১০:৪০ পি.এম
যান্ত্রিক জীবনের কর্মব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক প্রীতি, সম্প্রীতি এবং নাড়ির টানকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে কুমিল্লায় বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে সোন্দ্রম গ্রামের একটি বর্ণাঢ্য পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) কোটবাড়ির বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) মিলনায়তন প্রাণবন্ত আড্ডায় মুখরিত হয়ে ওঠে সোন্দ্রম গ্রামের নবীন ও প্রবীণদের। এই উৎসবমুখর আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘আলোকিত সোন্দ্রম’ নামের একটি বিশেষ স্মারক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
কুমিল্লাস্থ ‘সোন্দ্রম চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী ফোরাম’ এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, "একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে পারিবারিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও এ ধরনের আয়োজন মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে। এমপি হাজী জসিম উদ্দিনের বিশ্বাস, এই মিলনমেলা সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মাঝে নৈতিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। তিনি বলেন, "পারিবারিক মিলনমেলা শুধু আনন্দ-উৎসব কিংবা সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।" তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও আদর্শ থেকে নতুন প্রজন্ম শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে।
অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও মিলনমেলার সভাপতি এ কে এম লুৎফুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে জঙ্গি দিছিস না অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম মিজানুর রহমান বলেন, "পারিবারিক বন্ধনই মানুষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থল।" তিনি উল্লেখ করেন, জীবনের ব্যস্ততা ও দূরত্বের কারণে অনেক সময় আপনজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয় না। এই মিলনমেলা সবাইকে এক সুতোয় বাঁধার পাশাপাশি পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন ও নতুন প্রজন্মের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার দারুণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এই উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদের নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে একটি অদৃশ্য আত্মিক সেতু তৈরি করেছে। এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আত্মীয়তার বন্ধন আরও নিবিড় হবে এবং সমাজে সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। ফোরামের উদ্যোগে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘আলোকিত সোন্দ্রম’ এই উৎসবের মধুর স্মৃতিগুলোকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজক সংগঠন সোন্দ্রম চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী ফোরাম জানিয়েছে, গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারিবারিক বন্ধন জোরালো করা এবং নিজেদের ঐতিহ্য ও গৌরবময় স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল এই বর্ণিল মিলনমেলার মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন