০৩:১৯ পি.এম
মারিহা মাহি (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ সাতজন আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে, যেখানে নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
গত রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চন্দননগর এলাকার একটি কাঠ বাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মারা যাওয়া স্কুলছাত্রীর বাড়ি সিঙ্গাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের চর লক্ষীপুর গ্রামে। সে ছিল স্থানীয় সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
আত্কৃতদের মধ্যে রয়েছে- উপজেলার কানাইনগর গ্রামের রাজিব (ছদ্মনাম), তার বোন আয়েশা আক্তার (২১), রুমা আক্তার (৩৫), শাহরাইল গ্রামের মৃত ছালাম খানের ছেলে মাসুদ হোসেন (৩৫), আবুল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (২৫), বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৬০) এবং আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা (৩৫)।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
নিহত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা ও থানার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় দশম শ্রেণির ছাত্র রাজিব এবং অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিহার বিরুদ্ধে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি সবার মধ্যে জানাজানি হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ১৫ জুন ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়েছিল। এরপর উভয় শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক স্থানান্তর সনদ (টিসি) দেওয়া হয়।
টিসি দেওয়ার পর রাজিব বাড়িতে ফিরে গেলেও মারিহা আর বাসায় ফিরেনি। এ ঘটনার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজির পরেও তার সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
রবিবার (২২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চন্দননগর কবরস্থানের পাশে একটি কাঠ বাগানে স্থানীয়রা তার অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের পাশে তাঁর ব্যবহার করা স্কুল ব্যাগ ও জুতা ছিল। মরদেহের ওপরের অংশ একটি গাছের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল এবং কোমরের নিচের অংশ মাটিতে ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রী মারিহা বলে শনাক্ত করেন তার পরিবার। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
থানা পুলিশের ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহের একটি অংশ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল এবং অন্য অংশ নিচে পড়ে ছিল। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নাম উল্লেখ করে ১২ জন এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নিহত ছাত্রীর মা কামরুন্নাহার। তাদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কাছে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। যদি তাদের মধ্যে কেউ নিরাপদ থাকে, তাহলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন