে কী পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভূমি অফিস থেকে নগদ ৪৬ হাজার ১৩০ টাকা চুরি হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চুরির খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি সিআইডিও ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে চুরির ঘটনার রাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় কোনো ফুটেজ রেকর্ড না হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কী কারণে ফুটেজ পাওয়া যায়নি, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্যামেরায় কারিগরি ত্রুটি ছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে ফুটেজ রেকর্ড হয়নি, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ার কারণ ও অফিসের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ