১০:৪০ পি.এম
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে ওই বাড়ির মাটি তুলে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বাড়িঘর ভাঙচুরের পর মাটি তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়িটি ভাঙার কার্যক্রম শুরু হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত এই কাজ চলমান রয়েছে।
আজ দুপুরে বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে পূর্বে একটি বাড়ি ছিল, সেটি বোঝার কোনো উপায় নেই। বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাটির নিচে থাকা ফাউন্ডেশনের রড পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, ইট ও বালু গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ
বাড়িটির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সলিম প্রামাণিক জানান, "মোস্তফা যে অন্যায় করেছে, তার শাস্তি হিসেবে তার বাড়িটি আমরা রাখিনি। এখন তার বাড়ির মাটি নিয়ে আমরা রাস্তায় ফেলছি, বাড়ির প্রয়োজনে কাজে লাগাচ্ছি। আমরা এখানে পুকুর তৈরি করব।"
বাড়ি ভাঙার কাজে অংশ নেওয়া আতাইকুলার মাধপুর এলাকার রুবেল হাসান বলেন, "ধর্ষক ও খুনি মোস্তফার বাড়ির কোনো চিহ্ন রাখা হবে না। ইট তো দূরের কথা, একটা বালুও এখানে রাখা হবে না। এখানে পুকুর হয়ে যাবে। নিদর্শন হিসেবে রাখা হবে, ধর্ষকের পরিণতি কী হয় সেটি বোঝানোর জন্য।"
এদিকে, বাড়ি ভাঙার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় অভিযোগপত্র দাখিল না করায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিশুটির স্বজনেরা।
শিশুটির দাদা আব্দুস সোবহান বলেন, "এখনো চার্জশিট দেওয়া হয়নি। এতদিনে চার্জশিট দিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। প্রশাসনের গাফিলতি আছে বলে মনে হচ্ছে।" তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে সাংবাদিক এনাম সরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন রিজভী
শিশুটির আরেক স্বজন রমজান আলী বলেন, "দোতলা বাড়ি একে একে ভাঙা হচ্ছে, কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির কোনো চিহ্ন পর্যন্ত নেই। অথচ এখনো মামলার কাগজপত্রের কাজ শেষ হয়নি বলে শুনছি। এতদিনে তো বিচার শুরু হওয়ার কথা। সবার কাছে আমাদের একটাই দাবি—একটি শিশুর ধর্ষণের ঘটনা যেন টাকার কাছে বিক্রি হয়ে না যায়। পুলিশ প্রশাসনকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।"
এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি আব্দুস সালাম বলেন, "মামলার অগ্রগতি হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাসপাতালে চলে আসছে শুনেছি। দ্রুতই আমরা চার্জশিট দেব। শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় কোনো গাফিলতি করার সুযোগ নেই।"
প্রসঙ্গত, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের পর মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপির সারাদেশে র্যালির ঘোষণা ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে
পুলিশ আরো জানায়, ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খোঁজার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তবে ইয়াছিন ধর্ষণ বা হত্যার কথা অস্বীকার করে হত্যার পর সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আলামত ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসলেই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন