প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকার একটি খেলাপি ঋণের জামিনদার হওয়া আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ মার্জিনে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের অনুমোদন চেয়েছে আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত শোধনাগারটিকে সচল রাখতে এবং কাঁচামাল আমদানি অব্যাহত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আব্দুল মোনেম সুগার, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টর। উল্লেখ্য, আব্দুল মোনেম লিমিটেড হলো আব্দুল মোনেম গ্রুপের প্রধান কোম্পানি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী খেলাপি ঋণের জামিনদাররাও খেলাপি হিসেবেই গণ্য হন এবং তাঁরা নতুন ঋণ সুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ পান না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার সঙ্গে আলোচনা করে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ আইনের বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে গত ১৬ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে। তিনি বলেন, যদি অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করে তাদের এই সুবিধা দেওয়া যেতে পারে এবং অনুমোদন দেয়, কেবল তখনই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন না দিলে ব্যাংক তাদের এই সুবিধা দিতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে কেবল অগ্রণী ব্যাংকেরই পাওনা প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে আব্দুল মোনেম গ্রুপ এই ঋণগুলোর বিশেষ শর্তে পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করেছিল।
এরপর গত ৭ জুন শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধার আবেদনটি গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের কাছে জমা দেওয়া হয়। শোধনাগার কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় এলসি খুলতে না পারলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। এছাড়া বর্তমানে দেশে মাত্র কয়েকটি চিনি শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় সচল রয়েছে, তাই তাদের আমদানি ব্যাহত হলে দেশের বাজারে চিনির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে এই চিনি শোধনাগারটি ক্রয়ের চুক্তি অনুযায়ী 'আবুল খায়ের লিমিটেড' দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। শোধনাগারে উৎপাদিত চিনি 'স্টারশিপ সুগার' ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হচ্ছে, যদিও মালিকানা স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
আব্দুল মোনেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মঈনউদ্দিন মোনেম বলেছেন, শোধনাগারটির ক্রেতা হিসেবে আবুল খায়ের গ্রুপ কোম্পানির ব্যাংক ও বন্ডের সমস্ত দায় পরিশোধ করবে।
মঈনউদ্দিনের মতে, মালিকানা পরিবর্তনের ফলে ব্যাংক তাদের ঋণ আদায় নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে শোধনাগারটি সচল রাখতে ১০০ শতাংশ মার্জিনে এলসি খুলে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে কোম্পানিটি।
গ্রুপের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, দীর্ঘকাল ধরে ব্যাংকগুলো তাদের নতুন করে কোনো অর্থায়ন করছে না। গত ১৮ মাসে কোনো ব্যাংক তাদের ঋণ দেয়নি। নির্মাণকাজও কমে গেছে। ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো নয়।
১৯৫৬ সালে প্রয়াত শিল্পপতি আব্দুল মোনেম এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কয়েক দশক ধরে নির্মাণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কোমল পানীয়, ওষুধ এবং জ্বালানি সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসার প্রসার ঘটায় গ্রুপটি। ২০০৭ সালে সুগার রিফাইনারিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২০২০ সালে আব্দুল মোনেমের মৃত্যুর পর অতিরিক্ত ঋণ খরচ, টাকার অবমূল্যায়ন এবং সরকারের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় গ্রুপটির বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন