বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৮ পি.এম
আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে সরকারপ্রধানের সফরে অংশগ্রহণ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে জাপান থেকে ফেরার নির্দেশ প্রদান করেছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী ইতোমধ্যে টোকিও থেকে ঢাকায় ফিরে এসেছেন। তিনি বর্তমানে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
সূত্রটি আরও জানায়, রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীর অনুপস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম টোকিওতে অবস্থান করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা তদারকি করবেন। অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিব নজরুল ইসলাম বুধবার (২২ অক্টোবর) টোকিও গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করবেন।
সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফরের পূর্বে রাষ্ট্রদূতকে নিজ দেশে ফেরানোর ঘটনা বিরল। কী কারণে তাকে ফেরানো হয়েছে তা জানাতে পারবো না। তবে তাকে ফিরতে বলা হয়েছে এবং তিনি ফিরেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রান্সজেন্ডারদের পরিচয়, সম্পর্ক ও জীবনসংগ্রামের এমন কিছু বাস্তবতা রয়েছে, যা নিয়ে সমাজে খুব কমই আলোচনা হয়। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমান’ এই না বলা গল্পগুলোকে পর্দায় তুলে ধরেছে। ছবিটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই) লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছবিটির পরিচালনা করেছেন রাহুল রয়ে। এতে আমান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ৩৪ বছর বয়সী কবির মান। এটি তার প্রথম চলচ্চিত্র।
ছবিতে আমান একজন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ। লিঙ্গনিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচারের কিছুদিন আগে তিনি জানতে পারেন, তিনি গর্ভবতী। একজন সিসজেন্ডার পুরুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছবিটি সমাজে প্রচলিত ধারণা ও ট্যাবুকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
কবির মান জানান, প্রথমে চরিত্রটি নিয়ে তার দ্বিধা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন এবং এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করলে সমাজের পুরনো ধারণাগুলো আবার উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। পরে তিনি অনুভব করেন, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আরো বেশি মানুষকে জানানো সম্ভব।
ছবির কিছু দৃশ্য তার জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল বলেও জানান কবির। তিনি নিজের জীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতার স্মৃতি কাজে লাগিয়ে চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলেছেন। তার কাছে ছবিটি ব্যক্তিগত যন্ত্রণা প্রকাশের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের কাছে নিজের পরিচয় ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে কবির নিজের জীবনের নানা বাধার কথাও উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, শিক্ষাগত সনদে নাম সংশোধন, শিক্ষকতার চাকরিতে আবেদন এবং পাসপোর্ট নবায়নের সময় লিঙ্গপরিচয়সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, ট্রান্সজেন্ডার মানুষের সংগ্রাম শুধু সামাজিক গ্রহণযোগ্যতায় সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়।
‘আমান’ চলচ্চিত্রটি সেই পরিচয়, সংগ্রাম ও না বলা অভিজ্ঞতাগুলো সামনে এনেছে। লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জয় ছবিটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জীবন নিয়ে আলোচনার সুযোগও তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গবেষকেরা এবার বাংলাদেশের মিঠাপানির মাছ চাষের পুকুরের পলি এবং মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পুকুরের তলদেশের পলিতে মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার দূষণ বিদ্যমান। এর আগে নদী, সমুদ্র এবং এমনকি ইলিশ মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, তবে চাষের পুকুরে এ ধরনের সমন্বিত গবেষণা এবারই প্রথম হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই তথ্যগুলো জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়— নির্বাচিত ২৫টি পুকুরের প্রতিটি পলির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। মাছের নমুনায়ও এই ক্ষুদ্র কণাগুলোর উপস্থিতি মিলেছে, যা মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গবেষণাটির শিরোনাম ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার: এভিডেন্স অব সেডিমেন্ট–ফিশ ট্রান্সফার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড ইকোলজিক্যাল রিস্ক ইন বাংলাদেশ’। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন-এ এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের দাবি, মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম, যা দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মিঠাপানির মাছ চাষের অন্যতম প্রধান অঞ্চল ময়মনসিংহের ত্রিশাল। এখানে নিবিড় ও আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদন করা হয়। শীতকালে ২৫টি খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন।
তিনি বলেন, মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম। এটি দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অধ্যাপক বদিউজ্জামান জানান, গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল পুকুরের তলদেশের পলি ও মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা। সেই সঙ্গে মাছের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্পর্ক, প্লাস্টিকের রাসায়নিক গঠন এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন করা ছিল এর লক্ষ্য।
সাধারণত পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। প্লাস্টিক ব্যাগ, মোড়ক, দড়ি, মাছ ধরার জাল এবং বিভিন্ন বর্জ্য সামগ্রী ভেঙে এই ক্ষুদ্র কণা তৈরি হয় এবং পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ত্রিশালের ২৫টি পুকুরের গবেষণায় দেখা গেছে, তলদেশের পলিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ১১ দশমিক ০৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। পলিউশন লোড ইনডেক্স বা দূষণভার সূচকের মান ১ থেকে ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতে অধিকাংশ স্থানকে মাঝারি থেকে উচ্চ দূষণযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রবহমান নদীর তুলনায় পুকুরে পানির বিনিময় সীমিত হওয়ায় তলদেশে এই কণাগুলো দীর্ঘ সময় জমে থাকার সুযোগ পায়। ফলে তলদেশে খাবার খোঁজা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর এই কণা গ্রহণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে প্রজাতি, খাদ্য অভ্যাস এবং পুকুরের পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে কণা গ্রহণের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
গবেষকেরা ছয় প্রজাতির মোট ১৫০টি মাছ পরীক্ষা করে মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি মাছে গড় কণার সংখ্যা ছিল শূন্য দশমিক ৬০। প্রজাতিভেদে এই পার্থক্য ছিল লক্ষণীয়; সরপুঁটি মাছে প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ২০টি কণা পাওয়া গেছে, আর রুই ও মৃগেলের ক্ষেত্রে এই গড় ছিল শূন্য দশমিক ৬৮। অন্যদিকে কাতলা, কমন কার্প ও পাঙাশ মাছে তুলনামূলক কম কণা পাওয়া গেছে।
বসবাসের স্তর অনুযায়ী, তলদেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যে মোট শনাক্ত কণার ৫২ শতাংশ পাওয়া গেছে। মধ্যবর্তী স্তরের মাছের ক্ষেত্রে এই হার ৩৫ শতাংশ এবং উপরিভাগের মাছের ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ। অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান বলেন, মাছকে প্রচুর ফিড খাওয়ানো হয়। সব ফিড যে খারাপ, তা বলছি না। তবে কিছু ফিডে এসব থাকে। অনেক সময় বন্যার পানিতে অন্য স্থানের মাইক্রোপ্লাস্টিক পুকুরে চলে আসে। মাছের পরিপাকতন্ত্রে আমরা মূলত এর উপস্থিতি দেখেছি।
গবেষণায় প্রধানত পলিথিন (পিই) ও পলিপ্রপিলিন (পিপি) পলিমার শনাক্ত হয়েছে। পলিথিন সাধারণত ব্যাগ ও প্যাকেজিংয়ে এবং পলিপ্রপিলিন পাত্র, দড়ি ও প্লাস্টিক পণ্যে ব্যবহৃত হয়। গবেষকদের মতে, মাছের খাদ্য, বস্তা, মোড়ক, মাছ ধরার সরঞ্জাম, পানির পাইপ এবং গৃহস্থালি বর্জ্য এর সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট উৎস নিশ্চিত করতে আরও পৃথক নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
ত্রিশাল উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার পুকুরে মাছ চাষ হয় এবং বছরে উৎপাদিত হয় ৭২ হাজার মেট্রিক টন মাছ। জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন জানান, পুকুরের পাড়ে পোল্ট্রি খামারের কারণে দূষণ ঘটতে পারে। তিনি বলেন, মাছের পুকুরের পাড়ে পোলট্রির জন্য মাছ চাষে দূষণের ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। ইতিমধ্যে একটি পুকুরের পাশ থেকে মুরগির খামার তুলে দেওয়া হয়েছে।
গবেষকরা বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। এটা কোথায় ফেলা হবে, এর কোনো সঠিক জায়গা নেই। প্রক্রিয়াজাত প্রায় হচ্ছেই না। মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আমরা দেখেছি। মাছ থেকে তাই এটি মানুষের শরীরে পৌঁছাবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তারা জানান, পলিথিন অসংখ্য অণুর সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় রান্নার তাপে এটি সহজে নষ্ট হয় না। ফলে মাছের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে যকৃত ও কিডনির কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরবি লাইপজিগের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের বিশাল জয়ের পর এল ক্লাসিকোর প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আরদা গুলের। লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকার কারণে আসন্ন এই লড়াইটি রিয়ালের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লস ব্লাঙ্কোসরা জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে চাইবে না, কারণ তারা শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকতে চায়।
লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে জানান, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় মাঠে নামার আগে দলের পুরো মনোযোগ ছিল কেবল ওই ম্যাচের দিকে। এল ক্লাসিকোর গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও তারা আগের ম্যাচের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চাননি।
এফসিবি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের গুরুত্ব তুলে ধরে এমবাপ্পে বলেন, "এল ক্লাসিকো অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে আমরা আগে কেবল লাইপজিগ ম্যাচ নিয়েই ভাবছিলাম। রোববার কী ঘটবে, তা নিয়ে ভাবার সময় এখন এসেছে।"
ফরাসি ফরোয়ার্ড আরও জানান, আসন্ন ক্লাসিকোর উত্তেজনা তাদের ইউরোপীয় ম্যাচের প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তার কথায়, "এর আগে পুরো দল রোববারের ম্যাচটি নিয়ে কোনো চিন্তাই করেনি।"
এদিকে, বার্সেলোনার বিপক্ষে লড়াই নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রিয়ালের তুর্কি মিডফিল্ডার আরদা গুলেরও। ম্যাচটিকে ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এটি অনেক বড় একটি ম্যাচ, একদম সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের লড়াই। জয় পেতে আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে দেব।"
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের প্রত্যাশার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন গুলের। ক্লাবটির জার্সির মর্যাদা ও সমর্থকদের প্রত্যাশার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমরা রিয়াল মাদ্রিদ, প্রতিটি ম্যাচেই জেতা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।"
গুলেরের বক্তব্যে স্পষ্ট, বার্সেলোনার বিপক্ষে লড়াইয়ে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে থাকা বার্সেলোনার জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। এই লড়াইয়ে জয় পেলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে কাতালান ক্লাবটি।
পিএসজির বিপক্ষে হতাশাজনক ফলের পর বার্সেলোনা এল ক্লাসিকোতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। রিয়ালকে হারাতে পারলে তাদের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ৯-এ পৌঁছাবে, যা শিরোপার লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে বাড়তি স্বস্তি দিতে পারে। দুই দলের জন্য আসন্ন এল ক্লাসিকো কেবল মর্যাদার লড়াই নয়, লা লিগার শিরোপা দৌড়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার মাঠের বাইরের সম্পর্কের তিক্ততা আরও প্রকাশ্যে এসেছে। রোববার ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ উপস্থিত থাকবেন না। নেগ্রেইরা-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই ক্লাবের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে পেরেজ এবারও বার্সেলোনায় যাচ্ছেন না, এমনটি জানিয়েছে মুণ্ডো দেপোর্তিভো।
পেরেজের অনুপস্থিতির পাশাপাশি, ম্যাচের আগে দুই ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের ঐতিহ্যবাহী মধ্যাহ্নভোজও অনুষ্ঠিত হবে না। এল ক্লাসিকোর পূর্বে দুই ক্লাবের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই বৈঠক দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের অবনতির কারণে সেই রীতিও এবার বাদ পড়ছে।
মুণ্ডো দেপোর্তিভোর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের একজন সহসভাপতি এবার ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে বিশেষ অতিথিদের আসনে উপস্থিত থাকবেন। ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এল ক্লাসিকোয় পেরেজের এটি তৃতীয়বারের মতো অনুপস্থিতি হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর বার্সেলোনার মাঠে লিগের এল ক্লাসিকোয় তিনি উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে দুই ক্লাবের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের অবনতির সময়েই তাঁর অনুপস্থিতি দেখা গেছে।
বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের এবারের এল ক্লাসিকো অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর, ক্যাম্প ন্যুতে। নেগ্রেইরা-কাণ্ডকে ঘিরে দুই ক্লাবের মধ্যে চলমান বিরোধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরেও নানা বিষয়ে দুই পক্ষের দূরত্ব বেড়েছে। ফলে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটির আগে পেরেজের অনুপস্থিতি এবং দুই ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী মধ্যাহ্নভোজ বাতিল হওয়া সেই টানাপোড়েনেরই আরেকটি প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ