ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আব্দুল মোনেম সুগারকে সচল রাখতে ১০০% মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের


আব্দুল মোনেম সুগারকে সচল রাখতে ১০০% মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের

বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকার একটি খেলাপি ঋণের জামিনদার হওয়া আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ মার্জিনে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের অনুমোদন চেয়েছে আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত শোধনাগারটিকে সচল রাখতে এবং কাঁচামাল আমদানি অব্যাহত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আব্দুল মোনেম সুগার, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টর। উল্লেখ্য, আব্দুল মোনেম লিমিটেড হলো আব্দুল মোনেম গ্রুপের প্রধান কোম্পানি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী খেলাপি ঋণের জামিনদাররাও খেলাপি হিসেবেই গণ্য হন এবং তাঁরা নতুন ঋণ সুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ পান না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার সঙ্গে আলোচনা করে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ আইনের বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে গত ১৬ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

আরও পড়ুন: বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক প্রদর্শনী

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে। তিনি বলেন, যদি অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করে তাদের এই সুবিধা দেওয়া যেতে পারে এবং অনুমোদন দেয়, কেবল তখনই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন না দিলে ব্যাংক তাদের এই সুবিধা দিতে পারবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে কেবল অগ্রণী ব্যাংকেরই পাওনা প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে আব্দুল মোনেম গ্রুপ এই ঋণগুলোর বিশেষ শর্তে পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করেছিল।

এরপর গত ৭ জুন শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধার আবেদনটি গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের কাছে জমা দেওয়া হয়। শোধনাগার কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় এলসি খুলতে না পারলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। এছাড়া বর্তমানে দেশে মাত্র কয়েকটি চিনি শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় সচল রয়েছে, তাই তাদের আমদানি ব্যাহত হলে দেশের বাজারে চিনির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে এই চিনি শোধনাগারটি ক্রয়ের চুক্তি অনুযায়ী 'আবুল খায়ের লিমিটেড' দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। শোধনাগারে উৎপাদিত চিনি 'স্টারশিপ সুগার' ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হচ্ছে, যদিও মালিকানা স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।

আরও পড়ুন: মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪%

আব্দুল মোনেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মঈনউদ্দিন মোনেম বলেছেন, শোধনাগারটির ক্রেতা হিসেবে আবুল খায়ের গ্রুপ কোম্পানির ব্যাংক ও বন্ডের সমস্ত দায় পরিশোধ করবে।

মঈনউদ্দিনের মতে, মালিকানা পরিবর্তনের ফলে ব্যাংক তাদের ঋণ আদায় নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে শোধনাগারটি সচল রাখতে ১০০ শতাংশ মার্জিনে এলসি খুলে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে কোম্পানিটি।

গ্রুপের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, দীর্ঘকাল ধরে ব্যাংকগুলো তাদের নতুন করে কোনো অর্থায়ন করছে না। গত ১৮ মাসে কোনো ব্যাংক তাদের ঋণ দেয়নি। নির্মাণকাজও কমে গেছে। ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো নয়।

১৯৫৬ সালে প্রয়াত শিল্পপতি আব্দুল মোনেম এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কয়েক দশক ধরে নির্মাণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কোমল পানীয়, ওষুধ এবং জ্বালানি সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসার প্রসার ঘটায় গ্রুপটি। ২০০৭ সালে সুগার রিফাইনারিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২০২০ সালে আব্দুল মোনেমের মৃত্যুর পর অতিরিক্ত ঋণ খরচ, টাকার অবমূল্যায়ন এবং সরকারের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় গ্রুপটির বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ, দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসক্তি পর্নোগ্রাফিতে, ১২ বছরের কিশোর ধর্ষণ করল নয় মাসের শিশুকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


আসক্তি পর্নোগ্রাফিতে, ১২ বছরের কিশোর ধর্ষণ করল নয় মাসের শিশুকে

প্রযুক্তি গোটা দুনিয়াকে বদলে দিয়েছে। তবে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা তরুণ প্রজন্মকে বিপথে পরিচালিতও করছে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের একটি নির্মম উদাহরণ তৈরি হয়েছে। মাত্র ১২ বছর বয়সী এক কিশোর মোবাইলে পর্নো ছবি দেখে। এরপর এক ৯ মাস বয়সী শিশুকে অপহরণ করে এবং ধর্ষণ করে।

এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতের।

ভুক্তভোগী শিশুটি মায়ের পাশেই শুয়ে ছিল। মায়ের ঘুমের সুযোগ নেয়ার পর ১২ বছর বয়সী কিশোরটি তাকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযুক্ত কিশোর ভুক্তভোগীর পরিবারের আত্মীয়। তিন দিন আগে সে চন্ডিগড় থেকে গোরখপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে।

শুক্রবার রাতে প্রথমে সে মদ পান করে এবং পরে মোবাইলে পর্নো ছবি দেখে। এরপর সে শিশুটিকে তুলে নিয়ে যায় এবং পাশের একটি টিনশেড ভবনে গিয়ে ধর্ষণ করে।

শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের সবাই শুক্রবার রাত থেকেই তাকে খুঁজতে শুরু করেন। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে একটি টিনশেড ভবনে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

শিশুটি তখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। দ্রুত তাকে স্থানীয় কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে বিআরডি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানান।

শিশুটির বাবা-মা, দাদা-দাদি এবং অন্যান্য স্বজনদের সাথে কথা বলার পর রবিবার পুলিশ সন্দেহভাজন ১২ বছর বয়সী কিশোরকে আটক করে। প্রথম দিকে সে অপরাধ স্বীকার না করে উল্টো বিভ্রান্তকর তথ্য দেয়। কিন্তু পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধের কথা স্বীকার করে। পুলিশ তার মোবাইল ফোন থেকে অন্তত ৫০টি পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট এবং ১০০টি পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট সার্চের ইতিহাস খুঁজে পায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পি কে হালদারের সহযোগী অভিজিতের ৭ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ পি.এম


পি কে হালদারের সহযোগী অভিজিতের ৭ বছরের কারাদণ্ড

দেশের অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িত আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের সহযোগী এবং সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিজিৎ অধিকারী তীর্থকে দুর্নীতির মামলায় পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় প্রদান করেন।

সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় অভিজিৎ অধিকারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তদুপরি, জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এর সঙ্গে এক কোটি ৩৫ লাখ পাঁচ হাজার ২৮৪ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরো ৩০ দিনের কারাদণ্ডের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আদালত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দিয়েছেন।

এখন, দুটো ধারার সাজা একত্রে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব দে। তিনি জানান, আসামি মামলা শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

২০২৩ সালের ৬ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে এক কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ ভোগ দখলের অভিযোগ তোলা হয়। অপরাধ হিসেবে নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ মে দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে এক কোটি ৩৫ লাখ পাঁচ হাজার ২৮৪ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে আদালত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। যেহেতু আসামি পলাতক থাকায় তিনি আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেননি। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আজ সাজার রায় প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কুমিল্লা

আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় হত‍্যা ও হত‍্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর আওয়ামী লীগ নেতা মো. জসীম উদ্দিন সরকারকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরের দিকে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলী আদালতে হাজির হয়ে বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রুবেল হত্যার মামলায় ১০ নম্বর এজাহার নামীয় এবং আবুবকর হত্যাচেষ্টার মামলায় ৭২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে জামিনের আবেদন করেন।

আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা শরীফ নিশাত শুনানির পর তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

হত‍্যা ও হত‍্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় আসামি মো. জসীম উদ্দিন সরকার, দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের রাজামেহার গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী সরকারের পুত্রমাত্র। তিনি রাজামেহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সদস্য এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে আত্মগোপনে ছিলেন।

সোমবার আদালতে হাজির হয়ে ওই হত‍্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পৃথক ২ মামলায় জামিনের আবেদনটি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন, কিন্তু আদালত তার জামিন আবেদনটি নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যার মামলার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে আটক হওয়ার বিষয়ে জানা নেই। আদালতে খোঁজ নিয়ে জানাব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিংগাইরে স্কুলছাত্রী হত্যা : প্রধান শিক্ষকসহ আটক ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


সিংগাইরে স্কুলছাত্রী হত্যা : প্রধান শিক্ষকসহ আটক ৭

মারিহা মাহি (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ সাতজন আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে, যেখানে নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গত রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চন্দননগর এলাকার একটি কাঠ বাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মারা যাওয়া স্কুলছাত্রীর বাড়ি সিঙ্গাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের চর লক্ষীপুর গ্রামে। সে ছিল স্থানীয় সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

আত্কৃতদের মধ্যে রয়েছে- উপজেলার কানাইনগর গ্রামের রাজিব (ছদ্মনাম), তার বোন আয়েশা আক্তার (২১), রুমা আক্তার (৩৫), শাহরাইল গ্রামের মৃত ছালাম খানের ছেলে মাসুদ হোসেন (৩৫), আবুল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (২৫), বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৬০) এবং আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা (৩৫)।

নিহত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা ও থানার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় দশম শ্রেণির ছাত্র রাজিব এবং অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিহার বিরুদ্ধে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি সবার মধ্যে জানাজানি হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ১৫ জুন ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়েছিল। এরপর উভয় শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক স্থানান্তর সনদ (টিসি) দেওয়া হয়।

টিসি দেওয়ার পর রাজিব বাড়িতে ফিরে গেলেও মারিহা আর বাসায় ফিরেনি। এ ঘটনার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজির পরেও তার সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

রবিবার (২২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চন্দননগর কবরস্থানের পাশে একটি কাঠ বাগানে স্থানীয়রা তার অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের পাশে তাঁর ব্যবহার করা স্কুল ব্যাগ ও জুতা ছিল। মরদেহের ওপরের অংশ একটি গাছের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল এবং কোমরের নিচের অংশ মাটিতে ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রী মারিহা বলে শনাক্ত করেন তার পরিবার। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

থানা পুলিশের ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহের একটি অংশ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল এবং অন্য অংশ নিচে পড়ে ছিল। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নাম উল্লেখ করে ১২ জন এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নিহত ছাত্রীর মা কামরুন্নাহার। তাদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কাছে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। যদি তাদের মধ্যে কেউ নিরাপদ থাকে, তাহলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%