মোঃ রব্বানী, (স্টাফ রিপোর্টার)
০১:৪৭ পি.এম
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবু নাছের রায়হানের আকস্মিক বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সকালে থানার সামনের সড়কে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ। আজ শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এলাকার বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ওসির বদলি আদেশ বাতিল করে তাকে কাঁঠালিয়া থানাতেই বহাল রাখার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, কাঁঠালিয়া থানায় যোগদানের পর থেকেই ওসি মোঃ আবু নাছের রায়হান প্রথাগত পুলিশিংয়ের বৃত্ত ভেঙে এক মানবিক ও জনবান্ধব সেবার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে উপজেলার প্রধান সমস্যা ‘মাদক’ নির্মূলে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে আপসহীন অভিযান শুরু করেছিলেন। তাঁর কঠোর অবস্থান ও একের পর এক সফল অভিযানের কারণে কাঁঠালিয়া থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
মানববন্ধনে আসা সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু মাদকই নয়, চোর-ডাকাত সিন্ডিকেট দমন, এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ নিয়ে থানায় আসা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি অল্প দিনেই সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। অপরাধ দমনে তাঁর এই সততা ও কঠোর অবস্থানের কারণে কাঁঠালিয়াবাসী পুলিশের প্রকৃত সেবা পেতে শুরু করেছিল।
এমন একজন নিষ্ঠাবান ও জনবান্ধব কর্মকর্তার আকস্মিক বদলির খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরই প্রতিবাদে আজ সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে থানার সামনে এসে মানববন্ধনে যোগ দেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
সচেতন নাগরিক ও সাধারণ জনগণের মতে, কাঁঠালিয়াকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও মাদকমুক্ত রাখতে ওসি আবু নাছের রায়হানের মতো কর্মকর্তার এই মুহূর্তে এখানে থাকা অত্যন্ত জরুরি। জনস্বার্থ এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সৎ ও কর্মঠ কর্মকর্তার বদলি আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আকুল আবেদন জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করবে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই শোভাযাত্রা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হবে। এর আগে, সেখানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করবেন তিনি।
এদিকে, কর্মসূচির প্রস্তুতি হিসেবে দুপুরের দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে আসছেন। তাদের হাতে রয়েছে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে রেখেছেন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে থাকা) নূরুল ইসলাম সোহেল বলেন, "আজকের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি আছে। নেতাকর্মীরা আগেভাগেই নয়াপল্টনে আসছেন।"
তিনি আরও জানান, "আজকের শোভাযাত্রায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই নেতৃত্ব দিবেন। এটা আমাদের জন্য গর্বের। এতে নেতাকর্মীরা অনুপ্রাণিত হবেন। দল ও সংগঠনগুলো নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করবে।"
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকাল ৩টায় শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। শোভাযাত্রার শুরুতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এবং শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রা শুরু হয়ে রাজধানীর নির্ধারিত বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানিকমিয়া এভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রাটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দলের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা।
এছাড়া, যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেহেরপুরে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হয়েছে। এই দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে মেহেরপুর জেলা বিএনপির কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।
তাঁরা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকা উত্তোলনের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতও করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, নারীদের যদি সুযোগ প্রদান করা হয়, তাহলে বিদেশে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল হবে।
তিনি শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এই আশাবাদ প্রকাশ করেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নারী উদ্যোক্তারা বিশেষ কোনো সুবিধা চান না। তারা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করছেন। যেদিন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা সত্যিকার অর্থে সমান অধিকার পাবেন, সেদিন দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার বিদেশে বাড়ানোর জন্য মিশনগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
নারীদেরকে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে যুক্ত না করলে, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে, নারী উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এছাড়া, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া সহজতর করার পাশাপাশি তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করা প্রয়োজন, যোগ করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাইতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অভিযানে কুখ্যাত অপরাধী চক্রের নেতা মাথিয়াস সেইনটিল নিহত হয়েছেন।
দেশটির জাতীয় পুলিশ বাহিনী (পিএনএইচ) জানায়, সাম্প্রতিক এক অভিযানে তাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ার ফিলস-এইমে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আরেকজন গ্যাং নেতা কমল।’
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে পুলিশ জানিয়েছে, মাথিয়াস সেইনটিল রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের দরিদ্র এলাকা সিতে সোলেইয়ের বোস্টন গ্যাংয়ের নেতা ছিলেন। অপরাধী চক্রটির নাম ওই এলাকার নাম অনুসারে রাখা হয়েছে।
পুলিশের অভিযানে মাথিয়াস সেইনটিলের শরীরে একাধিক গুলি লাগে বলে জানা গেছে। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ার ফিলস-এইমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযানের খবর উদ্যাপন করেন। তিনি ফরাসি ও হাইতিয়ান ক্রেওল ভাষায় লেখেন, ‘আরেকজন গ্যাং নেতা কমল। দস্যুদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার লড়াই দৃঢ় সংকল্পে অব্যাহত থাকবে। গ্যাং সদস্যরা আর শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না।’
প্রেসিডেন্ট হত্যার পর ভয়াবহ সংকট
হাইতিতে গত কয়েক বছর ধরে অপরাধী চক্রগুলোর সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইজকে হত্যার পর পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে।
প্রেসিডেন্ট হত্যার ঘটনা দেশটিকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে। এরপর থেকে সেখানে কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা এখন গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সমুদ্রবন্দরও তাদের দখলে রয়েছে। রাজধানী ও এর আশপাশে অন্তত ২৬টি অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অবনতি এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়ছে হাইতি। দেশটি পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অপরাধী চক্রগুলো প্রায়ই খাবার, অর্থ উপার্জন এবং নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণদের দলে ভেড়ায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, হাইতিতে গ্যাং সদস্যদের অর্ধেকই ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু ও কিশোর।
বাস্তুচ্যুত ১৪ লাখের বেশি মানুষ
গ্যাংগুলোর সহিংসতায় দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সহিংসতার কারণে অন্তত ১৪ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত হাইতিতে সহিংসতায় অন্তত ১ হাজার ১২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৪৪০ জন।
যৌন সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে গ্যাং-সংশ্লিষ্ট ধর্ষণের ৬৮৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
গ্যাং দমনে আন্তর্জাতিক বাহিনী
হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত এপ্রিল মাসে নতুন আন্তর্জাতিক গ্যাং দমন বাহিনীর (জিএসএফ) সদস্যরা দেশটিতে পৌঁছাতে শুরু করেন। গ্যাংগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা, বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের তৎপরতা ঠেকানোই এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য।
বাহিনীটির ১২ মাসের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ গত সেপ্টেম্বরে নবায়ন করা হয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত এর কার্যক্রমের অনুমোদন দিয়েছে।
তবে আগের কেনিয়ার নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (এমএসএস) মতো নতুন বাহিনীটিও নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত অর্থ ও জনবলের অভাব।
জিএসএফের সমর্থকেরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাহিনীটির জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, হাইতির অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষে জিএসএফের সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। গত ১৮ অক্টোবর বাহিনীটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এল সালভাদরের চারজন বিমান চলাচলবিষয়ক কারিগরি কর্মী অপহৃত হন।
এর জবাবে হাইতিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার সেনা পাঠানোর উদ্যোগ নেয় এল সালভাদর। দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে এই সেনা মোতায়েনকে উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন।
২১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বুকেলে। এতে হাইতির রাস্তায় সাঁজোয়া যান টহল দিতে দেখা যায়। কয়েকটি যান থেকে গুলিও ছোড়া হচ্ছিল।
বুকেলে লেখেন, ‘আমাদের একটাই লক্ষ্য—আমাদের চার নাগরিককে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনা।’
গ্যাং নেতাদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। চার জিম্মিকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে না দিলে আজকের হামলা সামনে যা আসছে, তার তুলনায় কিছুই নয়।’
এরপর বুকেলে হাইতির জনগণকে নিজেদের সম্প্রদায় ও এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার দেশের সেনারা হাইতিতে ‘দখলদার’ হিসেবে যায়নি।
হাইতিতেও কঠোর অভিযানের হুঁশিয়ারি বুকেলের
এল সালভাদরে গ্যাং দমনে বুকেলের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। অপরাধী চক্র দমনের নামে দেশটিতে ব্যাপক ধরপাকড় ও গণবিচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার সরকারের বিরুদ্ধে।
বুকেলে সতর্ক করে বলেছেন, হাইতির গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধেও তিনি একই ধরনের কঠোর কৌশল প্রয়োগ করতে সক্ষম।
শুক্রবারের সর্বশেষ এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে হাইতির একজন প্রভাবশালী গ্যাং নেতার বাড়ি শনাক্ত করার দাবি করা এক ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথন করেন তিনি।
ওই ব্যক্তির কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চান বুকেলে। তিনি লেখেন, ‘বাড়িটি কোথায় অবস্থিত? আমাদের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা দিন, আমরা সেটি ধ্বংস করে দেব।’
হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল অর্থনীতি ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ