০৫:০২ এম
সরকার নির্বাচনের সময় ফ্যামেলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এবং নির্বাচনে পাস করার পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ধাপে দেশের ১৯টি উপজেলার ১৯টি ওয়ার্ডে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসবের মধ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা রয়েছে।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ
কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নে ৫০৯টি পরিবার এবং রোহিতপুর ইউনিয়নে ৭৭০টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামেলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে শেষ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই।
যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তবে আগামী সপ্তাহেই তুলে দেওয়া হবে ফ্যামেলি কার্ডের প্রথম মাসের ২৫০০ টাকা।
সরেজমিন কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ও রোহিতপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এবং রোহিতপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তথ্য সংগ্রহকারীরা জানিয়েছেন, অপেক্ষাকৃত দরিদ্র প্রবণ এলাকা ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তেঘরিয়া ও রোহিতপুরের ২৭০০ এর অধিক পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে তেঘরিয়ায় ৮নং ওয়ার্ডের ৫০৯টি পরিবার এবং রোহিতপুরে ৫নং ওয়ার্ডের ৭৭০টি পরিবারকে ফ্যামেলি কার্ডের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
এই পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ তথ্য গোপন করেছে কি না, অথবা কোনো স্বচ্ছল পরিবার তালিকাভুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করতে বর্তমানে চলছে শেষ পর্যায়ের চূড়ান্ত ভেরিফিকেশন।
আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে
উপজেলা সমাজ সেবা সূত্রে জানা যায়, ফ্যামেলি কার্ডের নীতিমালা অনুসারে প্রধান নারীদের কাছ থেকে নাম, ঠিকানা, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও আর্থিক অবস্থা সংক্রান্ত বিবরণ নেওয়া হচ্ছে। আরও জানা গেছে, তারা সরকারের অন্যান্য সহযোগিতা পান কি না, এ সম্পর্কেও তাদের দিতে হচ্ছে মোট ৪৭টি প্রশ্নের উত্তর। সরকার নির্ধারিত প্রশ্নের ভিত্তিতে ১ হাজার নম্বরের মধ্যে যাদের নম্বর ৭৭৭ থেকে ৮১৪ এর মধ্যে থাকবে, তারা অতি দরিদ্র এবং দরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত হবে।
কেবল তারাই ফ্যামেলি কার্ডের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তথ্য সংগ্রহের পরে প্রাপ্ত তথ্য সঠিক কি না, অথবা কেউ কোনো তথ্য লুকিয়েছে কি না, সেগুলো পুনরায় রি-ভেরিফিকেশন করছে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার।
এদিকে, নির্বাচনের আগে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত ফ্যামেলি কার্ড দেওয়ায় গ্রামবাসীরা খুশি।
তেঘরিয়ার ঋষি পাড়া গ্রামের লতা রানী বলেছেন, "আমি বিধবা ছোট দুইটা ছেলে নিয়ে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। অন্যের বাসায় ঝি-এর কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো মতে খেতে পারি। ঘরের চাল ফুটো হয়ে জল পড়ছে। কিন্তু টাকার অভাবে সেটি মেরামত করতে পারছিনা। ফ্যামেলি কার্ডের এই টাকাটা পেলে আমার জন্য একটু সহজ হবে। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।"
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
কার্ড প্রাপ্ত জোছরা নামের আরেকজন জানিয়েছে, "প্রথমে বিশ্বাস করিনি যে ফ্যামেলি কার্ড পেয়েছি। সরকার তো কত কথা বলে, কিন্তু বাস্তবায়ন করে কই। এই সরকার বাস্তবায়ন করেছে, তিনি গরিবের বন্ধু। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।"
কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান জানিয়েছেন, যাদের সত্যিকার অর্থেই ফ্যামেলি কার্ডের প্রয়োজন তাদের হাতে ফ্যামেলি কার্ড তুলে দিতে সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ২৭০০ এর বেশি পরিবারের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ১২৭৯টি পরিবারকে শনাক্ত করেছি। যাদের নাম বাদ গেছে তাদের জন্য পরবর্তীতে সুযোগ থাকবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে কেরানীগঞ্জের ফ্যামেলি কার্ড প্রাপ্তরা ২৫০০ টাকা করে সুবিধা পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন