মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি:
০১:৪৫ এম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগামী সেপ্টেম্বরেই দেশে ফিরে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আশ্চর্য ইনোভেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব ওয়ারেস খান। তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে পারে।
রোববার (২৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে আইনের শাসন, সহনশীলতা এবং জাতীয় ঐক্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির সাংবিধানিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্ণব ওয়ারেস খান বলেন, সেপ্টেম্বর মাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ২৮ সেপ্টেম্বরকে একটি প্রতীকী দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওই দিনে তাঁর বড় চাচা কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান, শেখ হাসিনা এবং কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের জন্মদিন হওয়ায় দিনটি তাঁর কাছে বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
তিনি তাঁর দাদি বদরুন্নেসা খানমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের কথাও স্মরণ করেন।
বর্তমান সামাজিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারিবারিক বন্ধন, ছোটদের প্রতি স্নেহ, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং এশীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একটি মানবিক, সুস্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে এসব মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হওয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে তিনি একটি ‘আমরণ মৈত্রী চুক্তি’র ধারণাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এ সম্পর্কের ভিত্তি হবে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংকটকালে সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়নের অঙ্গীকার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে অর্ণব ওয়ারেস খান বিভাজন, বিদ্বেষ ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “রাজনীতি হোক খেলাধুলার মতো সৌহার্দ্যপূর্ণ। রাজনীতি হোক ঈদ, পূজা, বড়দিনসহ সব ধর্মীয় উৎসবের মতো সম্প্রীতির। রাজনীতি হোক ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন ও মানবিকতার প্রতীক। যেভাবে আমরা নিজেদের ঘর-আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখি, ঠিক সেভাবেই দেশ ও রাজনীতিকেও পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। দেশটা আমাদের সবার। রাজনীতি হোক বাঙালির উদার, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয় ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের ভবিষ্যৎ দেশটির জনগণই নির্ধারণ করবেন। একইসাথে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের সময়ে ধৈর্য ও দৃঢ়তার পরিচয় দেওয়ার জন্য ইরানের জনগণকে ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি বার্তায় পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ, চাপ এবং ধারাবাহিক বৈরিতার মাঝেও ইরানের জনগণ দৃঢ়ভাবে দেশকে সমর্থন করে গেছেন।
তিনি সংঘাতের সূচনা হিসেবে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করেছেন। ওই সময়, হানিয়া নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে অবস্থান করছিলেন।
পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সেই ঘটনার পর থেকে ইরান নানা ধরনের যুদ্ধ, চাপ ও অবিরাম শত্রুতার সম্মুখীন হয়েছে। তবে, সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণ দেশের পাশে দেখতে পাওয়া গেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ইরানের ভবিষ্যৎ ইরানের জনগণই গড়ে তুলবেন।’
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বিনামূল্যে জাপানি ভাষা শেখাবেন তানভীর আহমেদ
ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর আহমেদ।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমে ক্লাস করার সুযোগ পাবেন। এ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ধরনের ভর্তি ফি বা আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন হবে না।
মো. তানভীর আহমেদ বলেন, তিনি নিজেও বর্তমানে একটি জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থী। নিজের শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সেই জ্ঞান অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করাই একজন ছাত্র প্রতিনিধির মূল দায়িত্ব।”
আয়োজক পক্ষ জানায়, অনলাইন ক্লাস সপ্তাহে তিন দিন রাত ৯টা থেকে জুম অ্যাপ বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে তিন দিন সকাল ৯টা থেকে নির্ধারিত কক্ষে সরাসরি অফলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন।
উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের একটি ভাষাগত দক্ষতার সঙ্গে পরিচিত করা, যাতে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি (স্কলারশিপ) কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তারা বাড়তি সুবিধা অর্জন করতে পারেন।
ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মোন্নয়নের একটি সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের সেবামূলক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভাষা শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লোহিত সাগরে জাহাজের ওপর টোল আদায়ের দাবিটি অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তারা একই সঙ্গে জানান, জলপথটি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চলাচল করতে পারবে।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নজরদারি করা হুথি নিয়ন্ত্রিত সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশন কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের (এইচওসিসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের ট্রানজিট সেবাটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জলপথটি দিয়ে যাতায়াতে কেউ টাকা দাবি করলে, তারা ইয়েমেন সরকার বা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করে না বলে সতর্ক করা হয়েছে। এসময়, অননুমোদিত কেউ বা সংস্থাকে টাকা বা তথ্য শেয়ার করতে শিপিং কোম্পানিগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে ২৯ জুলাই বার্তা সংস্থা রয়টার্স আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাব-এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের চিন্তা করছে ইরান-পন্থি হুথিরা। এক সপ্তাহ আগেই হুথিরা সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করেছিল।
এই প্রেক্ষাপটে রয়টার্সের সূত্রগুলো জানায়, জুলাই মাসের প্রথমে তেহরান সফরে হুথি প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। টোল আদায়ের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করতেও ইরানের উপদেষ্টারা হুথিদের সহায়তা করছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে সৌদি আরব তাদের তেল ও পণ্য রপ্তানির বিকল্প রুট হিসেবে বাব-এল-মান্দেব ব্যবহার করে আসছে। ফলে প্রণালিটিতে কোনো শুল্ক আরোপ হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি রিয়াদেই হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এজন্য হুথিদের এমন হুমকির মুখে লোহিত সাগর, বাব-এল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ১৪টি দেশের সমন্বয়ে একটি নতুন নৌ-জোট গঠন করেছে।
এই প্রণালি এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজের চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ। এই প্রণালিতে টোল আরোপের পদক্ষেপটি মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কর আদায়ের ইরানি প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে ধারণা করা হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকা এবং সারা দেশে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কার কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে, গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের একটি জরুরি বার্তা থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জরুরি বার্তায় বলা হয়েছে, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় এবং ডিউটি শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, চলমান ডিউটিতে থাকা কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে।
কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ আনঅ্যাটেন্ডেড অবস্থায় কোনো পুলিশি যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ডিউটি শেষে থানা, পুলিশলাইনস, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ