০৪:১২ পি.এম
আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬’ শুরু করার জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রায় ৪৯ হাজার ৫৮৯টি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে, যা ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ব্যাপৃত।
সরকারের উদ্দেশ্য হলো, নতুন ফুটবলার খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি জাতীয় উৎসব গড়ে তোলা।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে ঘাঁটি গেড়ে সাধনা করছেন নারী লাভলী শাহ ফকির রানী
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন যে, প্রতিযোগিতাটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী ম্যাচে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একইভাবে এবারের প্রতিযোগিতার ফাইনালেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কামনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, মাঠ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। স্থানীয় মাঠগুলোও প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হবে।
সভায় জানানো হয়, সারা দেশের ৪৯ হাজার ৫৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯ হাজার ১১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫ হাজার ১৪টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৬২টি কলেজ, ৯ হাজার ২৬৯টি মাদ্রাসা এবং ২ হাজার ৮২৭টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৬ জন।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার
কর্মকর্তারা জানান, গতবার প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তবে এত বড় আয়োজন হলেও প্রত্যাশিত প্রচার ও ব্র্যান্ডিং হয়নি। এবার সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের আদলে আয়োজন করতে পরিকল্পনা রয়েছে। এতে থাকছে থিম সং, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৃজনশীল প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন। টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে। জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে আয়োজনটি তুলে ধরতে পৃথক স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই টুর্নামেন্টের নাম নির্ধারণ করেছেন এবং এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া-শিক্ষা উৎসবে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য ও সম্প্রচার, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
আরও পড়ুন: চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার
প্রতিযোগিতার বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো নির্দিষ্ট বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ড তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন