১০:২০ এম
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে একসময়কার ঐতিহ্যবাহী কাশবন। অতীতে গ্রাম বাংলার ঝোপঝাড়, রাস্তাঘাট এবং নদীর দুই ধারসহ নানা স্থানে কাশফুলের মনমুগ্ধকর উপস্থিতি দেখা যেত। হাওয়ায় দোল খাওয়া কাশফুলের দৃশ্য মানুষের মনে এক ভিন্ন আনন্দের আমেজ সৃষ্টি করত। কিন্তু কালের আবর্তে বর্তমানে ওই চিরচেনা দৃশ্যগুলো আর তেমনভাবে দেখা যাচ্ছে না।
বর্তমানে গ্রামবাংলায় বিচ্ছিন্নভাবে যে কয়েকটি কাশবন বা কাশফুল দেখা যায়, সেগুলোও ক্রমশ বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতামত অনুযায়ী, কাশবন চাষে অতিরিক্ত কোনো পরিচর্যা বা সার প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। এটি স্বাভাবিকভাবে জন্মায় অথবা বীজ ছিটিয়ে দিলেই কাশবনের সৃষ্টি হয়। এর ব্যবহারও বহুমুখী। কাশবনের গাছ কিছুটা বড় হলেই তা গরু-মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়াও, গ্রামের বধূরা কাশ দিয়ে ঝাঁটা, ডালি ও দোন তৈরি করে থাকেন।
আরও পড়ুন: কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে এসপি তানিয়া বরখাস্ত
তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানুষ ঝোপঝাড়, বন-জঙ্গল ও পতিত জমি কেটে কৃষিজমি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছেন। এর ফলে প্রকৃতির রূপদানকারী কাশবনসহ গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, সাধারণ মানুষ যদি একটু সচেতন হন, তবে কাশবনসহ এসব চিরচেনা ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব।
প্রকৃতিতে শরৎ মানেই নদীকূলে কাশফুলের শুভ্র উপস্থিতি, যা বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিন্তু সময়ের চাহিদায় যান্ত্রিক জীবনের প্রভাবে মানুষ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। পূর্বে যেখানে কাশফুলের অরণ্য দেখা যেত, সেখানে আজ মৌসুমি ফসলের খেত গড়ে উঠেছে। এভাবেই আধুনিকায়নের প্রভাবে শরতের প্রকৃত সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে বসেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃতি উপভোগের সুযোগও দিন দিন সীমিত হয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন