শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৪ পি.এম
কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের তানগানিকা হ্রদে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে, এখনও কিছু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, তানগানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোইয়ি বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের সঙ্গে কিছু পণ্যও ছিল। কঙ্গোর মাপেরা গ্রামের কাছে তানগানিকা হ্রদে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটি বৃহস্পতিবার তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে কঙ্গোর কালেমি শহরের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই এটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনাটি থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী অ্যানি মোয়োনি রেডিও ওকাপিকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানান। জাতিসংঘের সহযোগিতায় পরিচালিত এই সম্প্রচারমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাত ১টার দিকে যাত্রীদের ঘুম থেকে জাগানো হয়। তখন তারা দেখতে পান, নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেছে। এরপর কীভাবে নৌকাটি পুরোপুরি ডুবে যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন
কঙ্গোর বিভিন্ন অঞ্চলে নৌপথে যাতায়াত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার অনেক মানুষের জন্য নৌকায় যাতায়াতই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ এবং কম খরচের উপায়। তবে, দেশটিতে নৌযান চলাচলে বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান। এপির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঙ্গোতে একাধিক নৌকাডুবির ঘটনায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অনেক সময় নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয়। আবার কিছু নৌযানে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেটও থাকে না। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়। কঙ্গো বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ, যেখানে জনসংখ্যা ১০ কোটির বেশি। এত বড় জনসংখ্যার তুলনায় সড়কসহ অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থাও যথেষ্ট নয়। ফলে অনেক মানুষকে যাতায়াতের জন্য নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়।
আরো পড়ুন
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল
কিগোমা-কালেমি নৌপথে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট কঙ্গোর একটি নৌযান কিগোমা বন্দরে জ্বালানি নেওয়ার সময় আগুন ধরে যায়। পরে নৌকাটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, ওই ঘটনায় নৌকাটির ছয়জন কর্মী মারা যান এবং আরো একজন নিখোঁজ হন। এমভি প্যাসিফিক নামের ওই নৌকাটি কিগোমা ও কালেমির মধ্যে চলাচল করত এবং মূলত জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। এর আগে গত জুলাইয়ে মধ্য কঙ্গোতেও একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে, যেখানে রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন মারা যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার ভলগা অঞ্চলের উলিয়ানভস্কে একটি বড় ধরনের ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। এই তথ্য স্থানীয় গভর্নর আলেক্সেই রুস্কিখ নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভর্নর আলেক্সেই রুস্কিখ মেসেজিং অ্যাপ ম্যাক্সে একটি বার্তায় উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ড্রোন হামলায় আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন শিশু রয়েছে। পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের আঘাত মাঝারি গুরুতর এবং অন্যদের আঘাত তুলনামূলকভাবে সামান্য। শিশুটির অবস্থাও মাঝারি গুরুতর বলে তিনি জানান।
হামলার পর উলিয়ানভস্ক অঞ্চলের সকল চিকিৎসাসেবা উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও গভর্নর জানিয়েছেন।
রুশ কর্তৃপক্ষ হামলাটিকে শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে হামলার বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে আকস্মিক বিদায়ের পর ব্রাজিল নতুন করে স্বপ্ন বোনা শুরু করেছে। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি যে স্কোয়াড ঢেলে সাজানোর আভাস দিয়েছিলেন, তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে বিশ্বকাপের পর ঘোষিত প্রথম স্কোয়াডে। গড়ে ২৪.৪ বছর বয়সের ২৬ সদস্যের এই দলে ৮ জন নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নতুন চেহারার সেই ‘সেলেসাও’রা আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পরবর্তী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করছে।
বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর এটি ব্রাজিলের প্রথম আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনমেন্ট। নেইমারের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ফলে আনচেলোত্তির জন্য পরিবর্তন আনার পথ আরও সহজ হয়েছে। তিনি বিশ্বকাপের ১৫ জন ফুটবলারকে ছাড়াই দল সাজিয়েছেন। বাদ পড়েছেন আলিসন বেকার, লুকাস পাকেতা, মাতেউস কুনিয়া, কাসেমিরো ও ফাবিনিওদের মতো তারকা ফুটবলাররা।
ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ও গতিশীল ফুটবলের ধারা ফিরিয়ে আনতে দেশের ঘরোয়া ক্লাবগুলো থেকে ডাক পেয়েছেন ১০ জন ফুটবলার, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে অভিজ্ঞতার ভার বহন করতে রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির পরীক্ষিত তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, মার্কিনিওস ও ব্রুনো গিমারেসদের স্কোয়াডে রেখেছেন আনচেলোত্তি।
নতুনদের ওপর আস্থা রেখে মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস মন্তব্য করেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটছে। একটি শক্ত ভিত থাকা জরুরি, যাতে কোচ নতুনদের সুযোগ দিতে পারেন। আমরা অস্ট্রেলিয়াকে সমীহ করি এবং আশা করি একটি চমৎকার ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে শেষ বত্রিশ থেকে বিদায় নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্যও এটি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। চার দিন পর ব্রিসবেনে ব্রাজিলের বিপক্ষে তারা আরও একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। অধিনায়ক ম্যাট রায়ানসহ বিশ্বকাপের ১০ জন ফুটবলার নেই সকারু স্কোয়াডে, দলে যোগ হয়েছেন ৭ জন নতুন মুখ। ৯ বছর পর ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়া অস্ট্রেলিয়া এর আগের ৬ দেখায় মাত্র একবারই (২০০১ সালে ১-০ ব্যবধানে) জয় পেয়েছিল, যেখানে ৪টিতেই জয় ছিল ব্রাজিলের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একদিনে রেকর্ডসংখ্যক ৭৮১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ১০টি ছোট নৌকায় করে তারা চ্যানেল পাড়ি দেন।
এই ২৩ সেপ্টেম্বরের সংখ্যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ। এর আগে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে ১৫০ ও ১৫৪ জন তিনটি করে ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দেন। উল্লেখ্য, এর আগে টানা পাঁচ দিন কোনো ছোট নৌকায় পারাপারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন মোট ১৮ হাজার ৫৬৫ জন। একই সময়ে ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১৮৮ জন। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে আগমন ৪২ শতাংশ কমেছে। এই সংখ্যা সরকারি কার্যক্রমভিত্তিক প্রাথমিক তথ্য এবং পরবর্তীতে সংশোধিত হতে পারে।
২৩ সেপ্টেম্বরের আগমন গত বছরের ২০ ডিসেম্বরের পর একদিনে সর্বোচ্চ। ওই দিন ৮০৩ জন ১৩টি ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন।
তবে একদিনে সবচেয়ে বেশি ছোট নৌকায় আগমনের রেকর্ড এখনো ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের। ওই দিন ১ হাজার ৩০৫ জন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন।
ইংলিশ চ্যানেল বিশ্বের ব্যস্ততম ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি। আবহাওয়া উষ্ণ এবং সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকলে ছোট নৌকায় পারাপারের ঘটনা সাধারণত বেড়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির উপনেতা লুসি পাওয়েল বিবিসি রেডিওকে বলেন, ছোট নৌকায় পারাপার কমাতে সরকার অতিরিক্ত সম্পদ ও নতুন আইনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ফলে ছোট নৌকায় আসা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
পাওয়েল আরও বলেন, ছোট নৌকায় পারাপার পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো তাৎক্ষণিক উপায় নেই। তবে সরকার এ সংখ্যা কমাতে কাজ করছে এবং জনগণ দ্রুত ফল দেখতে চায়। তথ্যসূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ও তার স্ত্রী ফেং লি ইউয়ানের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় স্বাগত ভোজের আয়োজন করেন। এই ভোজের আয়োজন করা হয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে হোয়াইট হাউসে।
শি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ান যখন হোয়াইট হাউসে পৌঁছান, তখন ট্রাম্প ও মেলানিয়া তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুই রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের স্ত্রীরা একত্রে ছবি তোলেন এবং ভোজে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভোজ শুরু হওয়ার পর, শি চিন পিং ও ট্রাম্প পৃথক ভাষণ প্রদান করেন।
শি চিন পিং তার ভাষণে চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়নে আগ্রহী এবং সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি মধ্যশরৎ উৎসবের শুভকামনাও ব্যক্ত করেন।
শি চিন পিং বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সফলভাবে চীন সফর করেছেন। ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানরা পরস্পরের দেশে সফর করেছেন, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি আরও বলেন, এবারের সফরে অনেক নতুন ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, যা চীন-মার্কিন গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্কের ভিত্তি আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং সম্পর্কের নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
শি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, দুই শতাধিক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে এবং এর পরপরই চীনের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক পণ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক পরিপূরকতার মাধ্যমে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান শুরু হয় তখন।
তিনি বলেন, ৮০ বছরেরও বেশি আগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাপানি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। রক্ত ও অগ্নিপরীক্ষায় গড়ে ওঠা এই বন্ধুত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে যাবে। ৫০ বছরেরও বেশি আগে দীর্ঘদিনের বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছিল টেবিল টেনিস কূটনীতি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিকরা ‘ছোট একটি বল বড় একটি বলকে নাড়ায়’-এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে চীন-মার্কিন সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মহান প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। ২০ বছরেরও বেশি আগে রোনাল্ড সাকোলস্কি নামের এক মার্কিন নাগরিক চীনের মরুকরণ নিয়ন্ত্রণকর্মী ইন ইয়ু চেনকে বৃক্ষরোপণে সহায়তা করেছিলেন। তাদের গল্প বহু চীনা মানুষকে মুগ্ধ করেছিল এবং এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে।
শি চিন পিং বলেন, চীন-মার্কিন মানবিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও হৃদয়ের যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক। একইসঙ্গে এটি চীন-মার্কিন বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য জনসমর্থনের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।
শি চিন পিং উল্লেখ করেন, আজ চীন-মার্কিন সম্পর্ক আবারও একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার মহান করার প্রস্তাব দিয়েছেন, আর চীনা জাতির মহান পুনরুত্থান বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। এই দুই লক্ষ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।
তিনি বলেন, উভয়পক্ষের উচিত বড় দেশের দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বড় দেশগুলোর মধ্যে সঠিকভাবে সহাবস্থানের নতুন পথ অন্বেষণ করা। ইতিহাসের স্রোত বয়ে চলেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্ভাবনাও বিস্তীর্ণ। উভয়পক্ষকে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং চীন-মার্কিন ‘বন্ধুত্বের সুন্দর ফুলের’ যত্ন নিয়ে যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা করতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গত মে মাসে চীন সফরের সময় চীনা জনগণের উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তার মনে গভীর ও সুন্দর ছাপ ফেলেছিল। তিনি বলেন, আজ রাতে দুই দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে হাজার হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা মৈত্রী উদযাপন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন-উভয় দেশেরই সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের ইতিহাস রয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও তাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিন ধরে অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও লালন করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বয়ে আনতে ইচ্ছুক।
ভোজসভাটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ভোজ চলাকালে মার্কিন শিল্পীরা চমৎকার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ