ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এসএসসি’র ফলাফলে কুলিয়ারচরে আবারো শীর্ষে ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ


এসএসসি’র ফলাফলে কুলিয়ারচরে আবারো শীর্ষে ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আবারো কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ।

এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার মধ্যে ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রেখে কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটির উভয় দিক থেকে এবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে। দুর্দান্ত এই অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভাসছেন।

আজ ১০ আগস্ট সোমবার ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মোট ১৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১৮ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন। এছাড়াও ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৩২ জন। পাশের হার ৭৮.১৫ শতাংশ এবং ভোকেশনাল থেকে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৩ জন। যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন এবং ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৪০ জন। এ বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন এবং "এ" গ্রেড পেয়েছে ৭২জন।

আরও পড়ুন: ফেনীতে মাদক কারবারিদের হামলায় আহত দিনমজুর মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যু

এ বছর পাশের হার এবং সামগ্রিক ফলাফলের মান, উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।

এছাড়া এ বছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ১ জন ট্যালেন্টপুলে ও ৫ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে কৃতিত্ব দেখিয়েছে।

উপজেলার শীর্ষস্থান অর্জন প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, "এ অর্জন কেবল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একার নয়। এটি আমাদের সকল শিক্ষক-কর্মচারী, গভর্নিং বডির সম্মানিত সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনেও এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন।

এছাড়া, এবছর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৯২ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন, পাশের হার-৭০.৭৭ শতাংশ। ফরিদপুর ইউনিয়ন আ. হামিদ ভুঞা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১০০ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন, পাশের হার- ৭১.৯৪ শতাংশ। কুলিয়ারচর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৯৬ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন, পাশের হার-৭২.৭৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন: হাঁড়িধোয়া নদী: মাছহীন ও বিষাক্ত, স্থানীয়দের উদ্বেগ বৃদ্ধি

এবং বেগম নুরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৬০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার- ৭৩.১৭ শতাংশ। আগরপুর গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৮৭ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার-৬৮.৫০ শতাংশ। এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৭৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, পাশের হার- ৫৮.৩৩ শতাংশ।

এবং গোবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার-৭৩.৪৭ শতাংশ। মুছা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৯ জন, পাশের হার-৬২.০৩ শতাংশ। আব্দুল্লাপুর বড়চারা আইভি রহমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ২৫ জন, পাশের হার- ৭৮.১২ শতাংশ। আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৯৪ জন, পাশের হার-৫২.৮১ শতাংশ।

এবং বীর কাশিম নগর ফেদাউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩০ জন, পাশের হার-৫৭.৬৯ শতাংশ। লায়ন মুজিব মুনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৭ জন, পাশের হার-৮০.৯৫ শতাংশ। বাংলাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪১ জন, পাশের হার-৩৩.০৬ শতাংশ। জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৭ জন, পাশের হার ৩৭.৭৮ শতাংশ।

এছাড়াও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিফ বিজ্ঞান ও কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১২ জন, পাশের হার-৩৬.৩৬ শতাংশ। সালুয়া কারিগরি বিএম কলেজ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১ জন, পাশের হার-১০ শতাংশ। লক্ষ্মীপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ থেকে ৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৯ জন, পাশের হার- ৮১.৬৬ শতাংশ। সালুয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাশ করেছে ৩৮ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার-৫৫.০৭ শতাংশ। গোবরিয়া ই.ইউ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩৩ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাশের হার-৮০.৪৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে দীঘিনালার পূজামণ্ডপে জোন কমান্ডার

এবছর কুলিয়ারচর উপজেলার ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৭৪০জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মোট ১১১৫ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এদের মধ্যে ৫২জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসী কার্ড চালুর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংকের সমঝোতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


প্রবাসী কার্ড চালুর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংকের সমঝোতা

ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : বিদেশে অবস্থানরত ও অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি’র মধ্যে আজ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আর্থিক লেনদেন সহজীকরণ, তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা এবং বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, আজ প্রবাসী কার্ড চালুর মাধ্যমে আমরা এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছি। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান সর্বাগ্রে। তাঁদের জীবনের সার্বিক সুরক্ষা, কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা এবং দেশে লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করতেই এ ডিজিটাল প্রবাসী কার্ড প্রবর্তন করা হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অনন্য অবদানকে সম্মান জানিয়ে যুগোপযোগী সেবা নিশ্চিত করার জন্য জনতা ব্যাংক পিএলসি কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের পাশাপাশি, সরকারি বিভিন্ন সুবিধা আরও সহজে ভোগ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সরকারের সময় বদ্ধ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ অনুযায়ী কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। প্রবাসীদের কল্যাণ সাধন ও তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তারই একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি’র পক্ষে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার

রাঙ্গামাটি, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে, জেলায় কাপ্তাই হ্রদে আগামিকাল মঙ্গলবার থেকে আবারও মৎস্য আহরণ শুরু হবে।

আজ সোমবার রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কমিটির গত ২৭ জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে জনস্বার্থে আগামীকাল ১১ আগস্ট মঙ্গলবার ভোর থেকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক ৭টি শর্ত সাপেক্ষে মৎস্য শিকার, বাজারজাতকরণ এবং পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত করা হলো। তবে যে কোন রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রয়োজনে এ মৎস্য শিকার উন্মুক্তকরণ আদেশ রদ বা প্রত্যাহার করার ক্ষমতা সংরক্ষিত থাকবে।

কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশবৃদ্ধি ও পোনা মাছের সুষম বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২০ এপ্রিল থেকে কাপ্তাই হ্রদে সবধরনের মৎস্য আহরণ, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) সূত্রে জানা যায়, ১০৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামিকাল মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার খবরে জেলার বিভিন্ন ঘাট ও বিএফডিসির মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে।

রাঙ্গামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর শুক্কুর জানান, কাপ্তাই হ্রদে আবারও মৎস্য আহরণ শুরু হওয়ার খবরে মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে জাল মেরামত, নৌকা প্রস্তুত, জ্বালানি সংগ্রহ ও বরফ মজুতসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর এবার তারা কাক্সিক্ষত মাছ পাওয়ার পাশাপাশি ঋণ ও আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন।

বিএফডিসি কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, গত বছরের চেয়েও বেশি মাছ অবতরণ হবে এবং সরকারী রাজস্বও বাড়বে।’

তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে হ্রদে অতিরিক্ত মাছ আহরণ ও মাছের অপচয় রোধে অবতরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক এর স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীরা পেলো স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


কলাপাড়ায়  বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক এর স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীরা পেলো স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণ কার্যক্রমটি সোমবার ১০ আগস্ট, দুপুরে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আইয়ুব আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে এসময় উপকরণ বিতরণ করেন ব্রাক স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের সিনিয়র কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার কে এম মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাওয়া উপকরণগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল একটি স্কুল ব্যাগ, ১টি জ্যামিতিক বক্স, ২টি বড় সাইজের খাতা এবং ২টি কলম। সংগঠনটি এর আগেও এসব শিক্ষার্থীকে খাতা, কলম, স্কেল এবং জ্যামিতিক বক্স উপহার দিয়েছিল।

উপহার নিয়ে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিয়া রহমান বলেছেন, "আমার আগের ব্যাগটি ছিড়ে গেছে। এই ব্যাগ এবং উপকরণ পেয়ে আমার অনেক উপকার হয়েছে।" তিনি আরো জানিয়েছেন, ব্রাক অফিসে তাদের স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স এর একাউন্ট রয়েছে, যেখানে তারা প্রতি মাসে টাকা জমা রাখেন।

প্রধান শিক্ষক মো.আইয়ুব আলী উল্লেখ করেছেন, "এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একদিকে টাকা জমা করছে। অপরদিকে ইংরেজি স্পোকেন কোর্সে অংশ নিয়ে ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করছে।" শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার জন্য উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক এবং প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

ব্রাকের স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স প্রকল্পের কর্মকর্তা কে এম মশিউর রহমান জানিয়েছেন, "বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আমাদের এই কর্মসূচি চলছে।" তিনি আরো বলেন, "এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্স করানো হচ্ছে।" এছাড়া শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে একাউন্ট করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে টাকা জমা রাখতে পারেন। অন্যান্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা উপকরণ, গাছের চারা এবং কবুতর। তিনি উল্লেখ করেন, "শীঘ্রই এর মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে ফ্রি ল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছায় তীব্র লোডশেডিং, দিনে বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


পাইকগাছায় তীব্র লোডশেডিং, দিনে বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা

খুলনার পাইকগাছায় বিদ্যুতের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে চাহিদার তুলনায় কমে গেছে, যার কারণে তীব্র লোডশেডিং ঘটছে। সম্প্রতি, গত কয়েক দিন ধরে দিনের বিভিন্ন সময় মিলিয়ে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার অভিযোগ করছে এখানে বসবাসকারী বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। এ ছাড়া, বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও কলকারখানার কার্যক্রমও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। রাতের বেলায়ও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনায় ঘুম ও দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটছে। শুধু বাসাবাড়ি নয়, দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র শিল্প ও বিভিন্ন মিল-কলকারখানায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা জোনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট প্রায় এক লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন, যাদের মধ্যে সচল গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৮৫ হাজার। এই গ্রাহকদের জন্য প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। কিন্তু গত দুই দিন ধরে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় অনেক কম, মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে এই বড় ধরনের ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন। পাইকগাছার অর্থনীতির একটি বড় অংশ মাছ চাষ ও মাছের ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট এই খাতেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে বরফকলগুলোতে পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাছ সংরক্ষণ এবং পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল মোড়ল বলেছেন, মাছ সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত বরফের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় বরফকলগুলো স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এর ফলে সময়মতো বরফ পাওয়া যাচ্ছে না এবং মাছের সংরক্ষণ এবং পরিবহনে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থায় মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বরফের সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে মাছ সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি দামে বরফ কিনতে হচ্ছে। এই কারণে ব্যবসায়িক খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন মিল-কলকারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ধান, চাল ও তেল মাড়াইসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় শ্রমিকদের বসে থাকতে হচ্ছে। এতে মালিকদের উৎপাদন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং শ্রমিকরাও কর্মঘণ্টা হারাচ্ছেন।

গোপালপুরের নাহিদ হাসান রাইস মিলের মালিক আমিনুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে মিলটা ঠিকমতো চালাতে পারছি না। কখন বিদ্যূৎ আসবে, কখন চলে যাবে, তা জানি না। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চালের দামেও প্রভাব পড়ছে।

মিলের শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মিল চলে না। মিল বন্ধ থাকলে আমাদের কাজ থাকে না এবং কাজ না থাকলে মালিকেরাও ঠিকমতো বেতন দিতে পারেন না। এই অবস্থায় আমরা খুব অসহায় হয়ে পড়েছি।

লোডশেডিংয়ের কারণে পাইকগাছার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েছেন। দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বেচাকেনা কমে যাচ্ছে। কম্পিউটার, ফটোকপি, প্রিন্টিং, অনলাইন সেবা, মোবাইল ও ইলেকট্রনিকসের দোকানসহ বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এই বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া বিদ্যুতের অভাবে বাসাবাড়িতে পানির মোটর চালানো, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোসহ দৈনন্দিন কাজগুলো ব্যাহত হচ্ছে।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা জোনের উপমহাব্যবস্থাপক অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, পাইকগাছা উপজেলায় দৈনিক প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত দুই দিন ধরে আমরা মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়ে এসেছি। এই কারণে আমাদের গ্রাহকদের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ দরকার। এবং সরবরাহ পর্যাপ্ত না হলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আর্কষণ করে বলছেন, কয়েকদিন ধরে যে মাত্রায় লোডশেডিং হচ্ছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে নজিরবিহীন। দিনের ও রাতের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। স্থানীয় অভিযোগ করেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়বে না, ক্ষতির মুখে পড়বে মাছ ব্যবসা, কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম, মিল-কলকারখানা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা। এতে সামগ্রিকভাবে স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই, তারা দ্রুত বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়িয়ে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুতের ঘাটতির স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%