০৮:১২ এম
ফিলিস্তিনের গাজার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯ জন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। চার দিন গবেষণা চালানোর পর শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের ‘কারাম’ ভবন থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটের কারণে গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে এগিয়ে চলছে। উদ্ধারের কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আবু দান জানান, টানা চার দিন তল্লাশির পর ‘কারাম’ ভবনের উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন বিশেষায়িত চিকিৎসাকর্মী ও সিভিল ডিফেন্সের দল গাজা সিটির অন্য একটি এলাকায় গিয়ে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করবে। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি হামলায় ধসে পড়া কংক্রিটের বিশাল স্ল্যাব সরানোর মতো ভারী সরঞ্জাম না থাকায় তারা সাধারণ সরঞ্জাম ও কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুরো উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ৮ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত ও ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। হামলা চললেও গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে হামাস। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি জানায়, ইসরাইল শর্ত বাস্তবায়ন করলে তারা তা বাস্তবায়ন করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনায় অস্ত্র হস্তান্তর এবং গাজার নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা দেয়ার বিষয় রয়েছে। হামাস বলছে, ইসরাইল চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন শুরু করলেই তারা দ্বিতীয় ধাপে যেতে প্রস্তুত। এজন্য ওয়াশিংটনকে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে হামাসের এই অবস্থানকে ভিন্নভাবে নেয়ার দাবি করেছে ইসরাইল। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সামরিক অভিযান ঠেকিয়ে সময় কিনতেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সায় দিয়েছে হামাস। ইসরাইলের অভ্যন্তরে পরিকল্পনাটি নিয়ে আপত্তি বাড়ছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন