বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৫ পি.এম
বর্ডার-গাভাস্কার সিরিজের আগে ব্যাটারদের প্রস্তুতির জন্য কৌশলী শুভমান গিল।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে ভারতীয় ক্রিকেট দল পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন দ
এ অবস্থায় নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ দুই টেস্ট সিরিজের জন্য দল গঠন ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি রাখতে চায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির আগে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে গিলের। এই প্রস্তুতির জন্য স্পিনিং পিচের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন টেস্ট দলের অধিনায়ক।
ভারতের ঘরের মাঠে স্পিন-সহায়ক উইকেটে খেলে অতীতে বিপদে পড়েছে ক্রিক
দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হারতে হয়েছে তাদের। এবার বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির আগে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি নিতে চায় ভারত।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, শুভমান গিল প্রস্তাব করেছেন, পুদুচেরিতে চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’র বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য পর্যাপ্ত ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ দেওয়া হোক। বিশেষ করে এমন পিচে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে ম্যাচের অগ্রগতির সঙ্গে বল আরও বেশি ঘুরবে।
কারণ, গত দুই বছরে ঘরের মাঠে স্পিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়।
বিসিসিআইয়ের একজন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে ঘরের মাঠে স্পিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটাররা তাদের সেরা ফর্মে ছিল না। গিলের প্রস্তাব, যদি কিছু ব্যাটারকে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া যায় এবং পিচে কিছুটা টার্ন থাকে, তাহলে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির প্রস্তুতিতে তা সহায়ক হবে।
তবে অস্ট্রেলিয়া দলের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত স্পিন-সহায়ক পিচ তৈরি করা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
কিন্তু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যস্ত সূচি। কারণ, অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার জন্য জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারকে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
বোর্ড জানিয়েছে, প্রধান সমস্যা হচ্ছে সূচি। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য খুব কম টেস্ট ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে। কারণ, ইরানি কাপে বেশিরভাগ খেলোয়াড় ওই সময় ব্যস্ত থাকবে। ফলে ক্রিকেটাররা ভারতের ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে পারলে সেটি সম্ভব হবে না। এতে ইরানি ট্রফির ম্যাচের মানও খারাপ হতে পারে।
ভারতীয় ‘এ’ দলের অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে দু’টি চার দিনের ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। লাল বলের ক্রিকেটে এই দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২২-২৫ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় ম্যাচটি ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর। অন্যদিকে, ইরানি কাপ অনুষ্ঠিত হবে শ্রীনগরে ১ থেকে ৫ অক্টোবর।
ফলে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচের সূচি ইরানি কাপের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ছে। তাই নির্বাচকদের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির আগে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটারদের লাল বলে পর্যাপ্ত ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ খুব কম থাকছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ২০২৭ সালের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য একটি নির্ভুল ডাটাবেইজ তৈরির উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক টিচার্স ইনফরমেশন ফর্ম (ই-টিআইএফ) সংশোধনের নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই প্রক্রিয়ার জন্য বোর্ডের আওতাধীন দাখিল ও আলিম স্তরের সকল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সুপারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অবসর গ্রহণ করেছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন, অন্যত্র বদলি হয়েছেন, স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন, বোর্ড থেকে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন অথবা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন, তাদের নাম ই-টিআইএফ থেকে বাদ দিয়ে সংশোধন করতে হবে।
বোর্ড জানায়, ই-টিআইএফ সংশোধন না করার ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক নিয়োগে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আগামী বছরের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য একটি নির্ভুল ডাটাবেইজ তৈরির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ই-টিআইএফের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ই-টিআইএফ সংশোধনের জন্য কোনো সুযোগ নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে ই-টিআইএফ সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া, যেসব শিক্ষক এখনও ই-টিআইএফে অন্তর্ভুক্ত হননি, তাদের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে ই-টিআইএফে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক ঘোষণার মাধ্যমে বিইআরসি সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত নতুন দাম একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ মূল্য বহাল থাকবে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, সাড়ে ৫ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৬৫২ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৮২ টাকা এবং ১৬ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ১৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৬৪২ টাকা এবং ২২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৯০৭ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া ২৫ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩০৩ টাকা।
৩০ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ৩৬০ টাকা এবং ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৬২৪ টাকায় বিক্রি হবে। ৪৫ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য, আমদানি ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচের ওপর ভিত্তি করে এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণ করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দামের ওঠানামা, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার ফলে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের জন্য আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে নিয়মিত এলপিজি ব্যবহারকারী ভোক্তাদের জন্য এই মূল্যহ্রাস সামান্য হলেও ব্যয় কমাতে ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিঠুন চক্রবর্তীর বাজিমাত ৭২ বছর বয়সে, ১৮০ সিনেমা ফ্লপ।
বলিউডে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করে আসছেন মিঠুন চক্রবর্তী। এই দীর্ঘ সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতার সংখ্যাও কম দেখেননি।
প্রায় ১৮০টি সিনেমা বক্স অফিসে ফ্লপ হয়েছে তার। কিন্তু এই ব্যর্থতার রেকর্ড তার জনপ্রিয়তা মুছে ফেলতে পারেনি।
বরং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সাফল্যের দেখা পেয়েছেন তিনি। ৭২ বছর বয়সে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় বক্স অফিস সাফল্যের অংশীদার হন মিঠুন।
সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি আয় করে। এটি মিঠুনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে মিঠুনের। প্রথম সিনেমাতেই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
ফলে, প্রথম সিনেমাতেই তার অভিনয় প্রতিভার পরিচয় মেলে।
এরপর আশির দশকে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ‘শওকিন’ ও ‘অশান্তি’র মতো সিনেমার পর ১৯৮২ সালে আসে ‘ডিসকো ড্যান্সার’। এই সিনেমা মিঠুনকে ভারতের ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে।
‘ডিসকো ড্যান্সার’-এর সাফল্য ছিল অন্য মাত্রার।
১৯৮৫ সালে সিনেমাটি রাশিয়ায় মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয় করে। সেই সময় এটি ভারতের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার রেকর্ডও দখল করেছিল।
‘ডিসকো ড্যান্সার’-এর সাফল্যের পর মিঠুন নিয়মিত সিনেমায় কাজ করতে থাকেন। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর তিনি সংখ্যার দিক থেকে অনেক বেশি সিনেমায় অভিনয় করতে শুরু করেন।
অনেক সময় বছরে ৮ থেকে ১২টি সিনেমায় তাকে দেখা গেছে। নব্বইয়ের দশকে তরুণ অভিনেতাদের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিঠুন কম বাজেটের অ্যাকশন সিনেমায় বেশি কাজ করেন। ওই দশকে প্রায় ১০০টি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি, যার বড় একটি অংশ বক্স অফিসে সফল হয়নি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠুনের শেষ একক নায়ক হিসেবে সফল সিনেমা ছিল ১৯৯৫ সালের ‘রাবণ রাজ’। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে মূলত পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায়।
পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে মিঠুন ২৭০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। যদিও সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন, তবুও এর মধ্যে প্রায় ১৮০টি সিনেমা ফ্লপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্তত ৪৫টি সিনেমাকে বক্স অফিস ‘ডিজাস্টার’ হিসেবে ধরা হয়েছে।
এমন রেকর্ড ভারতীয় প্রধান অভিনেতাদের মধ্যে অত্যন্ত বিরল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মেন্দ্র ও জিতেন্দ্র ছাড়া অন্য কোনো অভিনেতার ফ্লপ সিনেমার সংখ্যা মিঠুনের কাছাকাছিও নয়।
২০০০ সালের পর মিঠুন ধীরে ধীরে পার্শ্বচরিত্রে বেশি মনোযোগ দেন। বড় বাজেটের বিভিন্ন সিনেমাতেও তাকে দেখা যায়।
তবে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রত্যাবর্তন ঘটে ২০২২ সালে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিনেমার মাধ্যমে। বিবেক অগ্নিহোত্রীর পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন মিঠুন।
সিনেমাটি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া ফেলে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি আয় করে। তখন মিঠুনের বয়স ছিল ৭২ বছর।
ফলে, যে অভিনেতার ক্যারিয়ারে রয়েছে প্রায় ১৮০টি ফ্লপ সিনেমার রেকর্ড, তিনিই আবার ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে এসে এমন একটি বড় বাণিজ্যিক সাফল্যের অংশ হয়েছেন। এ কারণেই মিঠুন চক্রবর্তীর দীর্ঘ অভিনয়জীবন বলিউডের অন্যতম ব্যতিক্রমী ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বিগত সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে অকার্যকর করে রাখার ফলস্বরূপ দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট এবং আমদানিনির্ভরতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার এই সংকট কাটিয়ে দেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে বহুমাত্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মৌখিক উত্তরদান পর্বে প্রধানমন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার রূপরেখা উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে স্থায়ীভাবে নিরসন করে দেশকে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপের খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এগুলোর কাজ শেষ হলে গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া নতুন গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তুলতে নতুন দুটি আধুনিক রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর ও অনশোর মডেল পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট)-এর আওতায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া সামুদ্রিক এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যা থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি ক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে।
এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কিংবা পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে তা সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জনমনে আগ্রহ তৈরি ও এ খাতের দ্রুত প্রসারে ২০২৬ সালের ৮ জুন তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সব প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর থেকে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অতিরিক্ত অগ্রীম আয়করসহ সব ধরনের শুল্ক সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় আর্থিক মডেল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার স্থাপন করবেন, তাদের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০.১৫ টাকা দরে কিনে নেবে। বর্তমান গড়ে প্রতি ইউনিট ৬ থেকে ৭ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে এই বাল্ক রেট ও সরকারি প্রণোদনার ফলে উদ্যোক্তারা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম) নিট মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের অংশ হিসেবে সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে সোলার প্যানেল বসাতে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোলারের পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ