প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আবারো কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ।
এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার মধ্যে ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রেখে কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটির উভয় দিক থেকে এবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে। দুর্দান্ত এই অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভাসছেন।
আজ ১০ আগস্ট সোমবার ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মোট ১৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১৮ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন। এছাড়াও ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৩২ জন। পাশের হার ৭৮.১৫ শতাংশ এবং ভোকেশনাল থেকে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৩ জন। যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন এবং ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৪০ জন। এ বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন এবং "এ" গ্রেড পেয়েছে ৭২জন।
এ বছর পাশের হার এবং সামগ্রিক ফলাফলের মান, উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।
এছাড়া এ বছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ১ জন ট্যালেন্টপুলে ও ৫ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে কৃতিত্ব দেখিয়েছে।
উপজেলার শীর্ষস্থান অর্জন প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, "এ অর্জন কেবল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একার নয়। এটি আমাদের সকল শিক্ষক-কর্মচারী, গভর্নিং বডির সম্মানিত সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনেও এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন।
এছাড়া, এবছর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৯২ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন, পাশের হার-৭০.৭৭ শতাংশ। ফরিদপুর ইউনিয়ন আ. হামিদ ভুঞা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১০০ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন, পাশের হার- ৭১.৯৪ শতাংশ। কুলিয়ারচর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৯৬ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন, পাশের হার-৭২.৭৩ শতাংশ।
এবং বেগম নুরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৬০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার- ৭৩.১৭ শতাংশ। আগরপুর গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৮৭ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার-৬৮.৫০ শতাংশ। এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৭৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, পাশের হার- ৫৮.৩৩ শতাংশ।
এবং গোবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার-৭৩.৪৭ শতাংশ। মুছা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৯ জন, পাশের হার-৬২.০৩ শতাংশ। আব্দুল্লাপুর বড়চারা আইভি রহমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ২৫ জন, পাশের হার- ৭৮.১২ শতাংশ। আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৯৪ জন, পাশের হার-৫২.৮১ শতাংশ।
এবং বীর কাশিম নগর ফেদাউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩০ জন, পাশের হার-৫৭.৬৯ শতাংশ। লায়ন মুজিব মুনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৭ জন, পাশের হার-৮০.৯৫ শতাংশ। বাংলাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪১ জন, পাশের হার-৩৩.০৬ শতাংশ। জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৭ জন, পাশের হার ৩৭.৭৮ শতাংশ।
এছাড়াও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিফ বিজ্ঞান ও কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১২ জন, পাশের হার-৩৬.৩৬ শতাংশ। সালুয়া কারিগরি বিএম কলেজ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১ জন, পাশের হার-১০ শতাংশ। লক্ষ্মীপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ থেকে ৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৯ জন, পাশের হার- ৮১.৬৬ শতাংশ। সালুয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাশ করেছে ৩৮ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার-৫৫.০৭ শতাংশ। গোবরিয়া ই.ইউ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩৩ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাশের হার-৮০.৪৮ শতাংশ।
এবছর কুলিয়ারচর উপজেলার ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৭৪০জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মোট ১১১৫ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এদের মধ্যে ৫২জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন