১০:৪৮ পি.এম
কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কানাডার সীমান্তরক্ষী সংস্থা কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) তদন্তের পর এই অভিযোগগুলো আনা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রাপ্তির জন্য জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডা সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিবিএসএ এই তথ্য জানায়।
অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান। প্রথম চারজন ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অন্যদিকে, পঞ্চম অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
সিবিএসএর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মারসিয়ে শহরের একটি ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের কিছু আলামত পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের আগস্টে অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিবিএসএ।
তদন্তের সময় দেখা যায়, ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য মোট ২৪৩টি অস্থায়ী আবাসিক ভিসার (টিআরভি) আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। আবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়, কানাডার নাগরিকদের আমন্ত্রণে তারা দেশটিতে বেড়াতে যাবেন। তবে তদন্তকারীদের দাবি, এসব আবেদনে ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল।
সিবিএসএর তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রাপ্তির সহায়তার নামে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে সিবিএসএর তদন্তকারীরা তল্লাশি চালান। এ সময় বিভিন্ন নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এসব আলামত বিশ্লেষণ করে ভিসা জালিয়াতির ঘটনায় পাঁচ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ
জালিয়াতির পরিসর ও জটিলতা বিবেচনায় তদন্তকারীরা সবচেয়ে গুরুতর প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন ৭৯টি ভিসার আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ, এক বা একাধিক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করার পরিকল্পনা করা। দ্বিতীয় অভিযোগ, ভিসার আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দিতে জেনেশুনে সহায়তা করা। তৃতীয় অভিযোগ, কানাডার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে অন্যদের জেনেশুনে উৎসাহিত করা বা সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগ দায়ের করা মানেই অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
কানাডার জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেন, কানাডার অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায্যতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়া কিংবা এর সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন: পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়
সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কাজ করার জন্য তিনি সিবিএসএর কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
সিবিএসএর কুইবেক অঞ্চলের আঞ্চলিক মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের বলেন, কানাডার অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী চক্রগুলোকে শনাক্ত করা এবং তাদের তৎপরতা বন্ধে কাজ করছে সংস্থাটি। এই তদন্ত সেই প্রচেষ্টার অংশ। অভিবাসন কর্মসূচির ওপর মানুষের আস্থা বজায় রাখতে সংস্থার অপরাধ তদন্তকারীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন