১০:২৩ পি.এম
সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগণের সুরক্ষা এবং টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে যোগদান করেছে।
লন্ডনে অনুষ্ঠিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) লন্ডনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ-এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কনভেনশনে যোগদানের দলিল হস্তান্তর করেন।
আরও পড়ুন: এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন কলেজে বদলি
এ পদক্ষেপের ফলে দেশের সামুদ্রিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান এবং সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কনভেনশনসমূহে যোগদান সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ যেসব কনভেনশনসমূহে অনুসমর্থন প্রদান করেছে সেগুলো হলো— আন্তর্জাতিক তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক ১৯৯২ প্রোটোকল, বাঙ্কার তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন ২০০১ এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন ২০০৭।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার হিসাব হবে ৩ নভেম্বর
প্রতিদিনের ভিত্তিতে প্রচুর জাহাজ বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করে অথবা দেশের বন্দরসমূহে প্রবেশ করে। এই জাহাজ চলাচলের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে তেল নিঃসরণ, বাঙ্কার জ্বালানি দূষণ এবং জাহাজডুবির মতো ঝুঁকি, যা নৌচলাচল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এগুলি কনভেনশনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার দায়ভার নির্ধারণ এবং বাধ্যতামূলক বীমা নিশ্চিত করবে। ফলে দুর্ঘটনার সময় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে একটি নিশ্চিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
এই অনুসমর্থন দেশের জন্য অর্থনৈতিক সফলতা নিয়ে আসবে। বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে বিদেশি নৌ প্রশাসনের কাছ থেকে কনভেনশন সনদ সংগ্রহ করতে আর প্রয়োজন হবে না। এইভাবে সময় এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
এছাড়া, এসব কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা আন্তর্জাতিক চার্টারার, বীমা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে, বাণিজ্যিক বিলম্ব এবং বিদেশি বন্দরের নানা কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিদর্শনও কমাবে।
আরও পড়ুন: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলো ‘অর্ণব’, আঘাত হানবে বুধবার?
বিশ্বের শতাধিক দেশ ইতোমধ্যে এসব কনভেনশনের পক্ষভুক্ত। বাংলাদেশের অনুসমর্থনের ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা অর্জন করল। ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচল, বন্দর কার্যক্রম ও উপকূলীয় উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত একটি দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা আরো শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন