বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৩২ পি.এম
বর্ষাকালে কৃষিজমি দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে থাকে। এই অবস্থায় জলজ উদ্ভিদ ঘন হয়ে ওঠে। সাধারণ কৃষিকাজ সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে, পিরোজপুরের কৃষকরা এই পরিস্থিতিতে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন।
জলের ওপর কচুরিপানা জমিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ‘ধাপ’ বা ভাসমান শয্যায় দেশি-বিদেশি নানা জাতের সবজি ও চারা ফলানো হচ্ছে। জেলার নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার শত শত একর জলমহালে এখন সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে।
ভাসমান এই চাষের মাধ্যমে প্রতি বছর জেলায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, যেখানে পুরুষদের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের ভাগ্যের চাকাও ঘুরছে।
পানির ওপর সমৃদ্ধি
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী দোবরা, কলারদোয়ানিয়া, মালীখালী এবং নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের গ্রামগুলো বর্তমানে ভাসমান কৃষির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এলাকার বিস্তীর্ণ জলাশয়ে চোখ মেললেই দেখা যায় সারি সারি ভাসমান কৃষিশয্যা।
কৃষিশয্যা প্রস্তুতের কৌশল
বর্ষার শুরুতে খাল বা বিলে জমে থাকা কচুরিপানা একত্রিত করে পচানো হয়। এরপর, কয়েক স্তরে জমাট বাঁধিয়ে প্রস্তুত করা হয় দুই থেকে তিন ফুট পুরু এবং ৫০ থেকে ১০০ ফুট দীর্ঘ ভাসমান শয্যা বা ধাপ। এসব ধাপে মূলত শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, করলা, টমেটো, চালকুমড়া ও বেগুনের বীজ রোপণ করে চারা উৎপাদন করা হয়।
এছাড়া, ধাপে সরাসরি ফলানো হয় লালশাক, পালংশাক, ডাটাশাক ও পুঁইশাকও।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমে ভাসমান কৃষিশয্যায় বিভিন্ন ধরনের সবজির প্রায় এক কোটি চারা উৎপাদিত হয়। এসব চারা বিক্রি করে আয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মৌসুমজুড়ে এখান থেকে চারা ও তাজা সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলা তো বটেই, দেশের উত্তরাঞ্চল থেকেও কৃষকরা এখানে চারা কিনতে আসেন। বর্তমানে এ পেশায় সরাসরি জড়িত প্রায় ছয় হাজার কৃষক।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও জাতিসংঘের স্বীকৃতি
পিরোজপুরের স্থানীয় কৃষকদের এই ভাসমান চাষাবাদের ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। শত বছরের এই মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি আজ আর কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা করে পানির ওপর ফসল ফলানোর এই ভাসমান কৃষি পদ্ধতিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ২০১৫ সালে ‘গ্লোবাল ইম্পর্ট্যান্ট এগ্রিকালচারাল হেরিটেজ সিস্টেম’ বা ‘বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
নাজিরপুর ও নেছারাবাদের এই পদ্ধতি আজ বিশ্বের জলবায়ু ঝুঁকিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিড়া তৈরি
কচুরিপানা, দুলালীলতা, শ্যাওলা, টেপপানা, গুঁড়িপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদের সঙ্গে খড়কুটা দিয়ে নারীরা ছোট ছোট গোলাকার ‘বিড়া’ বা দোলনা তৈরি করেন। এর ভেতর মাটি ও পচা পাতা দিয়ে বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটানো হয়।
পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ
বীজ ফুটলে তা যত্নে বড় করে তোলা, পোকা-মাকড় দূর করা এবং ধাপে বসানোর উপযোগী করার মূল দায়িত্ব পালন করেন পরিবারের নারী ও কিশোরীরা।
আর্থিক স্বাধীনতা
২০০৫ সাল থেকে নেছারাবাদের বলদিয়া ইউনিয়নের গগন গ্রামের কৃষক জাকির হোসেনের স্ত্রী নূরজাহান বেগমের মতো অনেক নারী উদ্যোক্তা বর্তমানে এলাকার অসহায় নারীদের নিয়ে কাজ করছেন। এর মাধ্যমে গ্রামের হাজার হাজার নারী নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। ফলে, নিজেদের হাতখরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ এখন তারা নিজেরাই বহন করছেন।
কৃষি দপ্তরের সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, নাজিরপুর ও নেছারাবাদে ভাসমান বেডে উৎপাদিত সবজির চারা খুলনা, যশোর, ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে এই পেশার সঙ্গে জড়িত কৃষকদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে, স্থানীয় কৃষকদের মতে, ভাসমান কৃষিকে আরো লাভজনক করতে কিছু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। হিমাগার ও পরিবহন সুব্যবস্থা সহজে চারা ও পচনশীল সবজি দূর-দূরান্তে পরিবহনের জন্য দ্রুত যোগাযোগ ও সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
সহজ শর্তে ঋণ প্রদান মৌসুমে কৃষকদের মূলধনের সংকট কাটাতে স্বল্প সুদে বা সুদমুক্ত কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত। প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ আধুনিক উপায়ে বীজ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষকদের আরো উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
পানির ওপর কৃষকদের এই অক্লান্ত পরিশ্রম এবং নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প প্রমাণ করে, পরিবেশ যতই প্রতিকূল হোক, মানুষের ইচ্ছাশক্তির কাছে তা নতি স্বীকার করতে বাধ্য। পিরোজপুরের মুগঝোর আর বলদিয়ার খালের পানিতে ভেসে থাকা প্রতিটি সবুজ চারা যেন একেকটি স্বপ্ন, যা প্রতিদিন নতুন করে বদলে দিচ্ছে দেশের গ্রামীণ অবস্থা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের প্রেক্ষিতে তার চেহারায় দেবী দুর্গার প্রতীকী রূপ তৈরি করে ফেসবুকে একটি ছবি প্রচার করা হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেন, "ছবিটি কেউ একজন তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে যাতে বিভাজন আর ঘৃনা উসকে দেওয়া যায়।" তবে, এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা চলতে থাকে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তিনি ফেসবুকে নিজের আইডিতে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ ও অন্যায়ের উদাহরণ ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরেন।
তিনি ২২টি প্রশ্ন রেখে লেখেন, "১. বলাৎকারে ধর্ম যায় না, ২. ঘুষ খেলে ধর্ম যায় না, ৩. শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতনে ধর্ম যায় না, ৪. মানুষ খুনে ধর্ম যায় না, ৫. নারীর ওপর সহিংসতায় ধর্ম যায় না, ৬. নারীকে কুৎসিত অপবাদ দিলে ধর্ম যায় না, ৭. অন্যের সম্পদ লুট করলে ধর্ম যায় না, ৮. প্রতারণা আর মানুষ ঠকালে ধর্ম যায় না, ৯. সারাবেলা মিথ্যার চাষে ধর্ম যায় না, ১০. নোংরামি করে ধরা পড়ে মুতা বিয়া বললে ধর্ম যায় না, ১১. মুনাফেকিকে জীবনের মূল মন্ত্র বানালে ধর্ম যায় না, ১২. ধর্মকে ব্যবসা বানালে ধর্ম যায় না, ১৩. বোনের হিস্যা ভাই মারলে ধর্ম যায় না, ১৪. বাবা মাকে বৃদ্ধ বয়সে ভাগাড়ে ফেললে ধর্ম যায় না, ১৫. অন্যের হক মেরে খেলে ধর্ম যায় না, ১৬. মিথ্যার বেসাতিতে ধর্ম যায় না, ১৭. ধর্মকে ঢাল বানিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হলে ধর্ম যায় না, ১৮. ওজন বা মাপে কম দিলে ধর্ম যায় না, ১৯. খাদ্যে ভেজাল এমন কি বিষ মেশালেও ধর্ম যায় না, ২০. ব্যভিচারে ধর্ম যায় না, ২১. দুর্বলের ওপর অত্যাচারে ধর্ম যায় না, ২২. দুষ্টের লালন পালনে ধর্ম মজবুত হয়।"
পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, "ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।"
একই সঙ্গে, নেটিজেনদের দ্বারা তৈরি দেবী দুর্গার ছবির বিষয়ে বিশেষ দ্রষ্টব্যে (বি.দ্র.) তিনি লেখেন, "মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কি আর করা।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. মোস্তাক আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে মুহা. আসাদুজ্জামান ফারুকী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সহসভাপতি পদে শামসুর রহমান লালটু ও এসএম জাকির হোসেন সমান ভোট পাওয়ায় দুজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনটি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ক্লাবের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাবের সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তালা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক। নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ছিলেন সাতক্ষীরা জজকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহিল হাবিব।
সভাপতি পদে মো. মোস্তাক আহমেদ ও এমএ আজিজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণ ও গণনার পর মোস্তাক আহমেদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে মুহা. আসাদুজ্জামান ফারুকী একক প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সহসভাপতি পদে শামসুর রহমান লালটু ও এসএম জাকির হোসেন সমান ভোট পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন উপস্থিত সবার সম্মতির ভিত্তিতে দুজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করে।
যুগ্ম সম্পাদক পদে মোজাফফর হোসেন পলাশ বিজয়ী হন। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ফারুক হোসেন রাজ ও গোলাম রসূল। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বিজয়ী হন। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তাজ উদ্দীন আহমেদ রিপন।
প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মিল্টন কবীর বিজয়ী হয়েছেন। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রেজওয়ান উল্লাহ। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে মোস্তফা হোসেন বাবলু এবং দপ্তর সম্পাদক পদে মোর্তজা হাসান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন এসএম ফারুক, আসাদুজ্জামান আসাদ ও আহসানুল্লাহ।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার ফলে ক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন নেতৃত্ব কলারোয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ক্লাবের সদস্যদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে সরকারপ্রধানের সফরে অংশগ্রহণ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে জাপান থেকে ফেরার নির্দেশ প্রদান করেছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী ইতোমধ্যে টোকিও থেকে ঢাকায় ফিরে এসেছেন। তিনি বর্তমানে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
সূত্রটি আরও জানায়, রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীর অনুপস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম টোকিওতে অবস্থান করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা তদারকি করবেন। অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিব নজরুল ইসলাম বুধবার (২২ অক্টোবর) টোকিও গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করবেন।
সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফরের পূর্বে রাষ্ট্রদূতকে নিজ দেশে ফেরানোর ঘটনা বিরল। কী কারণে তাকে ফেরানো হয়েছে তা জানাতে পারবো না। তবে তাকে ফিরতে বলা হয়েছে এবং তিনি ফিরেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রান্সজেন্ডারদের পরিচয়, সম্পর্ক ও জীবনসংগ্রামের এমন কিছু বাস্তবতা রয়েছে, যা নিয়ে সমাজে খুব কমই আলোচনা হয়। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমান’ এই না বলা গল্পগুলোকে পর্দায় তুলে ধরেছে। ছবিটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই) লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছবিটির পরিচালনা করেছেন রাহুল রয়ে। এতে আমান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ৩৪ বছর বয়সী কবির মান। এটি তার প্রথম চলচ্চিত্র।
ছবিতে আমান একজন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ। লিঙ্গনিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচারের কিছুদিন আগে তিনি জানতে পারেন, তিনি গর্ভবতী। একজন সিসজেন্ডার পুরুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছবিটি সমাজে প্রচলিত ধারণা ও ট্যাবুকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
কবির মান জানান, প্রথমে চরিত্রটি নিয়ে তার দ্বিধা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন এবং এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করলে সমাজের পুরনো ধারণাগুলো আবার উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। পরে তিনি অনুভব করেন, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আরো বেশি মানুষকে জানানো সম্ভব।
ছবির কিছু দৃশ্য তার জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল বলেও জানান কবির। তিনি নিজের জীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতার স্মৃতি কাজে লাগিয়ে চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলেছেন। তার কাছে ছবিটি ব্যক্তিগত যন্ত্রণা প্রকাশের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের কাছে নিজের পরিচয় ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে কবির নিজের জীবনের নানা বাধার কথাও উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, শিক্ষাগত সনদে নাম সংশোধন, শিক্ষকতার চাকরিতে আবেদন এবং পাসপোর্ট নবায়নের সময় লিঙ্গপরিচয়সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, ট্রান্সজেন্ডার মানুষের সংগ্রাম শুধু সামাজিক গ্রহণযোগ্যতায় সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়।
‘আমান’ চলচ্চিত্রটি সেই পরিচয়, সংগ্রাম ও না বলা অভিজ্ঞতাগুলো সামনে এনেছে। লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জয় ছবিটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জীবন নিয়ে আলোচনার সুযোগও তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ