০৮:০৬ এম
ফুটবল বিশ্ব যার পায়ের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকে, যার পায়ের মায়াবী শিল্পে কোটি প্রাণ নতুন করে ফুটবলকে ভালোবেসেছে, যার শূন্যে আঁকা ক্যানভাসে বারবার ধন্য হয়েছে সবুজ গালিচা। সেই লিওনেল মেসির জন্ম কিন্তু শুধুমাত্র বিধাতার একার সৃষ্টি নয়। সাধারণ এক কিশোর লিওনেল থেকে আজকের কিংবদন্তি 'মেসি' হয়ে ওঠার পেছনে যিনি নিজের রক্ত-ঘাম জল করেছেন, সেই বাবা হোর্হে মেসির জন্য শুধু লিওনেল মেসিই নয়, ফুটবলও চিরকাল কৃতজ্ঞ। মাঠের সবুজ ঘাসে যখন লিও একের পর এক গোলের আনন্দে ভাসতেন, তখন নিঃশব্দে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন একজনই—তার বাবা, তার মেন্টর, তার সবচেয়ে বড় আশ্রয় জোর্হে মেসি। আজ সেই পরম ছায়াবৃক্ষ হারিয়ে গেছে ওপারে, রয়ে গেছে কেবল বাবার শেখানো পাঠ ও একবুক স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস। বাবার বিদায়ের আগেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে আবেগ-ভরা কণ্ঠে মহাতারকা মেসি যেন ফিরে গিয়েছিলেন হারানো সেই শৈশবে, শোনালেন বাবা ও ছেলের অকৃত্রিম ভালোবাসার মহাকাব্য। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’তে বাবার হোর্হে মেসিকে নিয়ে মেসির কিছু স্মৃতিচারণ প্রকাশ পেয়েছে। বাবার গঠনমূলক সমালোচনা নিয়ে মেসি বলেছেন: ‘আমার বাবা আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। তিনি ছিলেন আমার ব্যাপারে ভীষণ কঠোর সমালোচক, যা আমাকে সব সময় আরও ভালো করার তাগিদ দিত। তিনি জেনে ছিলেন যে আমি নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক। তবে আমার মায়ের কাছে আমিই সবসময় সেরা—এমনকি যখন আমি জঘন্য খেলতাম তখনও! মায়ের চোখে আমি প্রতিটি ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলি, কোনো কিছুতেই আমার দোষ থাকে না। আর দশটা মায়ের মতো উনি।’ বাবার হাড়ভাঙা খাটুনি ও আদর্শ বিষয়ে মেসি জানিয়েছেন: ‘আমি বাবার অনেক স্বভাবই পেয়েছি। তবে তিনি সারাদিন কাজ করতেন বলে আমাদের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটাতে পারতেন না। তিনি ভোর ৪টায় উঠতেন এবং রাতের খাবারের সময় ফিরতেন। যখনই দেখা হতো, উনি সেই সময়টা বেশ উপভোগ করতেন; কখনো আমার ওপরে চিৎকারও করেননি। আমি ওনাকে খুব মিস করতাম। আজ আমি ভাগ্যবান যে আমার সন্তানদের সঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটাতে পারি। নিজের বাচ্চাদের মানুষ করার ক্ষেত্রে আমি আমার বাবা-মাকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’ ফুটবল নিয়ে নিজের বোঝাপড়া প্রকাশ করে মেসি বলেন: ‘হোর্হে ফুটবল দেখতে ও খেলতে ভীষণ ভালোবাসেন, আমার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন। বার্সেলোনা এবং জাতীয় দলের হয়ে আমার ম্যাচগুলো নিয়ে আমাদের কথা হয়, এর বাইরে আর কিছু নয়। তিনি ফুটবল ভালোই বোঝেন... (হেসে)। ব্যক্তিজীবনে এবং দলগতভাবে—দুই জায়গাতেই আমরা বিষয়গুলোকে একইভাবে দেখি।’ উন্নতির তাগিদ সম্পর্কে মেসি বলেছেন: ‘ধরা যাক আমি একটা অসাধারণ ম্যাচ খেলেছি, তবুও তিনি আমাকে বলতেন, “তুই তো একটা সুযোগ মিস করেছিস!”—এ কথা বলে আমাকে একটু খেপিয়ে দিতেন। এতে আমার ভালোই লাগত, নিজের ভুলগুলো শুধরে আরও ভালো করার জিল বা তাগিদ পেতাম। আমরা দুজনই নিজের কাজের কঠোর সমালোচক।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন