নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৪:০৯ পি.এম
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় বিয়ে ও ধর্ম পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী এক নারী নেছারাবাদ থানায় মামলাটি করেন। অভিযুক্ত মো. সাইদুল ইসলাম সিরাজ, যিনি করফা বাজার পল্লী বিদ্যুৎ সাব-অফিসের লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, করফা বাজারে বাদী তৃষ্ণা রানী মণ্ডলের একটি চায়ের দোকান রয়েছে। দোকানের পাশেই সাইদুল ইসলাম সিরাজ পল্লী বিদ্যুতের সাব-অফিসে কর্মরত। এ কারণে তাঁদের মধ্যে পরিচয়ের সূত্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বাদীর দাবি, সিরাজ তাঁকে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর বিয়ে করবেন—এমন আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। সর্বশেষ, ১১ জুলাই গভীর রাতে সিরাজ তাঁর দোকানে প্রবেশ করে ফের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সিরাজ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এর পর রোববার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় সিরাজকে তাঁর বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং পুলিশের কাছে খবর দেওয়া হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত মো. সাইদুল ইসলাম সিরাজ ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওই নারীর সঙ্গে তাঁর কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তিনি জানান, গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকান খোলা রাখার পরামর্শ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবককে নিয়ে ওই নারী তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
এছাড়া, সিরাজ অভিযোগ করেছেন যে ওই নারী তাঁর কাছে টাকা দাবি করেছিলেন।
করফা বাজার পল্লী বিদ্যুৎ সাব-অফিসের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা সিরাজকে একটি ঘরে আটক রেখেছিলেন। চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬’ শুরু করার জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রায় ৪৯ হাজার ৫৮৯টি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে, যা ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ব্যাপৃত।
সরকারের উদ্দেশ্য হলো, নতুন ফুটবলার খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি জাতীয় উৎসব গড়ে তোলা।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন যে, প্রতিযোগিতাটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী ম্যাচে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একইভাবে এবারের প্রতিযোগিতার ফাইনালেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কামনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, মাঠ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। স্থানীয় মাঠগুলোও প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হবে।
সভায় জানানো হয়, সারা দেশের ৪৯ হাজার ৫৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯ হাজার ১১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫ হাজার ১৪টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৬২টি কলেজ, ৯ হাজার ২৬৯টি মাদ্রাসা এবং ২ হাজার ৮২৭টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৬ জন।
কর্মকর্তারা জানান, গতবার প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তবে এত বড় আয়োজন হলেও প্রত্যাশিত প্রচার ও ব্র্যান্ডিং হয়নি। এবার সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের আদলে আয়োজন করতে পরিকল্পনা রয়েছে। এতে থাকছে থিম সং, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৃজনশীল প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন। টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে। জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে আয়োজনটি তুলে ধরতে পৃথক স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই টুর্নামেন্টের নাম নির্ধারণ করেছেন এবং এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া-শিক্ষা উৎসবে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য ও সম্প্রচার, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
প্রতিযোগিতার বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো নির্দিষ্ট বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ড তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী এলাকায় হয়ে উঠেছে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক ২ বছরব্যাপী পরিচালিত গণগবেষণার ফল প্রকাশের সময়।
আজ ঘোষণা করা হয়েছে গবেষণার ফল যেটি সোমবার বেলা ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রান্তজন’-এর দ্বারা।
এই গবেষণায় উঠে এসেছে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক মেগাপ্রকল্প (তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র) নির্মাণের কারণে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একশন এইড বাংলাদেশের সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার মারজিয়া জাহান, প্রান্তজনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ধানখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারাও।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধানখালী এলাকায় স্থাপিত কয়েকটি জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক মেগা প্রকল্পের প্রভাব জনজীবন, পরিবেশ এবং অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
এই বাস্তবতা মূল্যায়নে দুই বছর আগে প্রান্তজনের উদ্যোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমানের সহায়তায় ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালনা করা হয়েছিল গণগবেষণা।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় মানুষের আর্থিক অবস্থার অবনতি, সামাজিক সংকটের বৃদ্ধি, ঐতিহ্যবাহী পেশার বিলুপ্তি, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা, সুপেয় পানির সংকট, বিশুদ্ধ বায়ুর অভাব, জীববৈচিত্র্য এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, বিভিন্ন রোগের বিস্তার, নারীদের ওপর লিঙ্গভিত্তিক নেতিবাচক প্রভাব এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিষাক্ত কয়লা বর্জ্য ও ফ্লাই অ্যাশের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মোট ৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে গণগবেষণায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সীমানার সঙ্গে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে পাকিস্তান চীনের তৈরি ২৫০টি ‘এসএইচ-১৫’ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেলড হাউটজার মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপ নিয়ে একটি প্রতিবেদন বিস্তারিত তথ্য দেয় শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে। জানা যায়, পাকিস্তানের উত্তর থেকে দক্ষিণের সমস্ত পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে ১৫৫ মিলিমিটার দূরপাল্লার এই কামানগুলো স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের কার্যক্রম ‘অপারেশন সিঁদুরের’ পর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এটি ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পেহেলগামে হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর মে মাসে ভারত সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে অপারেশন সিঁদুর পরিচালনা করেছিল। এই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সামরিক টানাপোড়েন বৃদ্ধি পায় এবং পাকিস্তান নিজেদের সীমান্ত প্রতিরক্ষা নতুন করে সাজাতে শুরু করে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘নরিনকো’-এর তৈরি এসএইচ-১৫ কামানটি একটি চার দরজা বিশিষ্ট ৬x৬ চ্যাসিসের উপরে নির্মিত। এর ছাদে একটি ১২.৭ মিলিমিটার মেশিনগান যুক্ত রয়েছে। এই হাউইটজারটি ৪০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতার ডিজেল ইঞ্জিন দ্বারা চালিত হয়, যার পাওয়ার-টু-ওয়েট রেশিও প্রতি টনে ১৫.৬৮ হর্সপাওয়ার। এটি সাধারণ ন্যাটো-সামঞ্জস্যপূর্ণ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পাল্লার গোলাবারুদ নিক্ষেপ করার সক্ষমতা রাখে। বিশেষ ধরনের রকেট-অ্যাসিস্টেড প্রজেক্টাইল ব্যবহারের মাধ্যমে এর সর্বোচ্চ পাল্লা ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আধুনিক অটোমেটিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং হাইড্রোলিক স্পেডের সুবিধাসম্পন্ন এই সিস্টেমটি বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, এটি দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে প্রতি মিনিটে ৬ রাউন্ড পর্যন্ত গোলাবারুদ নিক্ষেপ করতে পারে এবং প্রতিপক্ষের পাল্টা আঘাত করার আগেই স্থান ত্যাগ করে। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ফলস্বরূপ এই সামরিক চালান মোতায়েন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডিতে এক অনুষ্ঠানে চিনের শীর্ষ কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মন্তব্য করেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক অবিচল ও সময়-পরীক্ষিত। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বজায় রেখেই পাকিস্তান তাদের নতুন অর্থবছরে প্রতিরক্ষা বাজেট ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে তিন ট্রিলিয়ন রুপি নির্ধারণ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, 'খেলাধুলাকে শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।'
বর্তমান কারিকুলামের মধ্যে বিষয়টি পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দলগত চেতনা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করা সম্ভব।
আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত 'প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬' এর আয়োজন নিয়ে এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'খেলাধুলাকে আমরা অনেক সময় শুধু বিনোদনের বিষয় হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এটি আমাদের প্যাসিভ এডুকেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তরুণদের মনোজগৎ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি বলেন, 'প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন হতে পারে। এ আয়োজনকে জাতীয় পর্যায়ের একটি বড় উৎসব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়।'
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, 'প্রতিযোগিতাটি সফল করতে হলে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ের সব স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে।'
তিনি বলেন, 'স্কুল-কলেজ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে খেলাধুলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই এ উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা আসবে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।'
মন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদি হবে। মাঠ পর্যায়ে এ ধরনের বড় আয়োজন বাস্তবায়নে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।'
তিনি বলেন, 'গণমাধ্যমের মাধ্যমে পুরো আয়োজনকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, যাতে এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রমে পরিণত হয়।'
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ