০৪:০৮ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের কারণে ব্যাপক পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর মজুত পুনর্গঠনের জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনী রেথিয়নের সঙ্গে এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বহুবর্ষী চুক্তি করেছে।
এই চুক্তিটি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঘোষণা করা হয় এবং এর মেয়াদ পাঁচ বছর। প্রয়োজন হলে এই মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী জানায়, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো এসএম-৬ প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় এবং এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধেও সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ও স্থলভিত্তিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা—দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর।
আরও পড়ুন: ৯ মাসে মালয়েশিয়ার রপ্তানি ৩৮৪.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে
নতুন চুক্তিটি চলতি বছরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের দ্বারা স্বাক্ষরিত একাধিক বড় অস্ত্র উৎপাদন চুক্তির সর্বশেষ সংযোজন। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রেথিয়নের সঙ্গে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এএমআরএএএম ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি বহুবর্ষী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্যাট্রিয়ট প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য লকহিড মার্টিনের সঙ্গে ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিও হয়েছে।
এই চুক্তিগুলির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং মজুত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে শিল্প খাতের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, চুক্তিগুলোর পূর্ণ অর্থায়নের জন্য কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এখনও অনুমোদিত হয়নি। ফলে আইনপ্রণেতারা অর্থ ছাড় না করা পর্যন্ত ঠিকাদারদের জন্য বড় পরিসরে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ করা কঠিন হতে পারে।
রেথিয়ন জানিয়েছে, বাড়তি চাহিদা মোকাবিলার জন্য দক্ষ কর্মী বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন সক্ষমতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান এবং ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টিও রয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ও নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন: হুথি হামলার ভয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন