০৪:০৯ পি.এম
কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণের ফলে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি হয়ে গেছে। সিয়াটল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৩০০ জনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ১৮ জন মারা গেছেন। অর্থাৎ শনাক্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেকই মৃত্যুবরণ করেছেন। এটি ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
১৫ মে কঙ্গোতে নতুন ইবোলা সংক্রমণের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিরল বান্দিবুগিও ভাইরাসের কারণে এবারের সংক্রমণ ঘটেছে। এই ভাইরাসের জন্য কোনো পরিচিত চিকিৎসা বা টিকা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে, ভাইরাসটি দ্রুত নতুন নতুন স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে সীমিত স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সম্পদের ওপর চাপ বাড়ছে।
আরও পড়ুন: আসামে ১১০০ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, ১০ মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় ওলামা অ্যালায়েন্সের নিন্দা
আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ইবোলা শনাক্ত হওয়ার হার কমছে। তবে নিরাপত্তাহীনতা এবং সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা কিছু এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইবোলা মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে কথা বলায় কঙ্গোর এক রাজনীতিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইবোলা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মারি-সেলেস্তিন কারোন্দওয়া ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড সোশ্যাল প্রগ্রেস দলের স্থানীয় কর্মকর্তা ছিলেন। রবিবার পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর কিভু প্রদেশের বুতেম্বোতে তার ওপর হামলা হয়। পরে তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্তৃপক্ষের প্রতি মানুষের ব্যাপক অবিশ্বাসের কারণে কঙ্গোতে ইবোলার ১৭তম সংক্রমণ মোকাবিলায় কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত মাসে সরকার গ্রামভিত্তিক একটি উদ্যোগ শুরু করে। তবে কিছু বাসিন্দা ইবোলা সংক্রমণকে ভুয়া মনে করায় সেই উদ্যোগও বাধার সম্মুখীন হয়েছে।
আরও পড়ুন: তেহরানে ‘কারাবন্দি ট্রাম্প’, লেখা-এই দৃশ্য না দেখা অপরাধ
সরকারের প্রতি মানুষের গভীর অবিশ্বাস রয়েছে। অতীতে ইবোলা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি এবং অন্যান্য কারণে এই অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন