১০:১২ পি.এম
সুদানে নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর মধ্যে চলমান যুদ্ধে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ৩৩০ শিশু নিহত অথবা আহত হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
খার্তুম থেকে এএফপি জানায়, ইউনিসেফের সুদানবিষয়ক প্রধান শেলডন ইয়েট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শিশুরা তাদের নিজ বাড়িতে, সড়কে, বাজারে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সেবায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময়ও নিহত ও আহত হচ্ছে।’
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে একসময়কার মিত্র সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে কয়েক হাজার নয়, দশ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে ত্রাণকর্মীদের ধারণা, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ২ লাখেরও বেশি।
আরও পড়ুন: মিসরে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত, ৩৪ জন আহত
কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছে যাওয়া এ সংঘাতে উভয় পক্ষই ব্যাপকভাবে ড্রোন হামলার ওপর নির্ভর করছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চলতি বছরেই এসব হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। কর্দোফান অঞ্চলে শিশু হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য দায়ী এসব ড্রোন হামলা।
উত্তর কর্দোফানের আল-ওবাইদ শহর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলার মুখে রয়েছে। এসব হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিদ্যালয়সহ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, আরএসএফ আল-ওবাইদ শহরে বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে এল-ফাশের শহরে আরএসএফের হামলার সময় যে ধরনের নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছিল, আল-ওবাইদেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। জাতিসংঘের এক তদন্তে ওই হামলায় ‘গণহত্যার সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য’ পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: ইনফ্লুয়েন্সারের আত্মহনন, বাবার অভিযোগ সিইওকে দুষলেন
ইউনিসেফ সোমবার জানিয়েছে, ‘পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আরও বেশি শিশু মৃত্যু, আহত হওয়া, বাস্তুচ্যুতি এবং অন্যান্য গুরুতর সুরক্ষা ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুদানজুড়ে ৫০ লাখ শিশু অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। এছাড়া লাখো মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছে। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৮ লাখ ২৫ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন